রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর করনীয়….

ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় রোগ। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এই রোগ এ ভুগছে। ডায়বেটিস এমন একটি রোগ যা সারা জীবনের জন্য হয়। এ রোগ একবার হলে তা আর নিরাময় সম্ভব নয়। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়বেটিস রোগটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। জটিল এই রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে রক্তে সুগার বা চিনির পরিমান সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ডায়বেটিস রোগীর কি ধরনের সমস্যা হতে পারে চলুন সে সম্পর্কে একটু জেনে নিই।

-রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া কিংবা বেড়ে যাওয়া।
-রক্তে চর্বির পরিমান উচ্চ মাত্রায় বেড়ে যাওয়া।
-শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া।
-ঘন ঘন প্রশাবের কারনে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়া।

আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার রক্তে গ্লুকোজের পরিমান কমে গেছে…?
13435805_1781340758770591_550759021_n
-বুক ধড়ফড় করতে পারে।
-কখনও কখনও শরীর কাঁপতে পারে।
-অনেক বেশী শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা্
-বেশি বেশী ঘাম হওয়া
-কখন কখনও হটাৎ করে জ্ঞান হরিয়ে ফেলা।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়ঃ

-খাদ্য তালিকা থেকে শর্করা জাতীয় খাবারের পরিমান কমিয়ে দেয়া।
-মিষ্টি জাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া।
-শরীরের পানির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য থাদ্য তালিকায় শাক সবজির পরিমান বাড়িয়ে দেওয়া।
-প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করা।
-ডাক্তারের পরামর্শ অনুযয়ী ওষুধ নিয়মিত সঠিক সময়ে খাওয়া।
-ঘন ঘন গ্লুকোমিটার দিয়ে আপনার রক্তের সুগারের পরিমান টেষ্ট করুন।

কিভাবে বুঝবেন আপনার রোগটি নিয়ন্ত্রণে আছে:

-নিয়মিত সঠিক ভাবে আপনার ব্লাড প্রেসার মাপতে হবে।
-রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান বেশি আছে কিনা তা নিয়মিত চেক করতে হবে।
-ডায়বেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে আপনার চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন।
-অভুক্ত অবস্থায় রক্তের সুগার ৬ মিলিলিটার এবং খাওয়ার পর ৮ মিলিলিটার থাকা খুবই ভাল।
-HbA1c যদি ৭% পারসেন্ট থাকে তবে বুঝতে হবে গত ৩ মাসে আপনার ডায়াবেটিস খুব ভাল ভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে।

রক্তে গ্লুকোজের পরিমান কমে গেলে কি করবেন…?

-৪ থেকে ৮ চামচ গ্লুকোজ এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
-ডাক্তারের পরামর্শে ইঞ্জেকশন এ গ্লুকোজ জরুরী ভিত্তি তে পুশ করতে হবে।
-ডায়বেটিস রোগী রোজাদার হলে ওই মুহুর্তেই রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এটা খুবই ইমারজেন্সি।

রমজান মাসে ডায়বেটিস রোগীর সর্তকতা:

-ডায়াবেটিস রোগী নিয়মিত রোজা রাখতে পারবেন। তবে ৩ মাস আগে থেকে ডাক্তার র চেক আপ এ থাকবেন।
– নিয়মিত সুগার মাপতে হবে।
-ইফতার এ চিনিযুক্ত খাবার খেতে হবে।
-ডাক্তারের পরামর্শ মত ওষুধ খেতে হবে।
-বেশি করে পানি খেতে হবে।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা:

-জীবনের সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা জীবন মেনে চলুন।
-ধুমপান সহ সকল ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করুন।
-রোগটি সম্পর্কে সঠিকভাবে নিজে জানুন এবং অন্যকে সচেতন করুন।

রমজান মাস রহমতের মাস। আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের মান। নিয়মিত রোজা রাখুন। নিয়ম মেনে জীবন যাপন করুন। সুস্থ থাকুন। শুভকামনা সকলের জন্য।

লেখক: মাহবুবা খাতুন
পপুলার মেডিক্যাল কলেজ।

Check for details
SHARE