‘দুধের চাহিদার ৭৫ ভাগই পূরণ করে মিল্কভিটা’

দুধ ও দুধজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই মিল্কভিটার প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ভোক্তার পুষ্টিমানের নিশ্চয়তা দেয়ার বিষয়টি সবসময়ই বিবেচনায় থাকে। এজন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কিছু নতুন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমন সব কথা জানালেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু।

রাজধানীর মিরপুরে মিল্কভিটা কারখানা। প্যাকেটজাত দুধ, আইসক্রিম, দই, মাঠা, লাবাং ও রসমালাই তৈরি হয় এখানে। দেশে এমন কারখানা আছে আরও তিনটি। যেগুলোতে তৈরি হয় ১৪ ধরণের পণ্য। এছাড়া, তরল দুধকে শীতল করতে আরও ৩২টি কারখানা আছে দেশজুড়ে।

প্রতিটি কারখানায় সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে দুধজাত পণ্যের পুষ্টিগুণ ও মান নিয়ন্ত্রণ করে মিল্কভিটা। কেবল কারখানায় নয়, গৃহস্থ পর্যায়ে দুধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সব কয়টি ধাপেই ভোক্তা স্বার্থকে গুরুত্ব দেয় মিল্কভিটা।

মিল্কভিটা চেয়ারম্যান বলেন, দুধ বাড়ি থেকে সমিতির অফিসে আনা পর্যন্ত পুরো দায়িত্ব বহন করে থাকে মিল্কভিটা। এরপর সেটা বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে কারখানায় নেয়া হয়। কারখানায় পাস্তুরিত করার আগে এটা কয়েকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে থাকে। দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আছে কিনা, কোনও এসিড উৎপাদিত হলো কিনা? ল্যাকটোজ বা ফ্যাট ঠিকমতো আছে কিনা- তা ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা হয়।

পাস্তুরিত দুধের মান নিয়ে মাঝেই-মধ্যেই নানা কথা ওঠে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মানহীন অনেক পাস্তুরিত দুধ জব্দ করে। কখনো কখনো সঠিক তাপমাত্রার বাইরে পণ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে ভুল ফলাফলও দেয়া হয়। এসবকে চ্যালেঞ্জ মনে করে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান বললেন, এসব ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তারা।

নাদির হোসেন লিপু বলেন, বর্তমানে বিশুদ্ধ খাবার নিয়ে যে জিরো টলারেন্সের কথা বলছে সরকার, মিল্কভিটা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ভেজালমুক্ত খাবার প্রস্তুত করছে। আমরা এ জায়গায় শক্ত অবস্থানে থাকতে চাই। গত কয়েকমাসে বাজার থেকে দুধ নিয়ে বিভিন্ন ল্যাবে পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুধ পাস্তুরিত হওয়ার পর সাধারণত ১৫ মিনিটের বেশি ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার বাইরে রাখা যায় না। দুধ ৫ ডিগ্রির বাইরে রাখলে তাতে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবেই। তাই বাজার থেকে দুধ নিয়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর পর যদি পরীক্ষা করা হয়, তবে খারাপ ফল আসবেই। এবং তাতে গ্রাহকরা বিভ্রান্ত হবেন।

‘আমরা ল্যাব কর্মকর্তাদের বলছি, মিল্কভিটা থেকে দুধ নিয়ে পরীক্ষা করুন। ৫ ডিগ্রিতে দুধ নিয়ে পরীক্ষা করেন, দেখবেন রেজাল্ট ঠিক পাবেন।’ তিনি বলেন, পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে যদি একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য বাজারে এসে যায়, তবে মিল্কভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর মিল্কভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর মালিক প্রান্তিক খামারিরা এবং উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ ব্যবসায়ী বলেন, দেশে দুধের চাহিদার ৭৫ ভাগই যোগান দেয় মিল্কভিটা। এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তাই স্থানীয়ভাবে দুধ সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে বাজারজাতকরণের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কারখানা করার কথা জানালেন তিনি। তথ্যসূত্র: আরটিভি অনলাইন।

Check for details
SHARE