চায়না থেকে মোবাইল ইমপোর্ট ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে!

কিভাবে চায়না থেকে মোবাইল আমদানি করবেন তা নিয়ে এ পোষ্টে বিস্তারিত থোকছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি। প্রতিমাসে বৈধ পথেই হ্যান্ডসেট আমদানি হয়ে থাকে প্রায় ২৪ লাখ। অনেকেই নতুন করে চায়না থেকে মোবাইল আমদানি করে ব্যবসা করতে চান।

চায়না থেকে মোবাইল আমদানি করে ব্যবসা করতে চাইলে আপনাকে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। তবে আমি এখানে সম্পূর্ণ বৈধ পথে কিভাবে আমদানি করতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করবো। বাজারে অবৈধ পথে আমদানিকারকরা কি পরিমাণ সমস্যা তৈরি করছে সেটা নিয়েও আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

আমদানি করার ধাপঃ কাস্টমার এবং ব্র্যান্ড বাছাই করা: প্রথমে আপনাকে সিন্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন লেভেলের কাষ্টমারদের জন্য আপনি আমদানি করবেন। বাজারে প্রচুর পরিমাণে চায়না ব্র্যান্ডের মোবাইল আছে। যেমন সাওমি, সিম্ফনি, লাভা ইত্যাদি। এরা কিন্তু বাজারে খুব ভালো দখল করে আছে। আপনি যদি ওদের কাষ্টমার ধরতে চান তবে আপনাকে ওই লেভেলের কিছু ব্র্যান্ড সিলেক্ট করতে হবে।

চায়নাতে প্রচুর নতুন নতুন ব্র্যান্ড আছে। আপনি যে কার সাথে আলোচনা করে আমদানি করতে পারেন। তবে মোবাইল বিক্রির জন্য প্রচুর বিজ্ঞাপন করতে হবে। আপনি অবশ্যই চেষ্টা করবেন এই বিষয়টা রপ্তানীকারকের সাথে আলোচনা করে নিতে। কারণ আপনি মার্কেটিং এ ব্যায় করতে গেলে লোকসানের মুখে পরতে পারেন।

সাম্পল আমদানি করা: যদি সম্ভব হয় তবে নিজে চায়না গিয়ে আপনি যে কয়টি মডেলের মোবাইল বাজারজাত করতে চান তার স্যাম্পল নিয়ে আসবেন। সম্ভব হলে প্রত্যেক মডেলের দুইটি করে নিয়ে আসবেন। মিনিমাম ছয় মাস নিজে এবং পরিচিত জন দিয়ে টেস্ট করাবেন। যত প্রকারের টেস্ট করা সম্ভব হয়।

প্রয়োজনে মোবাইল খুলে দক্ষ কাউকে দিয়ে প্রত্যেকটা পার্টস টেস্ট করাবেন। এর পর সিধান্ত নিবেন কোন মডেল আমদানি করবেন। কারণ প্রতিযোগীতার বাজার এটা। বুঝে শুনে আমদানি না করলে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

পি আই আনা: এবারের কাজ হল সেলারের কাছ থেকে পি আই আনা।পি আই তে আপনার কোম্পানির একটি সিল মেরে সাইন দিয়ে আপনি যে ব্যাংক থেকে এলসি করতে চান সে ব্যাংকে চলে যাবেন। পি আইতে আপনার পণ্যের দাম, ওজন, পরিমাণ, আমদানিকারকের নাম, রপাতানি কারকের নাম, রপ্তানি কারকের ব্যাংক আকাউন্ট নাম্বার ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

এলসি করা: এবার পি আই নিয়ে কোন একটা ব্যাংকে চলে যাবেন। যত ডলার এল সি করতে চান তাদের বলবেন। তবে এলসিতে আপনি যে পণ্য আমদানি করবেন মূল ক্রয় দাম উল্লেখ করতে হয়। খুব সাবধানে এলসি ফর্ম পুরন করতে হবে।

এখানে আপনি যে পণ্য আনবেন তার নাম এবং HS কোড এবং ফুল ভালু উল্লেখ করতে হবে। কোন ভাবেই জেন HS কোড ভুল না হয়। এবার ব্যাংক সকল কাগজ পত্র সেলারকে পাঠাবে। সেলার সব যাচাই বাছাই করে, ট্রাক চালান, এল সি ফর্ম, পি আই, কমার্শিয়াল ইনভএস, প্যাকিং লিস্ট পুনরায় বাঙ্কে পাঠাবে। ব্যাংক সকল কাগজ পত্র সাইন করে আপনাকে দিয়ে দিবে।

চায়না থেকে মোবাইল আমদানিতে প্রতি সেটে কত ট্যাক্স দিতে হবে? এই বিষয়টা খুব জটিল অনেকেই হিসেব করতে পারেননা কত ট্যাক্স আসতে পারে। কিভাবে পণ্যের ট্যাক্স বের করতে হয় এসব নিয়ে আমার পোষ্ট আছে দেখে নিতে পারবেন। তবে আমার কাছে Cellular Phone HS Code হিসাবে নিচের HS Code টি অধিক যুক্তি যুক্ত মনে হচ্ছে। 85171210 Cellular (Mobile/fixed wireless) telephone set CD 10.00 SD 0.00 VAT 15.00 AIT 2.00 RD 0.00 ATV 0.00 EXD 0.00 TT 28.50

টোটাল ট্যাক্স আসে ২৮.৫০ টাকা । তার মানে আপনি ১০০০ টাকা দিয়ে একটা চায়না মোবাইল আমদানি করেন তবে আপনাকে ৩১০ টাকা ট্যাক্স দিতে হবে (কম বেশী) তবে কাস্টমস প্রত্যেকটি চায়না মোবাইলের একটা রেট ধরে আসেসমেন্ট করবে। অর্থাৎ আপনি যদি যত ডলার ঘোষণা দেন না কেন, কাস্টমস নির্দিষ্ট রেট ধরেই আসেসমেন্ট করবে।

পণ্য ছাড় করানো: চায়না থেকে মোবাইল ঢাকা এয়ারপোর্ট দিয়ে আমাদনি করা হয়। তবে মোবাইল কাস্টমস থেকে ছাড় করানো অন্য পণ্যের মত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া না। এর জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া করতে হবে। কোন সি এন্ড এফের মাধ্যমে আপনার কাগজ পত্র কাস্টমে জমা দিবেন। সি এন্ড এফে আপনাকে ৩-৪ দিনে পণ্য খালাস করে দিবে।

এবার আলোচনা করবো মোবাইলফোন হ্যান্ডসেট / USB Modem আমদানীর জন্য প্রয়য়োজনীয় সরকারী নির্দেশনাবলী: প্রথমে আপনাকে বিটিআরসি হতে Radio Equipment Importer and vendor Enlistment তালিকাভূক্ত হতে হবে । এই তালিকাভুক্তি হওয়া এখন খুবই কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বেশ ভালো মানের একটা টাকা আপনাকে খরচ করতে হবে।

বিটিআরসি যোগাযোগ করলেই জানতে পারবেন। এর পর মোবাইল কাস্টমস থেকে খালাস করার আগে নিচের প্রক্রিয়াগুলি শেষ করতে হবে। ১। সকল আমদানীকারককে বিটিআরসি হতে ‘‘Radio Equipment Importer and vendor Enlistment” তালিকাভূক্ত হতে হবে এবং চলতি বছরের জন ̈নবায়নকত থাকতে হবে।

২। বাংলা কী প্যাড/UTF 16/UCS 2 সম্বলিত মোবাইল ফোনসেট (BAR/QWERTY) আমদানীর লক্ষে ̈আবেদনকৃত সেট ̧গুলির বাংলা কী প্যাড সম্বলিত হ্যান্ডসেটের Sample দেখাতে হবে। ৩। নতুন ব্রান্ডের ক্ষেত্রে সত্যায়িত (ক) Manufacturer Certificate, (Original Language Native and English Version)

(খ) Quality Assurance Certificate, (গ) Copy of Agreement,(ঘ) Sample Mobile Set/USB Modem (ঙ) Distribution Certificate, (চ) Manufacturer specification test Condition & test result ((নতুন মডেলের ক্ষেত্রে)), (ছ) Sample IMEI/MEID নম্বর (জ) Battery Test Report for All Mobile Set Ges (নতুন মডেলের ক্ষেত্রে) দাখিল ক রতে হবে।

৪। পরীক্ষার জন Sample Mobile Set/IMEI সহ বিশেষজ্ঞের সাথে Presentation/ আলোচনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হলো। ৫। আবেদনকৃত মোবাইলসেট এর Warranty নিশ্চিত করার লক্ষে ̈Warranty কার্ড/সার্ভিসিং সেন্টার সমূহের ঠিকানা জমা দিতে হবে। ৬। আমদানীর পর এ যাবৎ বিটিআরসি কর্তৃক NOC এর মাধ্যমে কতটি সেট আমদানী করেছেন তার Database BTRC কে প্রদান করতে হবে।

৭। প্রতেক মডেলের Brochure প্রোপ্রাইটার কর্তৃক সত্যাায়িত করে জমা দিতে হবে। ৮। Proforma Invoice (ডলারসহ এবং ডলারবিহীন) উভয়ভাবেই প্রোপ্রাইটার কত্রিক সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। ৯। প্রতেক মডেলের সঠিক Sample IMEI/MEID নম্বর (এক্সেল ফরমেট) সিডিতে জমা দিতে হবে। ১০। সর্বশেষ আমদানীকৃত মোবাইলফোন হতে নমূনা সেট দেখাতে হবে (বিটিআরসি’র চাহিদা অনুযায়ী)।

১১। সর্বশেষ আমদানীকৃত সকল মোবাইলফোন হ্যান্ডসেট/USB Modem এর IMEI/MEID নম্বর (এক্সেল ফরমেট) সিডিতে জমা দিতে হবে। ১২। সকল আবেদন চেয়ারম্যান, বিটিআরসি বরাবর করতে হবে। উপরোক্ত কাজগুলি সম্পন্ন না করতে পারলে আমদানি করা মোবাইল কাস্টমস থেকে ছাড়াতে পারবেন না। সরকার এগুলি নিলামে তুলে দিবে।

বর্তমানে চায়না মোবাইল পণ্যের বাজারে বিশৃঙ্খলা: বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চায়নার ফ্যাক্টরি গুলি থেকে চোরাই পথে মোবাইল নিয়ে আসতেছে। যেমন গার্মেন্টসের বণ্ড করা পণ্যের ভিতরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নিয়ে আসতেছে। এর কারনে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তবে এসব মোবাইল IMEI/MEID নম্বর দিয়ে মোবাইল ট্র্যাকিং করতে সম্ভব হবেনা। হারানো গেলে খুজে পাবেন না। মাঝে মধ্যে লাগেজে করেও অনেকে মোবাইল নিয়ে আসেন। এগুলি সম্পূর্ণ অবৈধ। ধরা পড়লে কাস্টমস সব মোবাইল বাজেয়াপ্ত করবে। তথ্যসূত্র: ইববাই ডটকম।

Check for details
SHARE