নতুন উদ্যোক্তাকে যা জানতেই হবে!

বাংলাদেশে বেকারত্ব এমন তীব্র আকার ধারণ করেছে যে এখানে চাকরী পাওয়া সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন দিন বেড়েই চলছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। ফলে এখন অনেকেই ব্যবসায়ের দিকে ঝুঁকছেন। ব্যবসা একটি স্বাধীন পেশা। অনেকে সব কিছু জেনে ব্যবসা করতে চান আবার অনেকেই ব্যবসা সম্পর্কে ন্যুনতম ধারণা না নিয়েই ব্যবসায় নেমে পরতে চান। যা খুবই বিপজ্জনক। ব্যবসা শুরু করার আগে অন্তত কিছু মৌলিক বিষয় শিখতে হবে। অন্যথায় ব্যবসায় লাভবান হওয়া যাবে না। আমি এখানে ব্যবসা শুরু করার আগে কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।

প্ল্যানিং:
কথায় আছে একটি সঠিক পরিকল্পনা কাজটির অর্ধেক হয়ে যায়। শুধু ব্যবসা নয় যে কোন কাজেই প্ল্যানিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্ল্যানিং ছাড়া ব্যবসায় লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপ এগুতে হবে পরিকল্পন মোতাবেক। আপনাকে ব্যবসা শুরু করার পূর্বে প্ল্যানিং করতে হবে আপনার ব্যবসাটি কোন ধরনের হবে? সেটার মার্কেট ভেল্যু আছে কিনা? সেটা লাভজনক কিনা?

কত সময় লাগবে মুনাফা আসতে? পুঁজি কত লাগবে? আপনার বিনিয়োগ করার সামর্থ্য কতটুকু? মার্কেটে এই রকম ব্যবসার বর্তমান অবস্থা কেমন? কতজন শ্রমিক রাখবেন? শ্রমিকদের বেতন কত দিবেন? আপনার প্রত্যাশিত মুনাফা কেমন? আপনি কাদের কাস্টমার বানাবেন? ক্ষতির আশংকা আছে কিনা? ক্ষতি হলে কিভাবে হতে পারে? ক্ষতি মোকাবেলায় আপনি কি কি পদক্ষেপ নিবেন? এই সব প্রশ্নের আলোকে প্ল্যানিং করতে হবে। আপনি যখন উপরোল্লিখিত প্রশ্ন গুলির উত্তর লিখে ফেলবেন তখন বুঝবেন আপনার প্ল্যানিং করা হয়ে গেছে।

মার্কেট রিসার্চ:
যদিও মার্কেট রিসার্চকে প্ল্যানিং এর ভিতর ধরা হয় তবুও আলাদা করে এর কথা বলতেই হয়। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মার্কেট রিসার্চ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ব্যবসার ক্রেতা কারা, মুনাফা হবে কেমন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কেমন, আপনার পণ্যের আদৌ ভোক্তা আছে কিনা, ঐ ব্যবসার বর্তমান বাজার কেমন এসবই মার্কেট রিসার্চের অন্তর্ভুক্ত। মার্কেট রিসার্চ করতে পারলে আপনি ব্যবসা সম্পর্কে আগাম ধারণা পেয়ে যাবেন। তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এই ব্যবসা করবেন কিনা।

সঠিক স্থান নির্বাচন:
ব্যবসায়ের জন্য স্থান সঠিক স্থান নির্বাচন করাও অনেক বড় ব্যাপার। যেখানে সেখানে দোকান দিলেই হবে না। দোকান দিতে হবে উপযুক্ত জায়গায়। জনাকীর্ণ এলাকা, বড় বাজার, স্থানীয় বাজারে ব্যবসা করার জন্য আদর্শ জায়গা। তবে উৎপাদনশীল ও অনলাইন ব্যবসায় স্থান কোন ফ্যাক্টর নয়। এই সব মার্কেটিং এর উপর জোর দিতে হয়।

হতে হবে সৎঃ
কথায় আছে সততায় মুক্তি আনে। ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ক্রেতা ঠকিয়ে হয়ত সাময়িকভাবে লাভবান হবেন। কিন্তু এইটা আপনার ব্যবসায় দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব পরবে। ক্রেতা যখন বুঝতে পারবে আপনি তাকে ঠকাচ্ছেন তখন সে আর আপনার দোকানমুখি হবে না। শুধু ব্যবসা নয় যে কোন কিছুতেই সততা অপরিহার্য বিষয়। তাই একজন আদর্শ ব্যবসায়ী হতে হলে সৎ, নিষ্ঠাবান হতে হবে এবং লোভ-লালসা থেকে দূরে থাকতে হবে।

হতে হবে ধৈর্য্যশীলঃ
অনেকেই আছেন যারা ব্যবসা শুরু করার কয়েকদিন পরেই হতাশ হয়ে পরেন। অনেকেই ভাবতে শুরু করেন আমার দ্বারা ব্যবসা হবে না। ব্যবসা শুরু করেই রাতারাতি বড় লোক হয়ে যাবেন এই ধারণ পরিহার করতে হবে। ব্যবসায় সফল হতে হলে ধৈর্য নিয়ে ব্যবসায় লেগে থাকতে হবে। জানেন তো সবুরে মেওয়া ফলে।

দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হতে হবে:
অনেককেই দেখা যায় ব্যবসায় একটু ক্ষতির স্বীকার হলেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরে। ব্যবসা করতে হলে মনোবল অত্যন্ত দৃঢ় হতে হবে। লাভ-ক্ষতি এগুলি ব্যবসায়েরই অংশ। আমি এমন অনেক ব্যবসায়ী দেখেছি যারা কোটি কোটি টাকা লোকসান দেওয়ার পরও নব উদ্যমে ব্যবসা শুরু করেছেন।

কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে:
শুধু ব্যবসা নয় যে কোন পেশাতেই পরিশ্রম ছাড়া সফল হওয়া অসম্ভব প্রায়। আপনি পরিশ্রম না করে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ব্যবসা করবেন তা হবে না। আপনার ব্যবসায় আপনি নেতা। সব কাজেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। কর্মী বাহিনীকে কর্ম-স্পৃহা ও উদ্যমী করতে হবে।

এ ছাড়াও একজন উদ্যোক্তার আরো যেসব গুণাবলী থাকা প্রয়োজন তা হলো আত্নবিশাসী, স্বাধীনচেতা, উদ্যমী, সৃজনশীল, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা ইত্যাদি।- তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Check for details
SHARE