শিশুদের মূত্রনালী সংক্রমণের লক্ষণ এবং করনীয়

প্রায়ই শিশুদের মূত্রনালীর সংক্রমণ হয়ে থাকে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১১ বছরের কম বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগের হার যথাক্রমে শতকরা ১.১ ও ৩ ভাগ। তার মধ্যে ৪০ শতাংশের মূত্রনালীর সংক্রমণ বারবার হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগের সঠিক চিকিৎসা অবহেলিত হয়।

ফলে বারবার সংক্রমণে শিশুর ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে এবং কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতএব শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য মূত্রনালীর সংক্রমণ হওয়ার সাথে সাথে এর সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অতি জরুরি।
মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গগুলো :
রোগীর বয়স ও মূত্রনালীর উপরিভাগ অথবা নিম্নভাগ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন মূত্রনালীর উপরিভাগের সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে ওপর পেটে অথবা পেটের পেছন দিকে ব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া করা এবং ওজনে বৃদ্ধি না হওয়া প্রভৃতি। মূত্রনালীর নিম্নভাগের সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া করা, ঘন ঘন প্রসাব ইত্যাদি। আবার বয়স অনুযায়ী লক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে; যেমন : নবজাতকের মূত্রনালীর সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে কম আহার গ্রহণ, ওজন বৃদ্ধি না হওয়া, বমি, জন্ডিস ও ডায়রিয়া।

এ বয়সের শিশুদের জ্বর নাও হতে পারে। অন্য দিকে এক মাস থেকে এক বছর বয়সের শিশুদের মূত্রনালীর সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে জ্বর, প্রস্রাব করার সময় কান্নাকাটি করা, ওজনে বৃদ্ধি না হওয়া, ডায়রিয়া, বমি, ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব এবং সরু নালীর প্রস্রাব প্রভৃতি। এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মূত্রনালীর সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, পেটে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া করা, বিছানায় প্রস্রাব করা, ওজনে বৃদ্ধি না হওয়া এবং জ্বরের সাথে খিঁচুনি অন্যতম।

যেহেতু এক বছরের নিচে বয়সের শিশুদের সংক্রমণের লক্ষণগুলো অন্য বয়সের শিশুদের মতো নয়, তাই এ বয়সের শিশুদের যেকোনো অসুস্থার সময় প্রস্রাব পরীক্ষা করা দেখতে হয় সংক্রমণ হয়েছে কি না, হলে শিশু কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে অতিসত্বর এর চিকিৎসা প্রয়োজন। কারণ শিশুদের কিডনিগুলো সংক্রমণজনিত কারণে সহজেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো কারণেই সন্দেহ হওয়ামাত্রই প্রস্রাব পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। প্রস্রাব পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় সংক্রমণ হয়েছে, তবে উপযুক্ত জীবাণুনাশক ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। আরো অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হয় শিশুর কিডনি ও মূত্রনালীর গঠনগত ত্রুটি আছে কি না এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। এসব ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা এবং কিডনি ও মূত্রনালীর শারীরিক গঠন বিভিন্ন ধরনের এক্সরে দিয়ে পরীক্ষা করা প্রয়োজন এবং তা অবশ্যই করণীয়।

এ ধরনের অসুস্থতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অপরিহার্য। প্রস্রাব করার পরও মূত্রনালীতে কিছু পরিমাণ প্রস্রাব জমে থাকা, প্রস্রাব আটকিয়ে রাখা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের পর মলদ্বার ঠিকমতো পরিষ্কার না করা, সংক্রমণের অসম্পূর্ণ চিকিৎসা ইত্যাদি কারণে বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে। অতএব প্রস্রাবে সংক্রমণ এড়াতে হলে ওপরের বিষয়ের যথাযথ চিকিৎসা এবং শিশুকে মলমূত্র ত্যাগ সম্পর্কে স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা দেয়া দরকার। যেসব শিশুর প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়, তাদের প্রস্রাব অন্তত প্রতি তিন মাসে একবার পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি বারবার সংক্রমণ হয়, তা হলে স্বল্পমাত্রার উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত প্রয়োগ করতে হয়।

এর ফলে শিশু ভবিষ্যতে কিডনির মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। মনে রাখা দরকার, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের সঠিক চিকিৎসার অভাবেই কিডনির কার্যকারিতার ব্যাঘাত ঘটে এবং তা পরিলক্ষিত হয় যখন শিশুটির পরিণত বয়স্ক যুবক।

তথ্যসুত্র: সু-নাগরিক ডটনেট।

Check for details
SHARE