ব্যবসায় চুক্তি করতে!

ব্যবসা করতে যাচ্ছেন। ব্যবসা করার জন্য সব আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন করা থাকলেও এখনো ব্যবসাসংক্রান্ত চুক্তিপত্র সম্পাদন করেননি। বিশেষ করে আপনি যৌথভাবে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইলে অবশ্যই অংশীদারি চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। আর এ চুক্তি যেমন খুশি তেমনভাবে করা যাবে না। চুক্তি করতে হবে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে। আর খেয়াল রাখতে হবে এ চুক্তি করতে গিয়ে কোনো অপূর্ণতা যেন না থাকে। ব্যবসা ছোট হোক আর বড় হোক, চুক্তিতে আপনার অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নিশ্চিত আছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে এবং একই সঙ্গে নিজের অধিকার থেকেও বঞ্চিত হতে হবে।

চুক্তিতে যা থাকতে হবে
চুক্তিতে পক্ষগণ মানে অংশীদারগণের নাম-ঠিকানা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা থাকতে হবে। ব্যবসাসংক্রান্ত কার কতটুকু অংশ থাকবে, কে কতটুকু লভ্যাংশ পাবে, ব্যবসা শুরুর তারিখ এবং অবসানের তারিখ, ব্যবসার পুঁজি কত এবং এ থেকে কীভাবে লভ্যাংশ আদায় হবে, ব্যবসার ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয় অবশ্যই চুক্তিতে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, ব্যবসার ধরন এবং লাভ-ক্ষতিসংক্রান্ত বিষয়ে কার কতটুকু প্রাপ্য থাকবে এবং কী শর্তে তা ভাগ হবে, তা স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা দেখা দেবে এবং ব্যবসায়িক অংশীদার চুক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে।

ব্যবসাসংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে। অংশীদারের ধরন বিভিন্ন রকম হতে পারে যেমন, সাধারণ অংশীদার, সুপ্ত অংশীদার, নামমাত্র অংশীদার, সীমিত অংশীদার। চুক্তিপত্রে অবশ্যই অংশীদারের ধরন উল্লেখ করে দিতে হবে। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যবসার পরিচালনা পদ্ধতির উল্লেখ থাকা। চুক্তি শেষে দুই পক্ষের স্বাক্ষর এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর থাকতে হবে। যে তারিখে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সে তারিখ চুক্তিপত্রে দিতে হবে।

যাদের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না
নাবালক, পাগল, দেউলিয়া ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, বিদেশি শত্রু ও দেশদ্রোহী ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসা করার জন্য কোনো চুক্তি করা যাবে না। যদি কোনো চুক্তি করা হয় তাহলে তা আইনত কার্যকর বলে গণ্য হবে না।

চুক্তিপত্রটি নিবন্ধন করুন
ব্যবসার অংশীদারি চুক্তিপত্রটি নিবন্ধন করে নেওয়া উচিত। এতে চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়া সহজ হয়। সাধারণত অংশীদারি চুক্তি করতে হয় দুই হাজার টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। তবে ব্যবসার মূলধন ৫০০ হাজার টাকার নিচে হলে এক হাজার টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করলে চলবে। এ চুক্তি নিবন্ধন করাতে হবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ থেকে। চুক্তির শর্ত না মানলে আইনে ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য প্রতিকার পাওয়ার জন্য আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
তথ্যসূত্র: প্রথমআলো ডটকম।

Check for details
SHARE