মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা কি শুধুই…

বরকতময় রমজান মাস চলছে। প্রতি বছর আমরা রমজান মাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি বাড়তি কিছু সওয়াবের আশায়। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য এ মাসে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকি অন্য সব মাসের থেকে একুট বেশীই। রমজান আসতে না আসতেই চলতে থাকে আমাদের নানা প্রস্তুতি। সেই সাথে ঈদ উৎযাপনের জন্য অগ্রিম কিছু ব্যস্ততা তো থাকেই। কিন্তু এত আয়োজনের কতটুকু আমরা সঠিক ভাবে সঠিক উপায়ে করতে পারছি। আল্লাহ প্রদত্ত দেখানো পথে আমরা কতটুকু আমরা অর্জন করতে পারছি এ মাসে।

প্রতিদিন শতশত ভুলত্রুটির মধ্যেও মানবিক কিছু দিকের প্রতি আমরা নজর দিতে একবারেই নারাজ। বিকাল হতে না হতেই কি দিয়ে ইফতারীর থালা সাজাবেন সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আপনার পাশের গরীব প্রতিবেশীর খোঁজ কদিন নিয়েছেন? তাদের বাসায় কি দিয়ে ইফতার হচ্ছে কখনও জানার চেষ্টা করেছেন কি? আদৌ ইফতার বলে কি আলাদা কিছু আছে কিনা তাদের জীবনে, নাকি ইফতারের সময় হলে রাতের দুই মুঠো ডাল-ভাতই খেতে হচ্ছে সে খোঁজ কি রেখেছেন?

যে রিকশাওয়ালাটা সারাদিন রোজা রেখে তার ঘাম ঝড়িয়ে আপনাকে ইফতারের আগ মুহুর্তে বাসায় পৌছে দিচ্ছে কখনও কি আপনার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে একটা ফল তার হাতে তুলে দিতে পেরেছেন। রাস্তায় জ্যামে আটকা পড়ে যে ট্রাফিককে অনবরত গালি দিচ্ছেন সে তার দায়িত্ব কাধে রেখে কিভাবে কোথায় ইফতার করছে তার খোঁজ করে দেখেছেন কখনও।

যে শিশুটি সারাদিন বিচিত্র পন্থায় শ্রম বিক্রি করে তার জন্য কি রোজার মাসে কিছু করতে পেরেছেন। আপনি তো কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সেই ঈদ আসার আগেই কিন্তু একবার কি ভেবেছেন আপনি আপনার পরিবারের ছোট যে শিশুটির জন্য জামা কাপড় কিনছেন হাজার হাজার টাকা খরচ করে তেমন একটা সুন্দর জামা কেনার সর্মথ্য না থাকলেও পরে ঘুরে বেড়ানোর প্রত্যাশা কিন্তু রাস্তার ওই ছিন্নমুল শিশুটিও করে। ঈদের দিন সুন্দর সুন্দর জামা পড়ে ওই শিশুটিরও পার্কে যেতে ইচ্ছে করে আপনার শিশুটির মত করে।

এতক্ষণে নিশ্চয় ভাবছেন আমার এত দায় কিসে। আমার থেকে কত বড় লোক আছে তারাই করবে আমি না করলেও। আপনার মত করে সবাই এভাবেই ভাবছে। আপনি শুরু করুন অন্যজন আপনার দেথাদেথি এগিয়ে আসবে। একটি বাচ্চার জন্য সুন্দর একটি জামা একজন মানুষের ইফতারের দায়িত্ব নেয়া আপনার পক্ষে কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। এজন্য আপনার অনেক অর্থ বিত্তের প্রয়োজন সেটাও নয়। আপনার ইচ্ছা থাকলেই সম্ভব।

রমজান মাসের দিনের বেলার অনেক বাড়তি খরচের অর্খ বেঁচে যায়। চা, পান, সিগারেট ব্নধুদের সাথে আড্ডায় বাড়তি কিছু অর্থ অন্যান্য মাসে খরচ হলেও এ মাসে হয় না। আবার হলেও তা সামান্য। এই বেঁচে যাওয়া অর্থকে একটু সঞ্চয় করে দিন না অসহায় মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে। আপনার সামান্য এই অর্থেই তার মুখের মিষ্টি হাসি আপনি কিনে নিতে পারবেন। আর আপনার এই ঈদ হবে সেরা ঈদ। মানবতার সাথে বন্ধুত্ব করে আপনি যে তৃপ্তি পাবেন তা হবে আপনার সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। আর জান্নাত লাভের পথে আপনি থাকবেন আরও এগিয়ে অসহায় এই মানুষগুলোর দোয়াতে।

শুভকামনা সকলের জন্য।

উদ্যোক্তোর খোঁজে ডটকম।

Check for details
SHARE