ইন্টারভিউয়ের চাপ দূর করতে!

চাকরি ইন্টারভিউ দিতে চাচ্ছেন, নার্ভাস লাগছে? অস্বাভাবিক কিছু নয়। একটি ভালো চাকরি আপনার দৈনন্দিন অনেক সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে। কিন্তু যোগ্যতা থাকার পরও অনেকেই চাকরি পান না শুধু নার্ভাসনেসের কারণে। সহজ প্রশ্নের জানা উত্তরটা দিতে পারেন না কিংবা হ্যান্ডশেক করার সময় পড়ে যায় হাতের ফাইলটা। এই সব হয়ে থাকে স্ট্রেসের কারণে।

ভুলগুলো ছোট খাটো কিন্তু চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এইগুলো অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ইন্টারভিউ স্ট্রেস বা এংজাইটি কমাতে পারেন কিছু কৌশলে। হেঁটে আসুন : বাইরের সতেজ বাতাস আপনাকে ফ্রেশ একটি অনুভূতি দেবে। ঘর থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন। দেখবেন নার্ভাসনেস অনেকখানি কমে গেছে।

খাবারের ব্যাপারে সচেতন থাকুন :
ইন্টারভিউয়ের আগে ক্যাফিন জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন। আপনি মনে করছেন কফি আপনার চিন্তা কমিয়ে দেবে, এটি আপনার ভুল ধারণা। ইন্টারভিউয়ের আগে হালকা কোনো খাবার খান। ভারী খাবার আপনাকে ক্লান্ত করে তুলবে। নিজেকে জোর করবেন না : নিজেকে শান্ত রাখার জন্য নিজেকে জোর করবেন না। এটি শুধু আপনার স্ট্রেস বৃদ্ধি করবে, চিন্তা কমাবে না একটুও।

‘স্টপ’ মেথড মেনে চলুন :
কার্যনির্বাহী কোচ ক্রিস চ্যারিক যেকোনো স্ট্রেস কমানোর জন্য একটি কৌশল বলে দিয়েছেন, তা হলো ‘STOP’। S- (স্টপ) আপনি যা চিন্তা করছেন তা বন্ধ করে নিজের লক্ষ্যের দিকে ফোকাস করুন। T- (টেক) কয়েকবার চোখ বন্ধ করে শ্বাস গ্রহণ করুন। O- (ওবজারভ) নিজের দিকে লক্ষ্য রাখুন, নিজের মন, আবেগ, অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করুন। P-(প্রোসিইড) নিজেকে শান্ত রাখার জন্য চেষ্টা করুন।এটি আপনার স্ট্রেস কমিয়ে আপনাকে কাজে আরও বেশি ফোকাস করে তুলবে।

খারাপের জন্য প্রস্তুতি নিন :
সবচেয়ে বড় ভয় কী? প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না? কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানলে কী বলবেন, কীভাবে বলবেন সেটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকবার অনুশীলন করে নিন। হয়তো বা এইরকম কোনো পরিস্থিতির সম্মুখিন পড়তে হবে না আপনাকে। তবুও প্যাকটিস আপনার ভয় কাটাতে সাহায্য করবে।

নিজের সঙ্গে কথা বলুন :
নিজের সঙ্গে কথা বলা অস্বাভাবিকতার লক্ষণ নয়। বরং এটি আপনার ভয় দূর করতে সাহায্য করবে। আপনি যখন চিন্তিত আপনার মস্তিষ্ক তখন আপনাকে নানানভাবে ভয় দেখাতে শুরু করবে। সে হয়ত বলবে, ‘আজকে তো নিশ্চিত আমি এলোমেলো বলব।’ আজ কোনোভাবেই আমাকে দেখতে ভালো লাগছে না। নিজেকে পাল্টা প্রশ্ন করুন। কথা বলুন নিজের সাথে। যুক্তি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় মনকে বোঝান তেমন কিছুই হবে না, কারণ আপনি এবার যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং এবার ভালো কিছু হবে।

প্রিয় মানুষকে ফোন করুন :
স্ট্রেস অনেকখানি কমে যায় প্রিয় কোনো মানুষের সাথে কথা বললে। মা, বোন অথবা প্রিয় বন্ধুর সাথে কিছুক্ষণ ফোনে কথা বলুন। তাদের ইতিবাচক মনোভাব আপনাকে সাহস যোগাবে।
গান শুনুন : পছন্দের কোনো গান শুনতে পারেন। এটি আপনার মাথা থেকে দুশ্চিন্তার পরিবর্তে ভালো সুন্দর অনুভূতির জোগান দেবে।

সুপার হিরো অঙ্গভঙ্গি : সুপার হিরো ‘সুপার ম্যান’, ‘ব্যাট ম্যান’-কে মনে আছে? সোজা হয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে পৃথিবীকে আধিপত্য করার জন্য। এভাবে দাঁড়িয়ে থাকুন, গভীরভাবে কয়েকবার শ্বাস গ্রহণ করুন। আর নিজেকে বলুন, ‘ আপনি পারবেন পৃথিবী পরিবর্তন করতে, নিজের সাহস এবং যোগ্যতা দিয়ে।’

এটি শুধু কথোপকথন :
আপনি চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিতে যাচ্ছেন না কিংবা করতে যাচ্ছেন না বাঘের সঙ্গে লড়াই। মনে রাখবেন আপনি কয়েকজনের মানুষের সঙ্গে আপনার ক্যারিয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছেন না, আর কিছুই নয়।আপনি যেমন তাদের জন্য কাজ করতে চাচ্ছেন তেমনি তারাও আপনার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তথ্যসুত্র: কর্মজীবন ডটকম।

Check for details
SHARE