রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কিনতে চাইলে!

বাংলাদেশের মধ্যবিত্তরাও এখন গাড়ি কিনছে। এ ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে জাপানি ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। এ ধরনের গাড়ি কেনার আগে এ সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। কোন গাড়িকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি বলে? এমন প্রশ্ন অনেকের। ধরুন, জাপানের গাড়ি ব্যবহারকারীরা কোনো কারণে তাঁদের গাড়ি বিক্রি করে দিলেন। আর সেটা কিনল জাপানেরই কোনো প্রতিষ্ঠান।

তারা সেই কেনা গাড়িগুলো প্রয়োজনীয় সব ধরনের সারাই করে আবার নতুন গাড়ির মতো করে ফেলে। এরপর সেই গাড়িগুলো পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট কোনো অটোমোবাইল কম্পানির কাছে। গাড়িগুলো টয়োটার হলে, টয়োটা সেই পুরনো গাড়িগুলো পরীক্ষা করে ‘ঠিকঠাক আছে’- এমন একটা সনদ দেয়। এ সনদ পাওয়া গাড়িকেই ‘রিকন্ডিশন্ড’ গাড়ি বলে। এ শ্রেণীর গাড়িগুলো তখন অন্য কোনো দেশে রপ্তানির জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি পায়। বাংলাদেশে বেশির ভাগ রিকন্ডিশন্ড গাড়িই আসে জাপান থেকে।

এর মধ্যে টয়োটা, হোন্ডা, মিৎসুবিশি উল্লেখযোগ্য। অন্যান্য দেশ থেকেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি বাংলাদেশে আসে। ইদানীং আমদানিকারকরা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইউরোপ ও আমেরিকা থেকেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আনছেন। এগুলোর কেতাবি নাম অবশ্য একটু ভিন্ন। এগুলোকে বলা হচ্ছে ‘প্রি-ওউনড কার’। ঢাকার কাকরাইল, পল্টন, ধানমণ্ডি, বারিধারা আর চট্টগ্রামের মুরাদপুর, আগ্রাবাদে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির প্রধান বাজার। অনেকে একটু কম দামে পাওয়ার জন্য সমুদ্রবন্দরে বিভিন্ন কারণে নিলামে তোলা রিকন্ডিশন্ড গাড়িও কেনেন।

কেনার সময় খেয়াল করুন: বেশির ভাগ ক্রেতাই গাড়ির বাইরের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। তবে মনে রাখতে হবে, গাড়ির ভেতরের যন্ত্রপাতির মানই আসল কথা। শোরুম বা সমুদ্রবন্দর যেখান থেকেই হোক, গাড়িটি কেনার সময় কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে গাড়ি সারাই মিস্ত্রির মতো অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে রাখা ভালো। গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর এবং নিবন্ধন নম্বর মিলিয়ে নিন।

গাড়িটি উৎপাদনের দিনক্ষণও জেনে নেওয়া ভালো। কার লোন নেওয়া ও নিবন্ধনের জন্য বিষয়টি জরুরি। গাড়িটি কত সিসির এবং আসল কালার ঠিক আছে কি না। লুব অয়েল, স্পার্ক প্লাগ, এয়ার ফিল্টার, লুব অয়েল ফিল্টার, এসি ফিল্টার যাচাই করে নিতে হবে।গাড়ির চাকার অ্যালাইনমেন্ট যথাযথ না থাকলে হুইলগুলো স্টিয়ারিংয়ের নির্দেশ মেনে চলবে না, এমনকি নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাও করবে না। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চাকার অ্যালাইনমেন্ট যথাযথ আছে কি না তা বোঝার জন্য গাড়ির টায়ার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। এ ক্ষেত্রে চাকার ব্যালান্সিং এবং সাসপেনশন চেক করে নিতে হবে। এটিএফের (অটোমেটিক ট্রান্সমিশন অয়েল) তাপসহন ক্ষমতা ও ভিসকোসিটি যাচাই করে নিন। ইঞ্জিন চেক বাতি সব সময় দেখায়, নাকি মাঝেমধ্যে দেখায়, বিষয়টি পরখ করে নেওয়া দরকার। ভিভিটিআই ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ট্যাপেড নয়েজ আছে কি না সেটাও দেখুন।

ইঞ্জিন কম্প্রেশন, ইগনিশন কয়েল, হাই টেনশন লিড, অয়েল ডিস্ট্রিবিউশন চেক করে নিতে পারেন। লুকিং গ্লাস, ডোর গ্লাস, সাউন্ড সিস্টেম, সিকিউরিটি অ্যালার্ম কন্ট্রোল বাটন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় কি না চেক করুন। যদি ব্যাক ক্যামেরা থাকে, তাহলে সেটি অ্যাকুরেট মেজারমেন্ট দিচ্ছে কি না সেটাও চেক করে নিন। মনিটরটিতে নেভিগেশন সিস্টেম আছে কি না।

আর যদি গাড়ির মনিটর ম্যাপ ডিস্কের হয়, তবে একটি ম্যাপ ডিস্ক কিনে রাখা উচিত। দুর্ঘটনায় যাত্রীর মূল নিরাপত্তা দেয় এয়ারব্যাগ। এ এয়ারব্যাগ সেফটি বেল্টের সম্পূরক হিসেবে কাজ করে। তাই এয়ারব্যাগ ঠিক আছে কি না দেখে নিন।থার্মোস্ট্যাট গাড়ির কুলিং সিস্টেমের একটি উল্লেখযোগ্য যন্ত্র। শীতপ্রধান দেশে এটি অত্যাবশ্যকীয়।

আমাদের দেশে অনেকে থার্মোস্ট্যাট খুলে রাখে। এটি ঠিক নয়। শীতকালে থার্মোস্ট্যাট আমাদের দেশেও কাজে আসে। তাই গাড়িতে থার্মোস্ট্যাট আছে কি না দেখে নিন। গাড়ি শুধু শৌখিনতা নয়, এটি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে নিরাপত্তাও দেয়। তাই গাড়িতে সব সময় নিরাপদে থাকার জন্য দেখেশুনে একটি নিখুঁত গাড়ি কেনাই উচিত।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ ডটকম।

Check for details
SHARE