সাইনবোর্ড ও ব্যানার ব্যবসার আইডিয়া!

সারা বছরই ব্যানার ও সাইনবোর্ডের চাহিদা থাকে। নির্বাচন সামনে রেখে এখন তো ব্যানার-সাইনবোর্ডের ব্যবসা জমজমাট। শুরু করতে পারেন ব্যানার, সাইনবোর্ডের ব্যবসা। তবে তার আগে ব্যানার লেখায় হাত পাকিয়ে নেওয়া চাই। বিভিন্ন দোকানে কাজ করে এই বিদ্যা রপ্ত করতে পারেন। লোকসমাগম বেশি হয় এমন একটি স্থান বেছে নিতে হবে।

পুরানা পল্টনের নিয়ন আর্টের স্বত্বাধিকারী আজিজ হোসেন জানান, কাঁটাবন, নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত, বকশীবাজার, যাত্রাবাড়ী, পল্টনসহ ঢাকার প্রায় সব এলাকায় আছে সাইনবোর্ড-ব্যানারের দোকান। তবে ব্যানারের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার পল্টন ও নীলক্ষেত। এসব বাজার ঘুরে দেখলে ও দোকানিদের সঙ্গে কথা বললে এ ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। ব্যানারে সাধারণত কাপড় ব্যবহার করা হয়। সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ডে ব্যবহার করা হয় অ্যালুমিনিয়াম, টিন, স্টিল বা কাঠ।

এ ব্যবসার জন্য লাগে হাতুড়ি, স্কেল, তুলি ও রং মেশানোর পাত্র প্রভৃতি স্থায়ী উপকরণ। হাতুড়ি লাগবে ১টি, দাম বড়জোর ৮০ থেকে ১০০ টাকা। স্কেল ১টি, দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ২-৩টা তুলি, দাম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। রং মেশানোর পাত্র ২টা, দাম পড়বে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। একটা ব্যানারের জন্য দরকার হবে বেশ কিছু কাঁচামাল। লাগতে পারে ৪ গজ কাপড়, দাম পড়বে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা।

রং কেনার পেছনে খরচ হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ১টি চক ৫ টাকা, ১টি পেনসিল ৫ থেকে ৮ টাকা। সাইনবোর্ডের জন্য বাড়তি উপকরণ হিসেবে কাপড়ের বদলে টিন বা ক্রেতার চাহিদামতো উপকরণ কিনতে হবে। ঢাকার নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও তৈজসপত্রের দোকানে এসব পাওয়া যাবে। সাইনবোর্ড-ব্যানারের ব্যবসার জন্য খুব বেশি পুঁজির দরকার হয় না। ৩০০ টাকার স্থায়ী উপকরণ কিনলেই চলে। প্রতিটি ব্যানার তৈরিতে খরচ হবে ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা।

সে হিসেবে কাজ বুঝে দেড়-দুই হাজার টাকার কাঁচামাল কিনতে হবে। এ ব্যবসার জন্য প্রয়োজন হবে স্থায়ী একটি দোকান। ছোট দোকান হলেই চলবে। দোকান ভাড়া ও অগ্রিম বাবদ লাগতে পারে প্রায় এক লাখ টাকা। ডিজিটাল ব্যানারের সুবিধা রাখতে চাইলে খরচ পড়বে অনেক বেশি। কম্পিউটার ও ছাপার মেশিন কিনতে লাগবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়েও মূলধন জোগাড় করতে পারেন। সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী, জনতা, রূপালী, অগ্রণী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, প্রশিকা সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে। ক্রেতার চাহিদা জেনে সঠিক মাপ, রং ও ধরন অনুযায়ী কাপড় কিনে ফেলুন। ব্যানারে যে বিষয়টি লেখা হবে তা দেখে নিন।

কাপড়ের ওপর স্কেলের সাহায্যে চক দিয়ে দাগ কাটুন। এটা করা হয় যাতে সব লেখা একই মাপের হয়। এরপর দাগের মধ্যে নির্দিষ্ট অক্ষরগুলো লিখুন। লেখাটা প্রথমে চক দিয়ে লিখে নেওয়া ভালো। ভুল হলে এতে সংশোধন করা যাবে। এবার লেখার ওপর রং-তুলি দিয়ে রং করুন। লেখা শেষ হলে রং শুকানোর জন্য ব্যানারটা কিছুক্ষণ বাতাসে রাখতে হবে।

ক্রেতা যদি ব্যানারটা ফ্রেমে আটকানো অবস্থায় চান, তাহলে ব্যানারের মাপ অনুযায়ী কাঠ কেটে ফ্রেম তৈরি করতে হবে। ব্যানারটিকে ফ্রেমের ওপর রেখে চারপাশে পেরেক ও হাতুড়ির মাধ্যমে আটকিয়ে দিতে হবে।হাতে লেখা ব্যানারের পাশাপাশি এখন ডিজিটাল ব্যানার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বেশির ভাগ কাজই কম্পিউটারে করা হয় বলে এর জন্য খুব ঝামেলা পোহাতে হয় না।

সাইনবোর্ড লেখা অনেকটাই ব্যানারের মতোই। পার্থক্য সাইনবোর্ডে কাপড়ের পরিবর্তে টিন, স্টিল বা কাঠ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় স্টিল বা টিন রঙিন করে নিয়ে তার ওপর লেখা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথমে মাপমতো টিন বা স্টিল নিয়ে সেটাকে ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী রঙিন করে নিতে হবে। রং করা শেষ হলে এটি ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।

এরপর ব্যানার যে নিয়মে লেখা হয়, সেভাবে টিন, স্টিল বা কাঠে লেখার কাজ করতে হবে। একটি ব্যানার লিখতে কাঁচামাল খরচ পড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। মজুরি বাবদ খরচ হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা। সর্বসাকল্যে ব্যানারপ্রতি খরচ পড়বে ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা। ব্যানারটি বিক্রি হবে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। ব্যানারপ্রতি ১১০ টাকারও বেশি লাভ হয়।

একটি সাইনবোর্ডের কাঁচামাল বাবদ খরচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। মজুরি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা। সাইনবোর্ডটি বিক্রি হবে ৫০০ টাকায়। লাভ ১০০ টাকারও বেশি থাকবে। বিক্রিবাট্টা ভালো হলে সব খরচ বাদে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ করা কঠিন কোনো বিষয় নয়।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ ডটকম।

Check for details
SHARE