সতেচন হোন, গরমে হীট স্ট্রোক হলে কি করবেন…?

10418934_685356864919998_2168568327615868009_nগ্রীষ্মের এই প্রচন্ড গরমে হীট স্ট্রোক খুব কমন একটা সমস্যা। গরমের দিনে প্রচন্ড রোদে অফিস আদালতে বা স্কুল কলেজে  যাবার পথে কিংবা হাটে-বাজারে ও বিশেষ করে যেসব এলাকায় রাস্তার পাশে গাছ-পালা খুবই কম, পথ চলতে চলতে হঠাৎ করে নিজে বা অন্য কেউ এতে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। এমনকি দূরবর্তী যাত্রাপথে বাসে ট্রেনেও এই সমস্যায় পড়লে খুব অবাক হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি খুবই জরুরী একটি অবস্থা এবং তাৎক্ষণিক ব্যাবস্থা নেওয়া খুবই জরুরী। তাই নিজেকে ও অপরকে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষার জন্য আসুন কিছু দরকারি তথ্য জেনে নেই:

হীট স্ট্রোক কি:
কোন কারনে দেহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে শরীরিক কিছু লক্ষণ প্রকাশের সাথে সাথে স্নায়ু-তন্ত্রেরও কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়- সংক্ষেপে একে হিট-স্ট্রোক বলে।

হিট-স্ট্রোক মূলত দু-ধরনের:
১. ক্ল্যাসিকাল বা চিরায়ত হিট-স্ট্রোক
২. এর্ক্সাসাইজ -ইনডিউস্ড বা শরীরচর্চা/পরিশ্রম জনিত হিট-স্ট্রোক।

কিভাবে বুঝবেন বা উপসর্গ:

কিছু খুব কমন লক্ষন দেখে আপনি হীট স্ট্রোক নির্নয় করতে পারেন-
১. শরীরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যাওয়া (পায়ু পথে ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড/ ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট হতে ৪১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড/ ১০৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট কিংবা কখনো কখনো আরও বেশি হতে পারে)।
২. ঘাম না হওয়ায় গায়ের ত্বক তপ্ত, শুষ্ক ও লাল হয়ে ওঠা।
৩. নাড়ীর স্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া।
৫. অস্বাভাবিক আচরণ করা।
৬. দৃষ্টিভ্রম অর্থাৎ কল্পিত কিছু দেখার অভিব্যক্তি প্রকাশ করা।
৭. বিভ্রান্তি বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার সৃষ্টি হওয়া।
৮. উত্তেজিত বা অস্থির ভাব প্রকাশ পাওয়া।
৯. খিঁচুনি হওয়া।
১০. গাঢ় নিদ্রাচ্ছন্নতা বা অচেতন হয়ে যাওয়া।
১১. চোখের তারারন্ধ্র সংকুচিত হয়ে আসা।
এগুলোর কোন একটি লক্ষন দেখা দিলেই সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে
কিছু প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি আপনার বা আপনার নিকট জনের জীবন বাঁচাতে পারেন

করণীয় :
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত  ঠান্ডা স্থানে নিয়ে আসতে হবে।
২. তাকে চিত করে শুইয়ে পা  ও নিতম্ব কিছুটা উঁচুতে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. ফ্যানের নিচে কিংবা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে নিতে পারলে আরও ভাল হয়। কাছাকাছি ফ্যান না থাকলে অন্তত ছায়াঘেরা কোন যায়গায় রাখতে হবে, এমনকি গাছের ছায়া হলেও
৪. যথাসম্ভব শরীরের কাপড় খুলে ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে অথবা বড় তোয়ালে ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে সমস্ত শরীর স্পঞ্জ করে দিতে হবে।
৫.  খেতে পারলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘন ঘন পানি ও তরল খাবার দিতে হবে।
৬. মাঝে মাঝে শরীরের তাপমাত্রা মেপে দিখতে হবে এবং ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইটে না নামা পর্যন্ত ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চালু রাখতে হব

তবে আগে থেকে ব্যাবস্থা নিলে আমরা এই বিপর্জয় এড়াতে পারি। আসুন জেনে নিই হীট স্ট্রোক প্রতিরোধের কিছু উপায় :

১. গ্রীষ্ম কালে অতিরীক্ত ঘাম হয়। তাই কিছুক্ষণ পর পর বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, সরবত, ফলের জুছ ইত্যাদি পান করতে হবে।
২.  যাদের লো-ব্লাডপ্রেসারের টেনডেন্সি রয়েছে তাদের জন্য আহারের সময় সামান্য পরিমাণে কাচা লবন খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। বেশ দূর্বল লাগলে তারা মাঝে মাঝে খাবার স্যালাইনও খেতে পারেন।
৩. প্রচন্ড রোদে একনাগাড়ে বেশি সময় ধরে পরিশ্রম ও ভারি কাজ না করে মাঝে মাঝে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিতে হবে।
৪. গ্রীষ্ণকালে  সাদা বা হালকা রঙের পোষাক পরিধান করুন।
৫. বেশি সময়ের জন্য রোদে বের হলে সঙ্গে ছাতা রাখুন।
৬. অসহ্য গরম থেকে রক্ষা পেতে দরকারে দিনে দু-তিন বার গোসল করুন।
৭. প্রচন্ড রোদে রাস্তা-ঘাটে চলাফেরার সময় মাঝে মাঝে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিন এবং পানি পান করুন

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন যে আমাদের একটু সচেতনতাই পারে আমাদের গরমে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে। তাই হীট স্ট্রোক সম্পর্কে নিজে জানুন, সচেতন হোন এবং অপরকেও জানান।

লেখক: ফারিয়া হৃদি
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়।

Check for details
SHARE