ফ্ল্যাট ক্রয়ে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ! কীভাবে পাবেন জেনে নিন বিস্তারিত!

ফ্ল্যাট কেনার সময় সবার হাতে বড় অংকের টাকা থাকে না। দরকার হয় ঋণের। কিন্তু সঠিক প্রক্রিয়া না জানার কারনে সেটিও অনেক সময় সংগ্রহ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়। জেনে নিন ফ্ল্যাট কিনতে ঋণ পাওয়ার নিয়মা কানুন।

ফ্ল্যাট ঋণের নীতিমালা: ১.০ ঋণের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা: বাংলাদেশের প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ্য ও নিজস্ব আয় আছে এমন যে কোন নাগরিক আবেদন করতে পারেন। যার নিজস্ব আয় নাই, তিনি নিজস্ব আয় আছে এমন তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মাতা-পিতা/ স্বামী-সএী/ ছেলে/বিবাহিত/ অবিবাহিত মেয়ে এর যে কোন একজনকে জামিনদার নিয়োগ করতে পারেন।

আবেদনকারী বিদেশে কর্মরত হলে তার আবেদন পত্র এবং আয় সংক্রামত কাগজপত্র সংশি­ষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাস/ হাইকমিশনের মাধ্যমে সত্যায়িত করে এবং ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মমএনালয় হতে প্রমানিকরণ করে দাখিল করতে হবে।

২.০ এপার্টমেন্ট ঋণের আওতাধীন এলাকা, সর্বোচ্চ সিলিং, নির্মাণ হার ও আবেদনকারীর প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণঃ ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর অতি উন্নত এলাকা: গুলশান,বনানী, ধানমন্ডি, বারিধারা, উওরা, লালমাটিয়া আ/এ, ডি.ও.এইচ.এস( মহাখালী ,বারিধারা, বনানী) এবং চট্রগ্রামের কুলশী আ/এ, আগ্রাবাদ ও চাঁদগাঁও সি.ডি.এ আ/এ (উপরোক্ত এলাকা সমুহের শুধুমাত্র সরকারী প­টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। ১২৫০বঃফুঃ ৪০.০০ লক্ষ টাকা কর্পোরেশন কর্তৃক প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয়ের ২০% ৪০০০/- টাকা ফ্ল্যাটের আবৃতাংশ ১৪২৯ বর্গফুটের বেশী হলে বর্ধিত অংশের সমুদয় ব্যয় আবেদনকারীকে বহন করতে হবে।

২। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য উন্নত এলাকা এবং দেশের সকল বিভাগীয়, জেলা সদর, টংগী ও সাভার পৌরসভা এলাকা। ১৪৩০ বঃ ফুঃ ৪০.০০ লক্ষ টাকা কর্পোরেশন কর্তৃক প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয়ের ২০% ৩৫০০/- টাকা ফ্ল্যাটের আবৃতাংশ ১৬৬৭ বর্গফুটের বেশী হলে বর্ধিত অংশের সমুদয় ব্যয় আবেদনকারীকে বহন করতে হবে।

৩.০ সাময়িক আবেদন পত্রের সংগে দাখিলতব্য কাগজপত্রের তালিকাঃ জমির স্বত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্রঃ লীজপ্রাপ্ত প্লটের ক্ষেত্রে: ১। প্রস্তাবিত এপার্টমেন্ট ভবনের জমির মালিকানা দলিল (লীজ দলিল বা লীজ পরবর্তী মালিকানা দলিল এর সত্যায়িত ফটোকপি) এছাড়াও চেইন অব ডকুমেন্টস হিসাবে মুল বরাদ্দপত্র ও দখল হস্তান্তর পত্র (যদি থাকে) ২। লীজ দাতার অফিসে নামজারীর ডকুমেন্টস ৩। লীজদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে কর্পোরেশনের নিকট বন্ধক রাখার অনুমতি পত্র / অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ৪। ফ্ল্যাট ক্রয়ের বায়নাচুক্তির কপি এবং বরাদ্দপত্র (যদি থাকে)।

ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে: ১। প্রস্তাবিত এপার্টমেন্ট ভবনের জমির মালিকানা দলিল (মুল মালিকানা দলিলের সত্যায়িত কপি এবং এস.এ রেকর্ডীয় মালিক থেকে ধারাবাহিকতা প্রমাণের চেইন অব ডকুমেন্টস এর সত্যায়িত কপি। ২। সি.এস , এস.এ ও আর.এস খতিয়ানের সত্যায়িত ফটোকপি কপি, নামজারী খতিয়ানসহ ডি.সি,আর ও হালনাগাদ খাজনা সত্যায়িত রশিদ এর ফটোকপি। ৩। ১২ (বার) বছরের এন.ই.সি (সংশ্লি­ষ্ট সাব- রেজিস্টার কতৃ­র্ক স্বাক্ষরিত)। ৪। ফ্ল্যাট ক্রয়ের বায়নাচুক্তির কপি এবং বরাদ্দপত্র (যদি থাকে)।

৩.১ প্রকৌশলগত কাগজপত্রাদিঃ ১. এপার্টমেন্ট ভবনের অনুমোদিত নকসা ও অনুমোদন পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। ২. সংশি­ষ্ট প্ল­টের সয়েলটেষ্ট রিপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি। ৩. (ক ) সংশ্লি­­ষ্ট এপার্টমেন্ট ভবনের কাঠামো নকসা (ষ্ট্রাকচারাল ডিজাইন)। কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা সমঙন্ন গ্রাজুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার/ প্রকৌশল পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত ছক ইমারতের ভারবহন ক্ষমতা সংক্রামত সার্টিফিকেট (সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রকৌশলীকে অবশ্যই ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর সদস্য হতে হবে)।

(খ) ৭ ও তদুর্ধ তলা ভবনের বেলায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গ্রাজুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার/ প্রকৌশল পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত ছক ইমারতের ভারবহন সংক্রান্ত সার্টিফিকেট ( সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রকৌশলীকে অবশ্যই ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর সদস্য হতে হবে)। ৪. ডিজাইন মোতাবেক কাজ করার ব্যাপারে ডেভেলপারের আন্ডারটেকিং প্রদান করতে হবে। ৩. ২ (গ) অন্যান্য কাগজপত্রঃ ১. ডেভেলপার কোম্পানীর সংঘ স্বারক , সংঘবিধি ও নিবন্ধন সনদ এর সত্যায়িত কপি।

৪.০ এপার্টমেন্ট ঋণ আবেদন প্রসেসিং পদ্ধতিঃ ৪.১ যে কোন এপার্টমেন্ট ভবনের নির্মাণাধীন/নতুন নির্মিত ফ্ল্যাটের ইচ্ছুক ক্রেতাকে ফ্ল্যাট ঋণ প্রদান করা যাবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজনের বাসস্থানের সংস্থান করার উদ্দেশ্যে যাদের কোন বাড়ী বা ফ্ল্যাট নাই তাদের ফ্ল্যাট ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

৪.২ ফ্ল্যাট ঋণের জন্য প্রথমে এপার্টমেন্ট/ফ্ল্যাট ঋণের সাময়িক আবেদনপত্র ( নির্ধারিত ফর্মে ) সরাসরি সংশ্লিষ্ট জোনাল/রিজিওনাল অফিসে দাখিল করতে হবে। জোনাল/রিজিওনাল অফিস কর্তৃক কাগজপত্র পরীক্ষা করে এবং প্রস্তাবিত এপার্টমেন্ট পরিদর্শন পূর্বক ফরমাল দরখাস্তের অনুমোদন দেয়া হবে। তৎপর আবেদনকারীগণ ফরমাল ( নির্ধারিত ফর্মে ) ঋণ আবেদনপত্র দাখিল করতে পারবেন। ফরমাল আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে স্বত্ব রিপোর্ট ও প্রকৌশলগত রিপোর্ট সমেতাষজনক হলে ঋণ মঞ্জুরী প্রদান করা যাবে।

৪.৩ ফ্ল্যাটের প্রথম ক্রেতাকেই ঋণ প্রদান করা হবে এবং কোন অবস্থাতেই প্রথম ক্রেতা হতে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি ফ্ল্যাট ক্রয় করলে তাকে (দ্বিতীয় ক্রেতাকে ) ঋণ প্রদান করা হবে না।

৫.০ ফরমাল আবেদনপত্রের সংগে দাখিলতব্য দলিল ও কাগজপত্রের তালিকাঃ ৫.১আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি ও সাদা কাগজে ৩টি সত্যায়িত নমূনা স্বাক্ষর (১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত) দাখিল করতে হবে । ৫.২ দরখাস্ত ফি জমা প্রদানের রশিদ (প্রতি হাজারে ৫/-(পাঁচ) টাকা হারে ) দিতে হবে। ফরমাল ঋণ আবেদন পত্রের মুল্য ১০০০/- ( এক হাজার ) টাকা।

৫.৩ ঋণ আবেদনকারীর আয়ের প্রমানপত্র। চাকুরীর ক্ষেত্রে ঋণের আবেদন ফরমের নির্দিষ্ট পাতায় বেতন সনদ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও আয় সম্পর্কে হলফনামা। আয়কর পরিশোধযোগ্য আয় হলে টিন (TIN) নম্বরসহ আয়কর প্রত্যায়ন পত্র এবং লিয়েন সংক্রামত কাগজপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) দাখিল করতে হবে।

৫.৪ ঋণ আবেদনকারীর নিজস্ব আয় না থাকলে পিতা/ মাতা/ স্বামী/সএী/ছেলে/ বিবাহিত / অবিবাহিতা উপার্জনশীল মেয়েকে জামিনদার করতে হবে। তবে এরূপ ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের নির্ধারিত জামিনদারের প্রশ্নপত্র ফরম ও জামিননামা দাখিল করতে হবে এবং জামিনদারের আয়ের স্বপক্ষে দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে হবে।

৫.৫ প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি বা ভবনটি যদি অন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট দায়বদ্ধ থাকে তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে আনুপাতিক জমিসহ প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি অবমুক্ত করার বিষয়ে ব্যাংকের লিখিত সম্মতিপত্র দাখিল করতে হবে।

৬.০ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণঃ সম্ভাব্য বাড়ী ভাড়ার পাশাপাশি আবেদনকারীর মাসিক আয়, বয়স, অন্যান্য আয়, অবসরভাতা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে ফ্ল্যাট ঋণের পরিশোধ মেয়াদ জোনাল/ রিজিওনাল ম্যানেজার কর্তৃক ঋণ গ্রহীতার সহিত আলোচনাক্রমে তাঁর সম্মতিতে ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যমত নির্ধারণ করা হবে (সকলের বেলায় ২০ বছর হবে না)।

৭.০ঋণ বিতরণ পদ্ধতিঃ ৭.১ ঋণের ১ম চেক গ্রহণের পুর্বে কর্পোরেশনের নির্ধারিত হারে ( প্রতি হাজারে ৫/- (পাঁচ) টাকা ) পরিদর্শন ফি সংশ্লি­­ষ্ট জোনাল অফিসে/নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিয়ে মুল রশিদ ১ম চেকের আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে। ৭.২ Completely Constructed Flat ক্রয়ের জন্য ঋণ বিতরণকালে/সময়ে বন্ধকী দলিল রেজিষ্ট্রি করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটি চেকের মাধ্যমে সমুদয় ঋণের টাকা বিতরণ করা যাবে।

৭.৩ ডেভেলপার, ফ্ল্যাট ক্রেতা এবং কর্পোরেশনের মধ্যে ত্রি-পক্ষীয় রেজিস্টার্ড চুক্তি করার পর মঞ্জুরীকৃত টাকা প্রদান করা যাবে। তবে সংশ্নি­ষ্ট ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজে গ্রহীতার ইকুয়িটি (Equity) বাবদ ডেভেলপারকে পরিশোধযোগ্য সমুদয় টাকা বিনিয়োগের পর প্রথম চেকে মঞ্জুরীকৃত ঋণের ৫০% টাকা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে নির্মাণ কাজের অবস্থা দৃষ্টে দু’টি চেকে বাকী ৫০% টাকা (২৫%+২৫%) প্রদান করা যাবে। শেষ কিস্তি গ্রহণের পুর্ব রেহেন দলিল রেজিষ্ট্রি করতে হবে।

৭.৪ লীজ প্রদত্ত জমির ক্ষেত্রে জমির মালিক (লীজ গ্রহিতা) ডেভেলপার কোম্পানি ফ্ল্যাটের আনুপাতিক জমি বিক্রয়ের ক্ষমতা প্রদান করে আম- মোওুার নামা প্রদান করেছে এবং উওু আম- মোওুার নামাটি লীজ দাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ( রাজউক/ প্ল­ট বরাদ্দকারী সংস্থা ) গ্রহণ ও অনুমোদন দিয়েছে সে সকল ক্ষেত্রে ১ম কিক্তিতে ঋণের ৫০% টাকা এবং ২য় চেকের মাধ্যমে ২৫% টাকা প্রদান করা যাবে।

৭.৫শেষ কিস্তির চেক গ্রহণের পুর্বে প্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করণ সহ রাজউক / প্ল­ট বরাদ্দকারী সংস্থা হতে ফ্ল্যাট ও আনুপাতিক জমির বন্ধক অনুমতিপত্র (এন. ও.সি ) দাখিল এবং রেহেন দলিল সমঙাদন ও রেজিষ্ট্রিঃ করে দিতে হবে।

৭.৬ ফ্ল্যাট ঋণ গ্রহীতার লিখিত সম্মতিতে ডেভেলপার/তার প্রতিনিধিকে ঋণের চেক প্রদান করা যাবে। এছাড়া ডেভেলপার ঋণ গ্রহীতার নিকট থেকে আম-মোক্তার নামা বলে ঋণের চেক গ্রহনের ক্ষমতা পেলে ঋণের চেক ডেভেলপারকে প্রদান করা যাবে।

৮.০ডকুমেনটেশন (Documentation): ৮.১ ঋণ গ্রহণের শুরুতে ফ্ল্যাট ক্রেতা বন্ধক দলিল করে দিতে না পারলে বা দেয়া সম্ভবপর না হলে এপার্টমেন্ট ঋণ মঞ্জুরীর পর ডেভেলপার, ফ্ল্যাট ক্রেতা এবং কর্পোরেশনের মধ্যে নির্ধারিত নমুনা মোতাবেক ত্রি-পক্ষীয় চুক্তিপত্র স্বাক্ষর ও রেজিষ্ট্রি করতে হবে। ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি রেজিষ্ট্রির পর থেকে ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল রেজিষ্ট্রি হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে মঞ্জুরীকৃত ঋণের টাকা নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন পুর্বক কিস্তিতে কিস্তিতে টাকা প্রদান করা হবে।

৮.২ফ্ল্যাট ও আনুপাতিক জমি ঋণ গ্রহীতা/ফ্ল্যাট ক্রেতার নামে ডেভেলপার কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন করে দেয়ার পর ফ্ল্যাট ক্রেতা/ঋণ গ্রহীতা কর্তৃক কর্পোরেশন বরাবরে বন্ধকী দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি করে দিতে হবে এবং বন্ধকী ফ্ল্যাট বিক্রয়ের ক্ষমতাযুক্ত রেজিস্টার্ড পাওয়ার-অব-এটর্ণী ফর-সেল দিতে হবে।

৮.৩ ঋণ বিতরণের পুর্বে উল্লে­­খিত দলিলাদি সম্পাদন করা ছাড়াও ঋণের জামিনদার থাকলে জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। এছাড়াও ডি.পি.নোট (D.P.Note), কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়া ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করার অংগীকারনামা, পোষ্ট ডেটেড চেক গ্রহণ এবং লিয়েন সংক্রান্ত কাগজপত্র ( প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) অতিরিক্ত জামানত নেয়া হবে।

৮.৪সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সুদের হারে ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যমত পরিশোধ মেয়াদে সমমাসিক কিস্তিতে চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে সুদাসলে কর্পোরেশনের সমুদয় পাওনা টাকা পরিশোধ / আদায় করা হবে। বর্তমানে সুদের হার বার্ষিক ১২% (সরকার কর্তৃক সুদের হার পরিবর্তন করা হলে পরিবর্তিত হার প্রযোজ্য হবে )। বার্ষিক ভিত্তিতে সুদ চার্জ করা হবে।

৮.৫ এমরটাইজড (Amortized) পদ্ধতিতে সকল কিস্তির পরিমাণ সমান হবে। বার্ষিক ১২% হারে ২০ বছর পরিশোধ মেয়াদে প্রতিলক্ষ টাকায় মাসিক কিস্তির পরিমান ১১০১/০৯ টাকা সুদে ১৫ বছর পরিশোধ মেয়াদে প্রতি লক্ষ টাকার মাসিক কিস্তির পরিমাণ ১২০১/ টাকা ,১০ বছর পরিশোধ মেয়াদে প্রতিলক্ষ টাকার মাসিক কিস্তির পরিমাণ ১৪৩৫/- টাকা এবং ৫ বছর পরিশোধ মেয়াদে প্রতি লক্ষ টাকার মাসিক কিস্তির পরিমাণ ২২২৫/- টাকা ।

৯.০এমরটাইজড (Amortized) পদ্ধতিতে সমমাসিক কিস্তিতে (EMI) ঋণ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদাসলে সমুদয় পাওনা টাকা পরিশোধের নিমিত্তে ঋণের পরিশোধ সুচী (Amortization Schedule) তৈরী করে উপদেশ পত্রের মাধ্যমে গ্রহীতাকে জানানো হবে । ঋণ বিতরণের শুরুতেই গ্রহীতার নিকট হতে ৩ বছরের জন্য ঋণের মাসিক কিস্তির বিপরীতে কর্পোরেশনের নামে ৩৬ টি পোস্ট-ডেটেড ( post-dated ) ক্রস চেক বা অগ্রিম মাসিক কিস্তির চেক জমা নেয়া হবে এবং ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৩৬টি করে চেক জমা নিয়ে ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে। অগ্রিম জমাকৃত চেক প্রতিমাসে সংশ্লি­ষ্ট ঋণ হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকে জমা করে প্রতিমাসের কিস্তি আদায় করা হবে।

৯.১ ঋণের শেষ চেক প্রদানের বা সর্বশেষে গৃহীত চেকের (সমুদয় টাকা গ্রহণ না করলে) ৩ মাস পর ৪র্থ মাসের ১ম তারিখ হতে কিস্তি শুরু হবে। নির্মাণকালীন সুদ (আই.ডি.সি.পি) নরমাল কিস্তি শুরুর তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১২ কিস্তিতে আদায় করা হবে। এ ব্যাপারেও ১২টি অগ্রিম চেক নেয়া হবে। ৯.২ দরখাস্ত ফি,পরিদর্শন ফিসহ সকল ধরনের ফি এর টাকা অফেরতযোগ্য। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন।

Check for details
SHARE