সফলতা ব্যর্থতার আপেক্ষিকতা

সফলতা ব্যর্থতা বিষয়গুলো মারাত্নক রকমের আপেক্ষিক। নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি নাই, নাই কোন হিসাব। কর্মক্ষেত্রে শতভাগ সঠিক পথে নিজেকে পরিচালনা করার হার ও নেহায়তই কম। তাহলে?

চাকরি জীবনে সেলারি, আবার পার্ফমেন্স ঘাটতি থাকলে সেলারি কর্তন, উচ্চপদস্থ হতে হতে জীবনের অর্ধেক সময় শেষ। ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা ঘাত প্রতিঘাত সয়ে তের ঘাটের জল খেয়ে আধাপাকা চুল নিয়ে সফলতা প্রত্যাশি হতে হয়।

যে নারী তার জন্য সুযোগ আছে, যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তার জন্য সুযোগ আছে, যার কিছু নাই একদমই ভিটাহীন তার জন্যও কিন্তু সুযোগ আছে। মাঝ খানে একটা বাদ পরে গেছে মধ্যবিত্ত। চাল চুলাটা তার আছে, সরকারী কলেজে পরে টুকটাক করে এগুচ্ছে তার জন্য এই রাষ্ট্রের কি আছে?!

একটা সম্প্রদায় আছে আরেক ফ্যাকরাতে। কিছু একটা ছোট খাটো চাকরি বা, ছোট একটা ব্যবসা আছে। তাতে দিন এনে দিন খেয়ে যাচ্ছে, মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে কিন্তু জীবনে উন্নতি আর হচ্ছে না।

যা বললাম সবই হতাশাজনক কথাবার্তা, এবং সত্যি সত্যিই সমাজের বিশাল একটা অংশ এই কয়েকটার মধ্যেই আটকে আছে। জীবন অনেক সমস্যাময় এটা মেনে নিয়েই সবাই এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে, ছোট ছোট কিছু বিষয় অনেককিছু বদলে দিতে পারে। আপনি সারাদিন ঘুমিয়ে থাকলেন, আপনি জানলেন ই না কি দুদার্ন্ত সুযোগ আপনি আজকে মিস করে গেলেন। ইউনিক ইউনিক খুজতে খুজতে কিছু মানুষ জীবনের অর্ধেক পার করে দেয় কিছু না করেই। সবাইকে ইউনিক কিছু করতে হবে কে বলেছে? ধরে নেন আপনার মাথায় গোবর। খুবই প্রচলিত কিছুই করেন। কারন, ব্যবসায় সব কিছুই ইউনিকনেসের উপর না। চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে প্রচলিত যেকোন কিছু করেও কত বড় হওয়া যায় সে ধারনা আপনার নাই।

মেঘনা গ্রুপের বার্ষিক রেভিনিউ ৩০০ মিলিয়ন ডলার। এই কোম্পানীর মালিক মোস্তফা কামাল সাহেব একসময় চাল, ডাল, ময়দা পুরান ঢাকা থেকে কিনে মিরপুরের দিকে বিক্রি করেই যা লাভ হতো সেটা দিয়ে জীবন চালাতেন। সে ই একই কাজ এখনও করেন তবে পার্থক্য হচ্ছে আগে স্থান পরিবর্তন করে বিক্রি করতেন আর এখন তিনি উৎপাদন করেন। জীবনের শুরুতেই যেমন বিএসসি ডিগ্রী হয় না তেমনি উৎপাদন ও চাইলেই করা যায় না।

জীবনের ছোট ছোট বদঅভ্যাস গুলো পরিত্যাগ করে ১০ গুণের বেশি প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে যেকোন মূল্যে কথা দিয়ে কথা রাখার চেষ্টা করুন কারন কাস্টমার আপনার জীবনের মূল ভিত্তি। বরখেয়াল করে নিজেকে মূল্যহীন করে দিবেন না।

আপনার যতোই ডিগ্রী থাকুক অভিজ্ঞতা অর্জন করা ছাড়া সঠিক পথে আগানো প্রায় অসম্ভব। তাই, ২/৩ দিনে অন্তৎ ২/৩ পৃষ্ঠা হলেও আপনার ফিল্ডের বইপত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করুন। ওই ফিল্ডের বিশেষজ্ঞদের বই পড়ুন। সামান্য কিছু পৃষ্ঠা আপনাকে একটা মানুষের জীবনের ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে দিবে।

পরিশেষে, ব্যর্থ হওয়ার পর ভাবুন ব্যর্থ হওয়ার যোগ্যতা বা, ভাগ্য সবার হয় না। আপনি সৌভাগ্যবান কারন আপনি ব্যর্থতার স্বাদ পেয়েছেন। আর, সফলতা শুধুমাত্র তার জন্য যে ব্যর্থতার স্বাদ পায়। দুটি ধাপের প্রথম ধাপ আপনার কমপ্লিট হয়ে গেলো।

লেখক: এম এইচ মেহেদী/ হেড অব অপারেশন ”ধ্রুব টেক”।

Check for details
SHARE