লেখাপড়া শেষে চাকরী নয়! কেন এই চিন্তাটি করতে পারছি না?

বেশীরভাগ শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের আকাংখা থাকে পড়াশুনা শেষ করে তারা বড় চাকুরে হবে। বিয়ের বাজারে মেয়ের বাবা মায়ের অবশ্য একই প্রত্যাশা জামাই ব্যবসায়ী হলে চলবে না। তাকে অফিসার হতে হবে। হোক সে মার্কেটিং অফিসার কিংবা সিকিউরিটি অফিসার! অফিসার তো! বড় কোম্পানীর অফিসার!

ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তো ছোটবেলার স্বপ্ন। গত কয়েক বছরে যোগ হয়েছে বিসিএস ক্যাডার! যারা জায়গা করে নিতে পারে তারা ভাগ্যবান। আর যারা জায়গা করতে না পারে তাদের শেষ ভরসা এলএলবি ‍তো আছেই! ভাল লাগা ভালবাসার কাজ বলে এখানে কিছু নেই। এখানে সবকিছু ঠিক করে দেয়া হয় গার্ডিয়ান কৃর্তক সিলেবাসের মত।

আর আপনাকে তা উত্তীর্ণ হয়ে দেখাতে হয় প্রতিবেশীর সাথে টেক্কা দিয়ে! আপনিই সেরা কারন এখানে গোল্ডেন এ প্লাস দিয়ে আপনার মেধার মূল্যায়ন করা হয়। এখানে গার্ডিয়ান কর্তৃক বলা হয় তোমাকে আকাশে উড়তে হবে। কিন্তু বলা হয় না তোমার নিজের তৈরী বিমানে আকাশে উড়বে মানুষ! বলা হয় বড় হয়ে সমুদ্র বিজয়ী নাবিক হবে তুমি! বলা হয় না গভীর সমুদ্র থেকে মূল্যবান খনিজ উত্তোলনে তুমিই হবে সেরা!

এখানে বলা হয় সম্মানজনক চাকুরী, বলা হয় না ব্যবসায়ে সামাজিক মর্যাদা। বর্তমানে আমাদের মধ্যকার সত্বাও কেমন জানি ঘুমিয়ে গেছে। নতুন কোন কিছুতে কৌতুহল নেই। সব কিছু গতানুগতিক হয়ে গেছে। লক্ষটাই যেখানে চাকরী হয়েছে সেখানে বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে ছাড়া কমছে না! এতটুকু চিন্তা করার সময় নেই সবাই যদি চাকুরীকে জীবনের লক্ষ হিসেবে নেই তাহলে চাকরী দেবার মত প্রতিষ্ঠান গড়বে কারা।

অবশ্য পাশ করার পর কিছুটা হলেও চাপটা বুঝতে পারছে। অতিরিক্ত বেকাত্বের ফলে চাকরী প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যত চাকরী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে মালিকপক্ষ চাইছে তত কম বেতনে কর্মী নিয়োগ করতে। বেকারত্ব বাড়ছে চাকরীর নিরাপত্তা কমছে। কেন কমবে না বলেন একটা পোষ্ট খালি হয়েছে মানেই কয়েক শত লোকের সিভি জমা দেওয়ার জায়গা হয়েছে। বেতন কিন্তু অবশ্যই আলোচনা সাপেক্ষ!

মালিকপক্ষ আপনাকে দিয়ে বাড়তি সুবিধা আদায় করলেও আপনাকে মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে। কারন আপনি চাইলেই অন্য কোথাও চাকরীর ব্যবস্থা করতে পারছেন না। মালিকপক্ষ যখন বুঝেই গেছে আপনি নিরুপায় তখন অফিসের কাজের ফাইল বাসা পর্যন্ত পৌছানোতে তো দোষের কিছু দেখছিনা। সে যাই হোক নুন থেকে চুন খসলেই যখন চল্লিশের কোঠায় পড়ে চাকরী হারালেন তখন সামলে নিন ঠেলা!

একদিকে পরিবার অন্যদিকে আপনি বেকার, বৃদ্ধ মা-বাবার ওষুধের টাকা, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, সংসার খরচ অন্যদিকে নতুন চাকরীর জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ানোর অমানুষিক চাপ সহ্য করতে আপনি প্রস্তুত তো! মানুষের কাছ থেকে ঋণ করার অভ্যাস যাদের মোটেও নেই তাদের কাছের বন্ধুরাও যে এড়িয়ে চলবে সেটা দেখার জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। অবশ্য এই সুযোগে অনেকগুলো কাছের মানুষের মুখোশের আড়ালের মুখটা দেখে নিতে পারবেন।

সমস্যা হাজারও। সমাধানের পথও কিন্তু কম নয়। শুধু দরকার নিজের একটু সদিচ্ছা! পরিবারের কাছের মানুষগুলোর একটু সাপোর্ট। সবচেয়ে কম পুঁজি বিনিয়োগ করে খুব ছোট কিছু দিয়ে শুরু করলেও করতে হবে। কোন কাজ ছোট নয় এটা মুখে মুখে বুলি না আওড়িয়ে কাজে প্রমান করে দিন। লেখাপড়া শিখেছেন বলে যে চাষা হওয়া যাবে না এই চিন্তা বাদ দিন।

বিশ্বাস করেন আর নাই করেন চরম সত্য এটাই যে আপনি যদি আজ না খেয়ে থাকেন তবে কেউ আপনাকে এসে জিজ্ঞাসা করবে না খেয়েছো কিনা। তাহলে কেন সেই লোকগুলো কি বলবে সেটার চিন্তা করছেন। কেউ একজন এলাকায় ছোট একটা দোকান, পতিত জমিতে সবজির বাগান, পচা-মজা পুকুর পরিস্কার করে মাছ, কাকড়া, ঝিনুকের চাষ কিংবা ছাগল, গরু, হাস, মুরগী পালন করেও লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে নির্মল পরিবেশে সেখানে আপনি আট দশ হাজার টাকার একটা বেতনের চাকরী খুঁজতে খুঁজতে হয়রান দুষিত শহরে!

সফলতা মানেই শহুরে জীবনে বড় বিজনেস ম্যাগনেট হওয়া নয়। সফলতা মানে লক্ষ কোটি টাকার মালিক হওয়া নয়। সত্যিকার সফলতা তো সেটাই যেটা আত্মিক পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলে মনের গভীর থেকে প্রকাশ করে সুখে আছি। প্রতিটা দিনের জন্য বেঁচে থাকুন। প্রতিটা দিন কিভাবে এক একটি সফল দিনে পরিনত করা যায় সে পথে হাটুন। মোহভরা জীবন নয় বরং পরিতৃপ্ত জীবনের স্বস্তিটা অনুভব করুন। জীবন সহজ, জীবন সরল অযথা জীবনটাকে জটিল করতে যাবেন না। চেষ্টা করতে থাকুন আপনার জন্য যা বরাদ্দ তা আপনি অর্জন করে নিতে পারবেন।

লেখক: মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ
উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

Check for details
SHARE