বাজারে কোনও ধরনের এনার্জি ড্রিংক থাকবে না!

বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বলেছে বাংলাদেশে বাজারে কোনও ধরনের এনার্জি ড্রিংক থাকবে না। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন- বিএসটিআইও বলেছে পণ্যটিকে তারা আর স্বীকৃতি দেবে না। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটির এমন উদ্যোগকে সাহসী বলছেন বাংলাদেশে বেভারেজ পণ্যের ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে কেন এই পণ্য নিষিদ্ধ হচ্ছে? বাংলাদেশ বেভারেজ মেনুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন- বিবিএমএর কর্মকর্তারা এর কারণ হিসেবে বলছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব এনার্জি ড্রিংকে ক্যাফেইনের মাত্রা অনেক বেশি, যেটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং সেটা খাওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতারা এ তথ্য জানান। তারা সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানান। বেভারেজ পণ্যের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিএফএসএ ও বিএসটিআইএর এমন সাহসী উদ্যোগের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করছি।

সেইসঙ্গে স্পষ্ট করতে চাই বিবিএমএর কোনও বেভারেজ প্রতিষ্ঠান এর মান ব্যতীত কোনও পানীয় উৎপাদন বা বাজারজাত করছে না। জানা গেছে, যেসব কোম্পানি বাংলাদেশে এই ড্রিংকস তৈরি করে তারা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর কাছ কার্বোনেটেড বেভারেজের লাইসেন্স নিয়ে এই এনার্জি ড্রিংক তৈরি করে।

বিএফএসএ অতিরিক্ত সচিব মাহাবুব কবির জানান, এটা বাজারজাত, উৎপাদন, প্রচার ও বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না। এই বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এখানে ক্যাফেইনের মাত্রা ১৪৫ এমজি থাকার কথা থাকলেও সেখানে ৩২০ এমজি প্রতি কেজিতে পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় বিএসটিআই ও বিএফএসএ বাংলাদেশে এনার্জি ড্রিংকের ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা শিগগির বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশে বেভারেজ পণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিবিএমএর সভাপতি হারুন অর রশীদ বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে একমাত্র সরকারি সংস্থা বিএসটিআই। প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রদান করে থাকে।

দেশের মান নিয়ন্ত্রণ এ সংস্থার প্রত্যেকের আস্থা রয়েছে। এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধে বিএসটিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক। যদিও এটা প্রতিষ্ঠানটির একক কোনও সিদ্ধান্ত নয়, এ বিষয়ে জনগণ, ইন্ডাস্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্র থেকে শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিবিএমএ সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোমল পানীয় নিয়ে জনমনে কিছু ভুল ধারণা আছে। অনেকেই ভুল করে কার্বনেটেড সফট ড্রিংকসকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে জানাতে চাই বাংলাদেশের বাজারে বিবিএমএ সদস্য কোম্পানিগুলো যে কার্বনেটেড পণ্য তৈরি করছে তা নিরাপদ।

‘আমদানি করা এনার্জি ড্রিংকসকে সফট ড্রিংকসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। সেটা মোটেও কাম্য নয়। বরং যারা এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে বিবিএমএর সাধারণ সম্পাদক শেখ শামীম উদ্দীন বলেন, জনমানুষের মাঝে সঠিক তথ্য পৌঁছাচ্ছে না। যে কারণে সফট ড্রিংকসের বিশাল বাজারটি হুমকির মুখে পড়তে পারে। চাকরি হারাতে পারে অনেকে। তাই এ বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। তথ্যসূত্র: আরটিভি অনলাইন।

Check for details
SHARE