বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানী চালিয়ে সে আয়ের টাকাতেই কিনেছিলেন এসিআই!

এম আনিস উদ দৌলা এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান। ১৯৮৭ সালে ব্রিটেনের বহুজাতিক কোম্পানি আইসিআই গ্রুপের বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। এসিআই প্রতিষ্ঠা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী ফোরামের। সফল এ উদ্যোক্তা তিন মেয়াদ মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও চারবার বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও ছিলেন তিনি। এসিআইয়ের বেড়ে ওঠা, চ্যালেঞ্জ,ব্যবসায় নৈতিকতার চর্চা, পণ্যের মান, ভোক্তা আস্থা অর্জনসহ নানা বিষয়ে ৮ অক্টোবর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত একাডেমিয়া লেকচার সিরিজে তিনি কথা বলেন।

শুরুতই তিনি বলেন, আমার উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুটা গল্পের মতো। আগে বহুজাতিক কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবেই কর্মরত ছিলাম। এসিআই শুরুর আগে ব্রিটিশ অক্সিজেন গ্রুপে পাকিস্তান, কেনিয়া ও বাংলাদেশে দীর্ঘ ২৭ বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করি। এর মধ্যে বাংলাদেশ অক্সিজেন লিমিটেডে ১২ বছর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি।

এরপর ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে আইসিআইয়ের তিনটি কোম্পানির গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হই, যে কোম্পানিটি ১৯২৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রসায়ন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৮ সালে জীবন রক্ষাকারী ওষুধসামগ্রী উত্পাদনের লক্ষে নারায়ণগঞ্জে কারখানা নির্মাণ শুরু করে।

বাংলাদেশে যার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা ১৯৭৩ সালে। তবে কোম্পানিটি এ দেশে লোকসান করছিল। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যে একে লাভজনক করে তুলি। এরপর প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা আমার কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় আইসিআই বোর্ড।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে আইসিআই লিমিটেড স্থানীয় ব্যবস্থাপনার কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) লিমিটেড নামকরণ নিয়ে যাত্রা করে। তবে আইসিআই বহুজাতিক কোম্পানি হলেও বাংলাদেশে এর কার্যক্রমে তেমন চমক ছিল না।

কোম্পানিটিকে লাভজনক করতে আমাকে আনা হয়েছিল। এক্ষেত্রে আমি সফল হয়েছি। তবে সময় লেগেছিল চার বছর। পঞ্চম বছরে এসে কোম্পানিটি সিদ্ধান্ত নিল, ছোট দেশে তারা আর কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। ১৯৯২ সালে তারা প্রস্তাব দিল— কোম্পানিটি আমি কিনে নেব কিনা। বললাম, আমার তো এত অর্থ নেই। তারা বলল, অর্থ লাগবে না।

আপনি আয় অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবেন। তবে আমাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে এবং আইসিআইয়ের সুনাম অটুট রাখতে হবে। তাদের শর্তাবলি আমার ধারণার সঙ্গে মিলে গেল। কর্মীরা যদি সুখী না হন বা কোম্পানির সমৃদ্ধিতে অংশ নিতে না পারেন, তাহলে কাজের পরিবেশ সুন্দর হয় না।

অন্যদিকে আমার প্যাশনও ছিল পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করা। আইসিআই ছিল মানসম্পন্ন কোম্পানি। ব্যবসায় যদি সততা ও কাউকে বঞ্চিত করার প্রবণতা না থাকে, তাহলে আপনি অবশ্যই মানসম্পন্ন পণ্য উত্পাদনে সক্ষম হবেন এবং ব্যবসাটি লাভজনক হবে। কোম্পানিটি আমি পেয়েছি ঘটনাক্রমে।

তারা বাংলাদেশে ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে কর্মী থেকে আমি পরিণত হলাম এর স্বত্বাধিকারীতে। এমন সুযোগ আরো অনেকে পেতে পারতেন। তবে দেখার বিষয় হলো— এক. যে উদ্দেশ্যে আমি কোম্পানিটি নিয়েছিলাম, তা সমুন্নত রাখতে পেরেছি কিনা। দুই. সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে টিকে থাকা। এসব বিষয়ে আমি সবসময় ছিলাম সচেতন।

উদ্যোক্তা হিসেবে তার শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, শুরুতে ঔষধ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের রাসায়নিক তৈরি নিয়ে যাত্রা করলেও এখন এসিআই একটি পরিপূর্ণ গ্রুপ হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। ওষুধ, ভোগ্যপণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত ও প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছি।

ফার্মাসিউটিক্যালস কিংবা এগ্রোকেমিক্যালসে ব্যবসা সীমাবদ্ধ রাখিনি। কৃষকের প্রচুর চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে ফার্টিলাইজারে বিনিয়োগ করি। এছাড়া মাটির পুষ্টিরক্ষা, এগ্রোনোমিক প্র্যাকটিস ট্রেনিং, সময়মতো ফসল বাজারজাতকরণ নানামুখী চাহিদা রয়েছে। এরপর বাজার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসাকে নানামুখী খাতে সম্প্রসারণ করি।

সব সময়ই পণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে ক্রেতা সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। সব সময়ই আমাদের ভাবনাচিন্তায় এটি ছিল এবং সেখান থেকে এসিআই সামান্যতম বিচ্যুত হয়নি।

হিসেবে নিজের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্পর্কে এম আনিস উদ দৌলা বলেন, এসিআই শুরুর দিকে মূলত রাসায়নিক ও ওষুধনির্ভর ছিল। সেগুলো সফল ব্যবসা। এখন ব্যবসাকে নানামুখী খাতে সম্প্রসারণ করছি। আর তা করছি পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। পণ্যের মান, গ্রাহককেন্দ্রিকতা, সততা, স্বচ্ছতা, ক্রমাগত উন্নতি ও উদ্ভাবন।

বর্তমানে ওষুধ খাতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছি। এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি ওষুধ বাজারজাত করেছে এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস। তাছাড়া বাংলাদেশে আইএসও ৯০০১ সনদপ্রাপ্ত প্রথম প্রতিষ্ঠান আমরা। দেশের ওষুধের চাহিদা মেটানোর পরও শ্রীলংকা, ইয়েমেন, মিয়ানমার, ভিয়েতনামসহ মোট ৩৫টি দেশে রফতানি করছি।

পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বাজার তৈরিরও চেষ্টা চালাচ্ছি। কনজিউমার ব্র্যান্ড হিসেবে এসিআইয়ের কয়েকটি পণ্য সুনাম কুড়িয়েছে। এছাড়া গৃহস্থালিতে প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী জনপ্রিয় হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষিপ্রধান দেশের কৃষকদের চাষাবাদ প্রক্রিয়া আরো সহজ করে তোলা প্রতিষ্ঠানটির এগ্রোবিজনেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শস্য সুরক্ষায় কীটনাশক তৈরি, উন্নত মানের সার, বিভিন্ন কৃষি মেশিনারি সরবরাহ করে থাকে এ প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি পশুস্বাস্থ্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন, ওষুধ ইত্যাদিও বাজারজাত করছে। উন্নত মানের বীজ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে এসিআই পুরোপুরি এ ব্যবসায় নামে। অন্যদিকে ক্রেতাদের পূর্ণ সন্তুষ্টি রয়েছে আমাদের রিটেইল চেইন ‘স্বপ্ন’-এর ওপর।

স্বপ্ন থেকে পণ্য বিক্রি বাড়ছে, যার অর্থ ক্রেতাদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। সব মিলিয়ে উচ্চপ্রযুক্তি ও ক্রেতা সন্তুষ্টি রক্ষায় উদ্যোক্তা হিসেবে সব সময়ই চেষ্টা করেছি। সুনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা এবং উন্নত মানের কারণে এসিআইয়ের তৈরিকৃত অধিকাংশ পণ্যই আজ দেশের বাজারে জনপ্রিয়। যেটি ধরে রাখতে আজীবন চেষ্টা করে যাব।

নিজের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত কাজ নিয়ে তিনি তার পরিকল্পনার কথাও জানান। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, কৃষিতে কাজ শুরুর পর দেখলাম, একই কৃষকের কাছে যেতে হচ্ছে সার, বীজ ও এগ্রোকেমিক্যালসের জন্য। তখন ভাবলাম, আমরা তো কৃষির সবকিছুই বুঝি। আমরা কেন তিনটিই একসঙ্গে দিতে পারব না? আমরা কৃষির সমন্বিতকরণের ব্যবস্থা নিলাম।

জমি চাষের জন্য ট্রাক্টর বিক্রি শুরু করলাম। এসিআই মোটরস সেসব বিক্রি করে। চীন ও ভারত থেকে আমদানি করে এগুলো বাজারজাত করছি আমরা। তাতে কৃষকের চাহিদা ভালোই পূরণ হচ্ছে। এগুলো কিনে গ্রামের কেউ কেউ স্বাবলম্বীও হচ্ছেন। বেকাররা কৃষি যন্ত্রপাতি কিনে ভাড়া দিচ্ছেন কৃষককে। তাতে লাভ হচ্ছে দুজনারই।

বেকারের জীবিকা হচ্ছে, অন্যদিকে স্বল্প সময়ে জমি চাষ করতে পারছেন কৃষক। সারা দেশে আমাদের ১২টি সার্ভিস সেন্টার আছে। এর মাধ্যমে সার্ভিস অরিয়েন্টেড ব্যবসাও করতে পারছি আমরা। এসবই আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত। এগুলো আমরা কাজে লাগাতে পারব অন্যত্রও। এভাবে সমন্বিতকরণের কাজটি করলাম।

এখন ধান ও সবজির হাইব্রিড বীজ উত্পাদন করছে এসিআই। সর্বশেষ ভোগ্যপণ্য বিপণনে গেলাম। আমাদের দেশে আগে লবণ ছিল কাদাযুক্ত। আমরা সেটিকে ফিল্টার করে তাতে সঠিক মাত্রায় আয়োডিন দিয়ে প্রথম পিওর সল্ট বাজারজাত করলাম। এটা আমাদের গৌরবও বটে। এরপর ভাবলাম গৃহিণীদের জন্য কিচেন বাস্কেটের সব প্রয়োজন মেটাব।

আটা–ময়দা তৈরি শুরু করলাম। প্রতিদিন ৩০০ টন প্যাকেট জাত আটা উত্পাদন করছি। আমাদের কারখানা পরিপূর্ণ ক্যাপাসিটি অনুযায়ী চলে। এটা হয়েছে কেবল আমাদের ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থার কারণে। এরপর চিনি, সয়াবিন ও সরিষার তেল, গুঁড়া মসলা বিক্রি শুরু করে এসিআই। কীভাবে মানুষের কেনাকাটার মান উন্নয়ন করা যায়, তাও চিন্তায় ছিল আমাদের।

মানুষ কাঁচাবাজারে যাবে নাকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মানসম্পন্ন পণ্য কিনবে? আমরা মধ্যম আকারের আউটলেট বানালাম। এ কনসেপ্টে আমরা প্রায় ৪৫টি আউটলেট করেছি। এগুলোর সিংহভাগই মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। এখন আমরা চেইন রিটেইলিংয়ের দক্ষতা বাড়াচ্ছি। বাংলাদেশের মধ্যবিত্তশ্রেণীর মাঝে যেসব পরিবারের সদস্য বিদেশে থাকেন, তারা আর্থিক দিক থেকে বেশ সচ্ছল।

তারা সাধারণত বিদ্যমান কাঁচাবাজারে যেতে অনিচ্ছুক। তাদের জন্য স্বপ্নে বাজার করার সুযোগ করে দেয়া হলো। এটা ভালোই চলছে। ধীরে ধীরে পণ্যের সংখ্যা ও আউটলেট বাড়াচ্ছি। আমরা প্লাস্টিক প্যাকেজিং উৎপাদন ও মার্কেটিং করি। একটা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি আমাদের আছে। এ দেশের ছোট–বড় বহু কোম্পানিকে প্লাস্টিক মোড়ক সরবরাহ করি।

খাবারের মধ্যে আচার, চকোলেট প্রভৃতি তৈরি করছি। এগুলোকে আমরা বলি ফান ব্র্যান্ড। এছাড়া পোলট্রি ব্যবসা আছে গোদরেজের সঙ্গে। এটি করা হয়েছে যৌথ উদ্যোগে। টেটলির সঙ্গে আমাদের চায়ের ব্যবসা রয়েছে। ডাবরের সঙ্গেও যৌথ উদ্যোগ রয়েছে আমাদের। আরো কিছু যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা করার ইচ্ছা রয়েছে। বিশ্বের এক নম্বর পেইন্ট ব্র্যান্ড এক্সো নোবেলের সঙ্গেও আমরা চুক্তি সম্পাদন করেছি।

নিজের বক্তব্য শেষে তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র আব্দুল কাইয়ুম প্রশ্ন করেন, শুরুর সময় ও এখনকার ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কী পার্থক্য লক্ষ করছেন? কাইয়ুমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হিসেবে সব সময়ই অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়।

নানা ধরণের নিত্য–নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই ব্যবসা করতে হয়। চ্যালেঞ্জ কোনো সময়ই এক রকম থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন হয়। এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো— জ্বালানি জোগাড়, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, উত্পাদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে বাজারের সঙ্গে তালমিলিয়ে টেকসই ব্যবস্থা প্রবর্তন প্রভৃতি।

এক্ষেত্রে উত্পাদন খরচ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর ধারাবাহিকতা রক্ষাও জরুরি। বিদ্যুত্–গ্যাস না থাকলে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল দিয়ে পণ্য উত্পাদন করতে হয়, এতে খরচ পড়ে বেশি। কিন্তু উত্পাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সে খরচ উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীকে বহন করতে হয়। বাজারে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেই লক্ষ থাকে তাদের।

সুনাম ধরে রাখতে লাভ–লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অনেক সময় উত্পাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এটি করতে হয়। আগে রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন সেসব কমে গেছে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিযোগিতা। এখন আমাদের ব্যবসাটা ঠিক চ্যালেঞ্জের জায়গায় এসেছে। আগে লাইসেন্স পেয়েই বাজার যাচাই না করেই পণ্য আমদানি করা যেত। কারণ সবই বিক্রি হয়ে যেত।

এখন সে অবস্থা নেই। এখন পণ্য আনতেও অনুমতি নিতে হয়। আমদানি করা পণ্য অবিক্রিতও থেকে যায় অনেক সময়, দাম কমে যাওয়া ও নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও থাকে। বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ব্যবসায় ঠিকে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত ভ্যালু অ্যাড করে যেতে হবে। যে কোম্পানি যত বেশি ভ্যালু অ্যাড করতে পারবে, বাজারে সে তত এগিয়ে যাবে।

এন্টারপ্রেনারশিপ বিভাগের ছাত্রী সানজিদা আফরিন প্রশ্ন করেন, ব্যবসায় নৈতিকতা ধরে রাখতে করণীয় কী হতে পারে? উক্ত প্রশ্নের জবাবে এম আনিস উদ দৌলা বলেন, নৈতিকতা বলে–কয়ে হয় না। নিজ থেকে তা অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশে এটাই এক সমস্যা। অন্যকে উপদেশ দিতে ভালো লাগে, কিন্তু নিজে সেটি মানি না।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন চিত্র। এক্ষেত্রে নেতৃত্বে দুর্বলতার কারণেও ব্যবসায় ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া সংগঠন দিয়েও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এটি আসে ব্যবসা ও দৃষ্টান্ত থেকে। বাজারে নৈতিকতা ধরে রেখে আমি সফল হলে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। কেবল ব্যবসার ক্ষেত্রে নয়, সমাজে অন্যান্য ক্ষেত্রে নৈতিকতার চর্চা প্রয়োজন।

সবচেয়ে জরুরি রাজনীতির ক্ষেত্রে নৈতিকতার চর্চা। মনে রাখতে হবে— সুনাম অর্জনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সবশেষে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ নেতৃত্বকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এখন তারা যদি ঠিকমতো তৈরি না হয়, সেটি আমাদের ব্যর্থতা। আমাদেরও নেতৃত্বে আর ফিরে যাওয়ার পথ নেই।

আমরা যখন নেতৃত্বে ছিলাম, তখন চেষ্টা করেছি যাতে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ না হয়। সেটিই দৃষ্টান্ত হতে পারে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য। তাছাড়া সমাজের সবখানেই নীতি–নৈতিকতার অবক্ষয় হচ্ছে। সেখানে ব্যবসায়ী সমাজও এর বাইরে নয়। তাই এদিক সম্পর্কে নতুনদেরও সজাগ থাকতে হবে।

কয়েকটি বিষয় সব সময়ই বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসা শুরু করা উচিত। প্রথমত. কোনো পরিকল্পনাই স্বল্পমেয়াদে করা উচিত নয়। সব সময়ই ব্যবসার চিন্তা নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদে। এছাড়া পণ্যের মানের ব্যাপারে কোনো আপস করা চলবে না।

মনে রাখতে হবে স্বল্প মেয়াদে হয়তো ভেজাল মিশিয়ে কিছু মুনাফা করা যায়, কিন্তু ব্যবসা বেশি দিন পরিচালনা সম্ভব হবে না। তাছাড়া তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এমন মানসিকতাও থাকতে হবে। ভোক্তারাই সবচেয়ে বড় বিচারক, তারা বিশুদ্ধতাই বেছে নেন।- তথ্যসূত্র- দি প্রমিনেন্ট!

Check for details
SHARE