নার্সিং পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে করনীয়

সেবামূলক পেশা হচ্ছে নার্সিং। যেখানে কাজ করে একদিকে যেমন মানুষের সেবা করা যায়, তেমনি এই পেশাতে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়াও যায় খুব সহজে। দেশে এখন প্রায় সব জেলা-উপজেলা শহরেই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। ক্রমেই বেড়ে চলছে এসব হাসপাতালের সংখ্যা। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছরই নার্সের প্রয়োজন হয়। চাইলে এ পেশায় আসতে পারেন আপনিও। এ পেশায় আসতে হলে এর ওপর ডিপ্লোমা–ইন–নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সটি করতে হবে। যাঁরা এ পেশায় আসতে চান, তাঁদের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা–ইন–নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশের মোট ৪৩টি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ২ হাজার ৫৮০টি আসনে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করানো হবে। তাই এ কোর্সটি করে আপনিও এই সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত।

আবেদনের যোগ্যতা
এই কোর্সে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে যেকোনো শিক্ষা বোর্ড থেকে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠেয় এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ এবং ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে অনুষ্ঠেয় এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক ও অবিবাহিত হতে হবে। পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।

আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
প্রার্থী যে কেন্দ্রের অধীন পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক, সেই কেন্দ্রের কোড নম্বর আবেদন করার সময় এসএমএসের মাধ্যমে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। কেন্দ্রের কোড নম্বরগুলো বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া যাবে। আবেদনের জন্য টেলিটক প্রি-প্রেইড মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেসেজ অপশনে গিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুসারে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করতে হবে। এসএমএসটি পাঠানোর পর সব তথ্য সঠিক হলে ফিরতি এসএমএস এ আবেদনকারীর নাম ও একটি পিন নম্বর জানিয়ে ভর্তি আবেদন ফি বাবদ ৫০০ টাকা কর্তনের সম্মতি চাওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীকে আরেকটি এসএমএম পাঠিয়ে সম্মতি জানাতে হবে। আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর (যেকোনো অপারেটরের) লিখে এসএমএস পাঠাতে হবে। পরবর্তী সময়ের জন্য পিন নম্বরটি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। সম্মতি জানিয়ে এসএমএস পাঠালেই কেবল আবেদনকারীর মোবাইল ফোন থেকে সার্ভিজ চার্জসহ ভর্তি ফি বাবদ ৫০০ টাকা কেটে নেওয়া হবে। আবেদনকারীর টেলিটক মোবাইল প্রিপ্রেইড মোবাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা থাকা সাপেক্ষে আবেদনের নির্দিষ্ট ফি কেটে নেওয়ার পর এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে প্রার্থীর User ID ও Password জানিয়ে দেওয়া হবে। আবেদন শেষে প্রবেশপত্র ডাউনলোড বিষয়ে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (http://dgnm.teletalk.com.bd) থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুধু এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এ পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শিক্ষা) ফাতেমা জোহরা বলেন, ‘এখন নার্সদের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নার্সিং পেশাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করায় পিএসসির মাধ্যমেও নিয়োগ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে আমাদের মেয়েরাই কাজ করছে। ফলে এখন আর কাউকে বসে থাকতে হচ্ছে না।’

পেশা হিসেবে নার্সিং
বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন লিকা বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘নার্সিং পেশাটি একটি দায়িত্বের পেশা। এ পেশায় আসতে হলে মানুষের সেবার মানসিকতা থাকতে হবে। এখানে মানুষের সেবা করা যায় খুব কাছ থেকে। বর্তমানে আমাদের দেশে তো বটেই, বিদেশেও নার্সিং পেশার দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকদের চাহিদা রয়েছে। তাই এ পেশায় বর্তমানে যেমন রয়েছে সম্মান, তেমনি রয়েছে অপার সম্ভাবনা।’
একজন নার্সকে সাধারণত চিকিৎসকের নানা কাজের সহকারী হিসেবে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের আউটডোর ও ইনডোর, অপারেশন থিয়েটারে কাজ করতে হয়। এ ছাড়া রোগীকে ওষুধ খেতে সহায়তা করাসহ নানাভাবে সেবা করারও কাজ করতে হয়। অন্যান্য চাকরির মতো এখানেও ভালো বেতন ও অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি পদোন্নতির ব্যবস্থা আছে বলে জানান এ পেশায় নিয়োজিত থাকা সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসুত্র:  প্রথম আলো ডটকম।

Check for details
SHARE