চাইলে ভালো থাকা যায় খুব সহজে!

ইদানীং কিছুই করতে ভালো লাগে না—এ ধরনের কথা আমরা হরদম বলছি বা অন্যের কাছ থেকে শুনছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে’ ভেবে এড়িয়ে চলি কিন্তু এটা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় নয়। কেননা, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ক্ষতস্থানে ওষুধ না দেবেন, ততক্ষণ এটি আপনাকে ভোগাবে। ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করবেন জীবনীশক্তি। কেন এমন হচ্ছে এবং সেই অবস্থা থেকে বের হওয়ার উপায় জানাতে হবে।

দুঃসাধ্য প্রতিজ্ঞা
দুটো সময়ে প্রতিজ্ঞা করা থেকে বিরত থাকার কথা সব সময়ই বলা হয়। এক. যখন আপনি অনেক আনন্দিত থাকেন। দ্বিতীয়ত, যখন আপনি রেগে থাকেন। এই দুই সময়ে করা প্রতিজ্ঞাগুলো না ভেবেই করে থাকি বলে পরবর্তী সময়ে প্রতিজ্ঞা রক্ষার সময় বিপাকে পড়তে হয়। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী দালাই লামা বলেন, ‘যে প্রতিজ্ঞা পূরণ করা কঠিন, তা না করাই ভালো। আর যদি কেউ করেই ফেলে, তবে অবশ্যই তা পূরণ করা উচিত।’ এটি এ জন্য বলা হয়েছে, কেননা অন্যের চেয়ে নিজের কাছে আপনি কেমন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু প্রতিজ্ঞাটি কঠিন ছিল, যদি আপনি তাতে অনড় থাকতে পারেন, তা আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। না হয় এটি অপরের কাছে যেমন আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট করবে, তেমনি আপনার নিজের আত্মসম্মান ও নিজের প্রতি সম্মানবোধও কমিয়ে দেবে।

দূরত্বে থাকুক নেতিবাচকতা
এই দূরত্ব শুধু যে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকেই নয়, বরং যারা সব সময় অভিযোগ আর প্রভাবিত করার একধরনের তাড়নায় থাকেন, তাঁদেরও এড়িয়ে চলুন। কেননা, আমরা সহজেই প্রভাবিত হই এবং যেকোনো ধরনের না-বাচক দৃষ্টিভঙ্গি যেকোনো হ্যাঁ-বাচক দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে দ্রুত প্রভাবিত করে। নিয়মিত কেউ যদি নেতিবাচক মানসিকতার কারোর সঙ্গে মেলামেশা করেন কিংবা নিজেই না-বাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা নিজেকে নিয়ে হতাশায় ভোগেন। এ ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন নিজের ভালো দিকগুলোকে নিয়ে চিন্তা করার। সময় কাটান তাঁদের সঙ্গে, যাঁরা সবকিছু থেকে ভালো জিনিস বের করে আনেন। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কর্ম উদ্যমী এবং ভালো থাকতে সাহায্য করে।

পরিশোধ করুন সময়মতো
এ ক্ষেত্রে একটি বিখ্যাত কথা আছে, ‘যে দেনাহীন, সে চিন্তাহীন।’ অনেক সময় আমরা আমাদের অপরিশোধিত বিলগুলো আলসেমির কারণে ঠিক সময়ে পরিশোধ করি না। সুতরাং, সময়ের কাজ সময়ে করে ফেললে অহেতুক চাপ নিতে হয় না। শুধু তা-ই নয়, যাঁদের কাছে আপনার পাওনা আছে, তাঁদের সঙ্গে সহনশীল ব্যবহার করুন। অন্যের প্রতি সহনশীল ব্যবহার আমাদের নিজের প্রতি নিজেদের ভালো লাগা তৈরি করে।

ক্ষমা করতে শিখুন
বলা হয়, ‘রাগ পুষে রাখা আর গরম কয়লা মুঠোয় ভরে রাখা সমান।’ আমাদের জীবনে সবকিছু সঠিক হবে কখনো এমন ধারণা রাখা উচিত নয়। অনেক সময় আমাদের কাছে যা সঠিক, তা অপরের কাছে সঠিক না-ও হতে পারে। তাই যদি মনের মধ্যে ক্ষোভ থেকে থাকে, তা ঝেড়ে ফেলুন। কেননা, এতে আপনি নিজেও ভুক্তভোগী হচ্ছেন। ক্ষমা করতে শিখুন। ক্ষমা করতে পারা একটি গুণ। এটি শুধু অন্যের ক্ষেত্রে নয়, ক্ষমা করতে শিখুন নিজেকেও। কারণ, আমরা নিজের সঙ্গেও অনেক সময় অন্যায় করি। ঠিক যেই সময়টায় আপনি নিজেকে ক্ষমা করে, নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করবেন; তখন থেকে আপনার নিজের প্রতি আস্থা বাড়তে শুরু করবে।

সময় দিন পছন্দের কাজে
কাজের খাতিরে আমরা প্রায়ই অনেক কিছু করি, যা আমাদের পছন্দ নয়। একাধারে অপছন্দের কাজ আমাদের মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সময় দিন আপনার ভালো লাগার কাজগুলোতে। কেননা, একমাত্র আপনি জানেন, আপনি কী পছন্দ করেন। অনেক সময় আমরা অপেক্ষা করি কেউ আমাদের পছন্দের কাজ করবে কিন্তু এটি একেবারেই ভুল ধারণা। আপনার ভালো লাগা এবং পছন্দের বিষয়গুলোর খেয়াল আপনাকেই রাখতে হবে। ঠিক যখনই আপনি আপনার ভালো লাগাগুলো পরিচর্যা করা শুরু করবেন, তখন থেকেই আপনার আত্মতৃপ্তি বাড়তে শুরু করবে।

যত্ন নিন নিজের
অনেক সময় শারীরিক অসংগতিও অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই যত্ন নিন আপনার স্বাস্থ্যের। লক্ষ রাখুন নিজের মানসিক দিকের প্রতিও। নিজের প্রতি সহনশীল হওয়া ভালো থাকার অন্যতম মন্ত্র। জীবনে ঝড়-ঝঞ্ঝা আসবেই কিন্তু লড়াই করার জন্য চাই আপন জীবনীশক্তি। সুতরাং, নিজের ওপর চাপ তৈরি না করে নিজেকে রাখুন শান্ত, সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী।

সূত্র: উইকিহাউ, ব্রাইটসাইড

Check for details
SHARE