সফল হতে নিজের রিসোর্স ব্যবহার করতে শিখুন

পাশাপাশি দুই রাজ্য। সামান্য ব্যপার নিয়েও দুই রাজ্যের ভেতর যুদ্ধ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যপার। কিন্তু জয়ী দল বরাবরই একপক্ষ। কারন উত্তরের রাজ্যে লোহা পাওয়া যায় তাই তারা সহজেই লোহার তৈরি তলোয়ার ব্যবহার করতে পারে। আরেক রাজ্যে শুধুই বন জংগল। তারা তৈরি করে কাঠের তলোয়ার। স্বাভাবিক ভাবেই লোহার তলোয়া্রের সামনে কাঠের তলোয়ার দাড়াতেই পারেনা। তাই রনকৌশল যতই ভালো হোক দক্ষিনের রাজ্য বরাবরই পরাজিত হয় উত্তরের কাছে।

দক্ষিনের রাজার তাই কপালে ভাজ। ডাকা হলো রাজার সব উপদেষ্টাদের। সবাই মিলে সিদ্ধান্তে এল সৈনিকদের আরো বেশি শক্তিশালী করতে হবে। রাজ্যে তৈরি করা হলো নতুন নতুন জিম বা ব্যায়ামাগার। সৈনিকরা আরো শক্তিশালী হলো। আবার যুদ্ধ। ফলাফল আবারো একই।

আবার ডাকা হলো মিটিং। এবার এক উপদেস্টা জানালো উওরের রাজ্য থেকে চুরি করে আনতে হবে লোহা। সেই লোহা দিয়ে তৈরি হবে লোহার তলোয়ার। রাজা বললেন তথাস্তু। শুরু হলো গুপ্ত পথে উত্তরের রাজ্য থেকে লোহা চুরির কার্যক্রম। মাস যায় বছর যায় কিন্তু একটা তলোয়ার বানানোর মত লোহাও আসেনা দক্ষিনের রাজ্যে। উল্টো দক্ষিনের অনেক লোক ধরা পড়ে লোহা চুরি করতে যেয়ে।

রাজা আর ভুল করতে রাজি নন। আনা হলো বিদেশী কন্সালটেন্ট। গোনা হলো কাড়ি কাড়ি টাকা। কিন্তু কিসের কি! পরাজয় যে পিছু ছাড়েনা।

দক্ষিনের রাজা যখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন ঠিক সেইসময় একদিন রাজসভায় হাজির হলো রাজ্যের খুব সাধারন এক নাগরিক যার হাতে সবসময় বই থাকে বলে সবাই তাকে অকর্মা হিসেবে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে। রাজাকে সে জানালো সে পারবে তার রাজ্যের পরাজয় ঠেকাতে। তার কথা শুনে সকলে হেসে উঠল। এত বড় বড় মানুষেরা যা পারেনি তা কিনা করবে এই ছেলে! হুহ কারো তো আর খেয়ে বসে কাজ নেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাজা মেনে নিল তার প্রস্তাব। সাধারন ছেলেটির অধীনে শুরু হলো নতুন প্রজেক্ট। জংগল থেকে কাটা হলো কাঠ, কাটা হলো বাশ। তৈরি হলো সম্পুর্ন নতুন দুই অস্ত্র। তীর আর বরশা যেখানে লোহার ব্যবহার কম আর কাঠের ব্যবহার বেশি। রাজা দেখলেন আর বুঝলেন কাউকে কিছু বললেন না।

এর পরের যুদ্ধ ছিল ইতিহাস। বরাবরের মতই উত্তরের রাজা যুদ্ধে এলেন পিকনিক আমেজে। দক্ষিনের অসহায় আত্নসমর্পন তার কাছে নিখাদ বিনোদন। শুরু হলো যুদ্ধ। কিন্তু একি! উত্তরের রাজা অবাক বিস্ময়ে দেখলেন কাঠের তলোয়ার হাতে দক্ষিণের সৈন্যদের বদলে তাদের দিকে ছুটে আসছে অসংখ্য কাঠের শলাকা, যার নাম তীর। হাজার হাজার। লাখ লাখ। যা সামলানোর ক্ষমতা তাদের নেই। ইতিহাস প্রথমবারের মত দেখল যুদ্ধে তীরের ব্যবহার আর উত্তরের রাজা দেখল তার প্রথম পরাজয় যা ছিল উত্তরের ধারাবাহিক পরাজয়ের সুচনা মাত্র।

উত্তরের রাজা মৃত্যুর সময় তার পুত্রকে বলে যান কখনই যেন দক্ষিনের সাথে যুদ্ধ না করে। কারন যে জাতি নিজেদের রিসোর্স ব্যবহার করা শিখে যায় আর উপযুক্ত মেধাবীদেরকে দায়িত্ব দিয়ে সামনে জায়গা করে দেয় তাদেরকে হারানো অসম্ভব।

(সংগৃহীত)
তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট।

Check for details
SHARE