সল্পপুঁজিতে অধিক লাভের ব্যবসা রাবারের স্যান্ডেল তৈরী!

সব শ্রেণির মানুষের কাছেই রাবারের স্যান্ডেলের চাহিদা রয়েছে। অল্প বিনিয়োগ করে স্যান্ডেলের কারখানা স্থাপন করে আপনিও হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা। চআমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা প্রায় সবাই রবারের স্যান্ডেল ব্যবহার করে থাকি। বিশেষ করে আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারীরা প্রায় সারা বছরই রবারের স্যান্ডেল ব্যবহার করে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে গ্রামের রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়।

কাদা-পানিতে চামড়া ও কাপড়ের স্যান্ডেল সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু রবারের তৈরি স্যান্ডেল সহজে নষ্ট হয় না। এ জন্য গ্রামে রবারের স্যান্ডেল খুব জনপ্রিয়। এ ছাড়া বর্ষাকালে শহরের মানুষও রবারের স্যান্ডেল ব্যবহার করে। শীতকালেও কমবেশি এর চাহিদা থাকে। বলা যায়, সব শ্রেণীর মানুষের কাছে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিস্তারিত।

প্রশিক্ষণ: রবারের স্যান্ডেল তৈরির জন্য তেমন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। তবে ব্যবসা শুরুর আগে কিছুদিন রবারের স্যান্ডেল তৈরির কারখানায় কাজ করলে কাজটা শিখে নেওয়া যাবে এবং ব্যবসার খুঁটিনাটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

স্থান নির্বাচন: রবারের স্যান্ডেল উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপন করতে হবে। যেখানে সড়ক বা নদীপথে মোটামুটি ভালো যোগাযোগব্যবস্থা আছে সে রকম জায়গায় রবারের স্যান্ডেল তৈরির কারখানা স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া এ প্রকল্পের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা আছে সে রকম এলাকায় কারখানা স্থাপন করতে হবে।

মূলধন: রবারে স্যান্ডেল তৈরির জন্য স্থায়ী উপকরণ কিনতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া ২০০ জোড়া স্যান্ডেল তৈরির জন্য ৬ হাজার ১০ থেকে ৬ হাজার ৪৬৫ টাকার প্রয়োজন হবে। কারখানা স্থাপনের সময় জমি, পজিশন ইত্যাদির জন্য আলাদা টাকার প্রয়োজন হবে।

তাই চার-পাঁচজন উদ্যোক্তা একসঙ্গে মিলে রবারের স্যান্ডেল তৈরির প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে। যদি ব্যক্তিগত পুঁজি না থাকে, তাহলে মূলধন সংগ্রহের জন্য নিকটাত্মীয়স্বজন, ব্যাংক বা বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ: রবারের স্যান্ডেল তৈরিতে খুব একটা দামি যন্ত্রপাতি লাগে না। কিছু স্থায়ী যন্ত্রপাতি কিনতে হবে। যেমন; রোলার, হান্টার, কাটার মেশিন, হাইড্রোলিক প্রেস, সেলাই মেশিন, হাতুড়ি, ডাইস বা ডিজাইন মেশিন, ফ্রেম মেশিন ইত্যাদি।

ছোট আকারে শুরু করার জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ ব্যয় করতে হবে। লাগবে রবার, রেক্সিন, চায়না কে, পেস্টিং, ফোম, বেলি, মবিল প্রভৃতি কাঁচামাল। পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার, জুরাইন, চকবাজার, মালিটোলায় ও চট্টগ্রামের সদরঘাটের দারোগাহাট রোডে এসব যন্ত্রপাতি ও উপকরণ পাওয়া যাবে।

প্রস্তুত প্রণালি: রবারের স্যান্ডেল তৈরির জন্য প্রথমে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে। কাঁচামাল সংগ্রহের পর তা পরিশোধন করতে হবে। এর পর ইভা ক্যালসিয়াম, রবার বেল, চায়না কে, ক্যালসিয়াম ও এভি ক্যালসিয়াম মিকশ্চার মেশিনে নিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে এবং মন্ড তৈরি করতে হবে। মন্ড রোলার মেশিনে দিয়ে সরু রবার শিট তৈরি করতে হবে এবং তা এক জায়গায় করতে হবে। সরু রবার শিটগুলো এর পর হাইড্রোলিক প্রেসে দিয়ে পরিপূর্ণ রবার শিট উৎপাদন করতে হবে।

নিজে তৈরি না করলে বাজার থেকে রবার শিট মিটার হিসেবে কিনে নিতে হবে। রবারের স্যান্ডেল তৈরির আগে মাপ অনুযায়ী ডাইস তৈরি করে নিতে হবে। এবার ডাইসে বসিয়ে কাটার মেশিনের সাহায্যে স্যান্ডেলের নিচের সোল তৈরি করতে হবে। সোল তৈরি হয়ে গেলে রোলার দিয়ে পালিশ করে নিতে হবে। শেষে রবারের শিট কেটে বিভিন্ন মাপ অনুযায়ী ফিতা তৈরি করে স্যান্ডেলে লাগাতে হবে।

স্যান্ডেল তৈরির সময় মাপ ঠিক রেখে বানাতে হবে। মাঝারি মানের স্যান্ডেল বেশি বানাতে হবে। খুব বড় বা ছোট মাপের স্যান্ডেল বেশি তৈরি না করাই ভালো। মোটামুটি গড় মাপের কথা চিন্তা করে রবারের স্যান্ডেল তৈরি করতে হবে। স্যান্ডেল তৈরি কারখানার বর্জ্য পদার্থ পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই যথাযথভাবে বর্জ্য নিষ্কাশন এবং পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

বাজারজাতকরণ: পাইকারি দরে কারখানা থেকে স্যান্ডেল কেনেন ব্যবসায়ীরা। নিজস্ব খুচরা বিপণনব্যবস্থা থাকলে নিজেই খুচরা বিক্রি করা সম্ভব।

আয়: অন্যান্য ব্যবসার মতো স্থায়ী উপকরণগুলো একবার কিনলেই চলে। ব্যবসার শুরুতেই যেহেতু এ খরচ হয়ে যায়, তাই পরবর্তী সময় শুধু কাঁচামাল আর শ্রমিকের মজুরি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সাধারণত একজন কারিগর দৈনিক তিন থেকে চার ডজন স্যান্ডেল তৈরি করতে পারেন। প্রতি ডজন স্যান্ডেলের সব খরচ বাদ দিলে ৪০-৫০ টাকা লাভ থাকে। ভালোভাবে কারখানা চালালে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: আমাদের সময় ডটকম।

Check for details
SHARE