সাপের খামারে কোটি টাকার হাতছানি!

প্রতিনিয়ত সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে বাংলাদেশে। নতুন নতুন আবিষ্কার আর ভালো উদ্যোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এ দেশ। উন্নত দেশগুলোকে অনুসরণ করে সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় কিছু বিষাক্ত সাপের খামার। মূলত সাপ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, বিষ সংগ্রহ, রপ্তানি এবং প্রতিষেধক তৈরির উদ্দেশ্যেই গড়ে উঠেছে এসব খামার।

কিছু সাহসী ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তার প্রচেষ্টায় আজ উজ্জ্বল সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় থমকে আছে সম্ভাবনাময় এই শিল্প।মানুষের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম সাপ। জল ও স্থল উভয় স্থানেই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বসবাস করলেও স্থলেই এদের বেশি দেখা যায়। হাত-পা বিহীন এই লম্বা সরীসৃপের প্রতি মানুষের যেন কৌতূহলের শেষ নেই।

কোথাও সাপ দেখা গেলে মানুষজন লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে যায় পিটিয়ে মারতে। সাপের সঙ্গে যেন মানুষের চিরকালের শত্রুতা। বিষধরদের জন্য বিখ্যাত হলেও বেশির ভাগ প্রজাতির সাপই নির্বিষ। কৌতূহলী এই প্রাণীটিকে লালন-পালনে পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছেন এ দেশের কিছু সাহসী উদ্যোক্তা। ডিসকভারি বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে বিষাক্ত সাপ সংগ্রহ, পালন ও বিষ সংগ্রহের ওপর নানা তথ্যচিত্র দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন তারা।

তেমনি একজন আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস। দেশের সর্ব দক্ষিণে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে নন্দিপাড়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন সাপের খামার। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও সৌদি প্রবাসী আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস তার নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন খামারটি।

‘বাংলাদেশ স্নেক ভেনম’ নামের একটি সাইনবোর্ড নিয়ে পাকা ঘরে চলছে আবদুর রাজ্জাকের সাপ লালন-পালন। সেখানে বিভিন্ন সাইজের নানান প্রজাতির সাপগুলো রয়েছে বাক্সবন্দী। আবার বেশকিছু সাপ রয়েছে হাউস সিস্টেমে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষের মেঝেতে। সাপের খামারি আবদুর রাজ্জাক জানান, সৌদি আরবে থাকাকালীন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান কিভাবে করা যায় এমন চিন্তা ঘুরপাক খায় তার মনে।

এরই মধ্যে ইন্টারনেটে সাপের খামারের বিষয়টি নজরে আসে তার। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সাপের খামারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার চোখে জ্বলে ওঠে সাপের বিষ থেকে বিপুল পরিমাণ আয়ের সম্ভাবনার স্বপ্ন। সেই উদ্যোক্তার কথা শুনে খামার প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত হন তিনি।

এরপর ২০০০ সালে ছুটি নিয়ে দেশে আসেন রাজ্জাক। শুরু করেন সাপের খামার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবতা নিয়ে নানা কৌশল। এরই মধ্যে তার গ্রামেরই একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে একটি গোখরা সাপ ধরেন। সেই সাপ থেকে ২৪টি ডিমও পান তিনি। ডিমগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বাচ্চা ফোটান। একটি সাপ সঙ্গে ২৪টি বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন তার খামার। সঠিক লালন-পালন আর পরিচর্যা করতে না পারায় শুরুর দিকে কিছু বাচ্চা মারা যায়।

বর্তমানে তার খামারে পাঁচ প্রজাতির (কোবরা নাজা নাজা, কমন ক্রেইট, কিং কোবরা, রাসেল ভাইপার ও পাইথন) প্রায় আড়াই শতাধিক সাপ রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা, সাপের খাবার সংগ্রহ ও সন্ধান মিললে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাপ ধরে নিয়ে আসার কাজে রাজ্জাকের রয়েছে সাতজন শ্রমিক। রাজ্জাক জানান, তার খামারে সাপগুলো বেড়ে উঠছে উপযুক্ত পরিবেশে।

সাপের খাওয়ানোর কাজটি বেশির ভাগ সময়ে তিনি নিজের হাতে করে থাকেন। তিনি বলেন, আমি সাপের খাবার রাতে দেই। কারণ সাপ অন্ধকারে ভালো খায়। এদিকে সাপ দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমান। তারা দেখেন সাপ নিয়ে রাজ্জাকের খেলা। তার মুখেই মানুষ শোনেন সাপের অজানা তথ্য ও অপার সম্ভাবনার গল্প।

অন্যদিকে পটুয়াখালীর পাশাপাশি বেশ কিছুদিন আগে কয়েকজন তরুণের সাহসী উদ্যোগে রাজবাড়ীতে গড়ে ওঠে বিষধর সাপের খামার। এ জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের কাঁসাদহ গ্রামে কয়েক প্রজাতির বিষধর সাপ নিয়ে গড়ে ওঠে এ খামার। প্রথমে এলাকাবাসীর নানা কটূক্তি শুনলেও এখন নানা রকম বাহবা পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসীও। পরীক্ষামূলকভাবে ৮৩ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘রাজবাড়ী স্নেক ফার্ম’ নামের এ খামারে শুরুতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০টি বিষাক্ত সাপ ছিল। কয়েকবার গোখরা সাপের ডিম থেকে কয়েকশ’ বাচ্চাও পাওয়া গেছে। খামারের প্রধান উদ্যোক্তা মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু বলেন, চাচাতো ভাই ডাক্তার, তাই সাপ নিয়ে তার কিছু পরামর্শ আমাকে এ খামার করতে উৎসাহ জোগায়।

এরপর ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ও ডিসকভারি চ্যানেলে সাপের অনুষ্ঠানগুলো নিয়মিত দেখতে থাকি। সেই সঙ্গে ইন্টারনেটে তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। এরপর রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক নুরুজ্জামান স্যার ও তার ছাত্র তন্ময় সরকারসহ আমার কয়েক বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেই এ খামার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেই।

পরে পটুয়াখালীর সাপের খামারি আবদুর রাজ্জাক এবং রাজশাহীর বোরহান বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে দিক-নির্দেশনা দেন। সরেজমিন খামারে গিয়ে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক বিষাক্ত সাপগুলোকে আলাদাভাবে একটি ঘরের ভিতরে খণ্ড খণ্ড হাউসে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এ খামারে স্থান পেয়েছে পাঁচ প্রজাতির প্রায় অর্ধ শতাধিক সাপ।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইন্ডিয়ান র‌্যাট স্নেক বা দাঁরাজ, ইন্ডিয়ান কোবরা নাজা নাজা, রাসেল ভাইপার, পাইথন বা অজগর এবং স্যান্ডবোয়া বা বালুবোড়া। এসব সাপের অধিকাংশই সংগ্রহ করা হয়েছে আশপাশের স্থানীয় বিভিন্ন বাসাবাড়ি বা জঙ্গল থেকে। এলাকায় এমন সাপের খামার থাকায় আনন্দিত এলাকাবাসী। এখন কোথাও সাপের দেখা পেলেই খবর দেন এখানে।

সাপ রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচর্যার জন্য এখানে রয়েছেন চারজন কর্মচারী। বিষাক্ত প্রাপ্তবয়স্ক সাপগুলোকে সপ্তাহে একদিন খাওয়ানো হয় বয়লারের বাচ্চা (একদিন বয়সের), ব্যাঙ, ইঁদুর বা পোকামাকড়। আর বাচ্চা সাপগুলোকে খাওয়ানো হয় কেঁচো ও আলোর ফাঁদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা বিভিন্ন পোকামাকড়।

রঞ্জুর নিজস্ব অর্থায়নেই চলছে এ খামার। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই খামারে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে তিনজন কর্মচারী রয়েছে এবং মাসিক খরচ প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। এ ছাড়া সাপের খামারের পাশাপাশি কেঁচোর চাষ করে আদর্শ জৈব সার উৎপাদনের একটি খামারও তৈরি করেছেন রঞ্জু।

দুই খামারির যত স্বপ্ন ও প্রতিকূলতা: দেশে বেশ কয়েকটি সাপের খামার গড়ে উঠলেও রয়েছে নানা প্রতিকূলতা। খামার শুরুর পর সরকারের পক্ষ থেকে সাপের বিষ রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা শুনেই অনুপ্রাণিত হন পটুয়াখালীর আবদুর রাজ্জাক। কিন্তু সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় বিষ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেতে পারছেন না রাজ্জাক।

নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় কিছু বেকার যুবককে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন এই খামার। তবে দীর্ঘ ১৭ বছরেও বিষ রপ্তানির জন্য সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় হতাশ এই উদ্যোক্তা। তিনি জানান, বিষ রপ্তানির অনুমোদন পেলে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব। আর স্বল্প পুঁজিতে সাপের খামার করে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব।

এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে সংসদে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তা ইতিবাচকভাবে নেন এবং সাপ লালন-পালন, সাপের বিষ সংগ্রহ এবং সাপুড়েদের বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজ্জাক বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে একটি গেজেট প্রকাশ করে।

সরকারের উদ্যোগের পরেই মূলত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার প্রতিষ্ঠার দিকে পুরোপুরি নজর দেই। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন পরিচালক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ‘ছাড়পত্রের’ জন্য সেটি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

কিন্তু এক অজানা কারণে থমকে আছে অনুমোদনের বিষয়টি। এদিকে খামারের উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন নিয়ে রাজবাড়ী স্নেক ফার্মের উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম রঞ্জু বলেন, সরকারের সহযোগিতা ও নিবন্ধন পেলে খামারে সংগৃহীত বিষ দিয়ে এন্টিভেনাম উৎপাদন সম্ভব হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে বিষ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অজন করা সম্ভব হবে।

খামার ও বিষ রপ্তানির অনুমোদন নিয়ে শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রঞ্জুু। সমবায় অধিদফতরের মাধ্যমে তিনি খামারের অনুমোদন পেয়েছেন। তবে এখন প্রয়োজন বিষ রপ্তানির অনুমোদন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে এ ব্যাপারে রঞ্জু বলেন, এখন শুধু সাপের বিষ সংরক্ষণ ও তা রপ্তানির সুযোগ চাই। সরকার এদিকে দৃষ্টি দিলে সমুদ্র বিজয় থেকেও বড় বিজয় ঘটবে বাংলাদেশে।

এটিকে যদি শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা যায় তবে তা পোশাক শিল্প থেকেও বড় ক্ষেত্র তৈরি করবে। তিনি বলেন, সাপের বিষের মাধ্যমে ওষুধ শিল্পে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এটাকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি একসময় বাংলাদেশের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ হবে। এ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে রঞ্জু বলেন, কোবরা নাজা নাজ সাপের এক গ্রাম বিষের দাম ৩৫০ ডলার (সময়ভেদে)।

সঠিক পরিচর্যায় এক মাসে একটি সাপ থেকে দুবার বিষ সংগ্রহ করা যাবে যা প্রায় এক গ্রাম বিষের সমান। সরকারি অনুমোদন পেলে বাণিজ্যিকভাবে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন রঞ্জু। তিনি বলেন, বিষ রপ্তানির অনুমোদন পেলে আমরা এক হাজার সাপ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে খামার চালু করব।

এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আসবে তেমনি সরকারের ট্যাক্সও বাড়বে। সেই সঙ্গে বেকারত্ব দূর হবে। এমনকি বেদে পল্লীর সাপুড়েদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, শুধু অনুমোদন দিলেই চলবে না। সরকারের এদিকে নজরদারিও বাড়াতে হবে। খামারের সাপের তালিকা রাখতে হবে। সাপ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাচ্চার সংখ্যা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তা না হলে খামারের নাম করে অসাধু চক্র অবাধে সাপ বা সাপের চামড়া, মাংস ও বিষ বিদেশে পাচার করতে পারে। এদিকে এমন বিষাক্ত সাপের খামার রক্ষণাবেক্ষণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণনাশের মতো দুর্ঘটনা। পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে এন্টিভেনম থাকলেও রাজবাড়ীতে নেই।

তাই শিগগিরই সদর হাসপাতালে এন্টিভেনম রাখার দাবি জানিয়েছেন রঞ্জু বিশ্বাস। রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন ডা. রহিম বক্স বলেন, সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরে বিষয়টি জানিয়ে নতুন প্রতিষেধক চেয়েছি। আপাতত কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা ফরিদপুরে রেফার করছি।

ঘোড়ার রক্ত থেকে সাপের এন্টিভেনম: সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সাপের বিষ থেকেই সাপের এন্টিভেনম তৈরি হয়। ঠিক কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতোই ব্যাপারটা। পৃথিবীতে খুব অল্পসংখ্যক প্রাণী নিজের শরীরে সাপের বিষ প্রতিরোধের ওষুধ তৈরি করতে পারে। যেমন : গাধা, ভেড়া, উট ও ঘোড়া। বেশি রক্ত এবং অনেকদিন বেঁচে থাকা আর বারবার ব্যবহার করা যায় বলে বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে এন্টিভেনম উৎপাদনের জন্য ঘোড়ার ব্যবহার সর্বাধিক।

এন্টিভেনম তৈরির জন্য প্রথমে সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয়। এরপর প্রথমে সুস্থ-সবল ঘোড়া নির্বাচন করে কয়েক ধাপে সাপের বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাত্রায় ধমনিতে প্রবেশ করানো হয়। এভাবে বেশ কয়েক মাস পর সেই ঘোড়ার রক্তে শক্তিশালী এন্টিবডি তৈরি হয়ে যায়।

এরপর সেই ঘোড়া থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তা থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রক্তকণিকাগুলো পৃথক করে রক্তের এন্টিবডি আলাদা করা হয়। আলাদাকৃত এই এন্টিবডিই সাপের বিষের একমাত্র ওষুধ ‘এন্টিভেনম’। এরপর এটির শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাজারজাত করা হয়। ঘোড়া বেশ স্বাস্থ্যবান এবং অনেক রক্ত থাকে বলে বেশি পরিমাণে রক্ত নিলেও ঘোড়ার তেমন ক্ষতি হয় না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Check for details
SHARE