কর্মক্ষেত্রে আত্মপ্রত্যয়ী হবেন যে উপায়ে!

ঘড়ির কাঁটা ধরে অফিস করতে করতে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। একই কাজ প্রতিদিন করতে করতে একঘেয়েমি বোধ করি। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার—কাজ আর কাজের মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে বেশ নিরস জীবন তৈরি হয়। নৈরাশ্য ভর করে আমাদের মননের ওপর। যার প্রভাব পড়ে কাজের মান ও প্রকৃতির ওপর। মনের জোর কি সপ্তাহের সব দিন একই রঙের থাকে?

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কনজ্যুমার প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাক্টসের যোগাযোগ প্রধান সুরাইয়া সিদ্দিকা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দারুণ কাজ করা যায়। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে কাজে চাপ থাকবেই। যে যত চাপ নিয়ে ভালো কাজ করতে পারেন তিনিই আত্মপ্রত্যয়ী। নিজেকে যদি আপনি গুছিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে যত বড় কাজই হোক না কেন আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারবেন। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সুরাইয়া সিদ্দিকা কর্মক্ষেত্রে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠার কয়েকটি পরামর্শ দিচ্ছেন।

ছোট ছোট কাজ আগে করে ফেলুন
দিনের শুরুতেই অফিসে পা রেখেই ছোট কাজগুলো সেরে নিন। ছোট ছোট কাজ শেষ করতে পারলে মনে আরও কাজ তৈরির আগ্রহ জন্মে। শুরুতেই যদি কঠিন কোনো কাজ করেন আর তাতে যদি আপনি ব্যর্থ হন তাহলে দিনের বাকি সময়টা কিন্তু একটু খারাপ লাগবেই।

অবসর-বিরতি নিন
নিয়মিত কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নিন। একটু হালকা শরীরচর্চা কিংবা হাঁটাচলা করুন, এতে মন আর শরীর দুটোরই কর্মক্ষমতা বাড়বে।
বহুমাত্রিক কাজ এড়িয়ে চলুন বহুমাত্রিক কাজ সব সময়ই পরিহার করবেন। একটি একটি করে কাজ শেষ করুন। এ ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সহায়তা নিন। আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি অনেক কাজ আপনার ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে তাঁকে বুঝিয়ে কাজের গুরুত্ব অনুসারে কাজ শুরু করুন।

কাজের তালিকা লেখার অভ্যাস করুন
প্রতিদিন কী কী কাজ করবেন, তা একটি ডায়েরিতে টুকে রাখার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন সকালে অফিসে আসার সময় যাত্রাপথে সেই তালিকা দেখে কাজের গুরুত্ব ভাগ করে নিতে পারেন। কাজের তালিকা করার অভ্যাস থাকলে একসঙ্গে অনেক কাজের ভিড় লেগে যায় না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
কর্মক্ষেত্রে নিজের সামাজিক যোগাযোগ সাইটে অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। হুটহাট মেসেঞ্জারে কথা বলা কিংবা ছবি পোস্ট করবেন না। অফিসের আট ঘণ্টা ব্যক্তিগত কাজে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

মুঠোফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন
কাজের সময় মুঠোফোনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় মুঠোফোন বন্ধ করে রাখতে পারেন। কাজের সময় ক্ষুদ্র আলাপের মাধ্যমে মুঠোফোনের কার্যকর ব্যবহার শিখুন।

১ শতাংশ সময় নিজের উন্নয়নে ব্যয় করুন
যতই কাজ করুন না কেন নিজের জন্য ১ শতাংশ সময় রাখুন। দুপুরের খাবার বিরতিতে খানিকটা বই পড়তে পারেন। কিংবা ইউটিউব থেকে কোনো ভিডিও দেখে নিজের কোনো দক্ষতা বিকাশের সুযোগ নিন।

সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন
ধরুন, বেলা ১১টায় মিটিং। আপনি ১১টায় হুড়মুড় করে তাড়াহুড়ো করে মিটিংয়ে শুধু উপস্থিত হন নিয়মিত। এমন অভ্যাস পরিহার করুন। চেষ্টা করুন, সময়ের আগে বিভিন্ন মিটিংয়ে হাজির হতে। মিটিংয়ে কী নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে, তা আগে থেকেই ভেবে নিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিটিংয়ে সময় না দিয়ে ২০ থেকে ৩৫ মিনিটের মধ্যে সব মিটিং শেষ করুন।

নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে
নিজের কী কী ঘাটতি, কোথায় দুর্বলতা তা খুঁজে বের করে তা দূর করার চেষ্টা করুন। আপনার সহকর্মীদের এ ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে উৎসাহ দিন। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে তাহলে তার কারণ অনুসন্ধান করে পরবর্তী কাজটি ভালোমতো করুন।

সকালের সময়টা কাজে লাগান
প্রতিদিন সকালের সময়টা কার্যকরভাবে কাটানোর চেষ্টা করুন। বাড়িতে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। সময়ের কিছু আগে অফিসে আসার অভ্যাস করুন। বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব কম হলে হেঁটে আসার অভ্যাস করুন।

পরামর্শ নিতে শিখুন
কর্মক্ষেত্রে আমরা সাধারণত অন্যদের মতামত তেমন গুরুত্ব দিই না, যা মারাত্মক একটি ভুল। সহকর্মী, উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা সবার কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার মনোভাব গড়ে তুলুন। শুধু নিজের অফিসই নয় নিজের পেশা ক্ষেত্রের অন্য অফিসের অভিজ্ঞদের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক গড়ে তুললে আপনি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: প্রথমআলো ডটকম।

Check for details
SHARE