তুমিও জিতবে

শিব খেরা বিশ্বের একজন অন্যতম প্রভাবশালী প্রেরণাদায়ক বক্তা। যার কথা শুনে অনেক হতাশ ব্যক্তির মনেও আশার সঞ্চার হয়। তার এসব প্রেরণাদায়ক লেখার একটি প্রশিদ্ধ বই হচ্ছে “তুমিও জিতবে (You Can Win)”। আজ সেই বই থেকে কয়েকটি প্রেরণাদায়ক গল্প তুলে ধরছি।

সোনার খোঁজে: এন্ড্রু কার্নেগী তরুণ বয়সে স্কটল্যান্ড থেকে আমেরিকা চলে যান। সেখানে তিনি ছোট-খাটো কাজ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সবথেকে বড় স্টীল প্রস্তুতকারী কোম্পানির মালিক হন। এমন এক সময় ছিল যখন তার অধীনে ৪৩ জন কোটিপতি কাজ করছিল। কোটিপতি বর্তমান সময়ে অনেক থাকলেও ১৯২০ সালের দিকে খুব কমই ছিল।

জনৈক ব্যক্তি কার্নেগীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনার লোকেরা কিভাবে এত পয়সা উপার্জন করছে’? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন-‘লোকেদের কাছে পয়সা আসার ব্যাপারটা হচ্ছে মাটি খুঁড়ে সোনা বের করার ন্যায়’। মাত্র এক তোলা পরিমাণ স্বর্ণের জন্য কয়েক টন মাটি সরাতে হয়। কিন্তু খনন করার সময় তাদের নজর থাকে শুধুই সোনার প্রতি, মাটির প্রতি নয়।

আপনার উদ্দেশ কি? সোনা খোঁজা। তাহলে নিশানা স্থির করে ফেলুন। সেই অনুযায়ী কাজ করুন। এদিক-ওদিক তাকিয়ে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। জেনে রাখবেন অধিকাংশ লোকই তাই পায় যা সে খোঁজ করে।

উইলমা রুডলফ এর কাহিনী: টেনেসীর এক গরীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন উইলমা রুডলফ। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি নিউমোনিয়া, কালাজ্বর এবং পরবর্তীতে পোলিও রোগে আক্রান্ত হন। তার পায়ে ব্রেশ (Brace) পড়ানো হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন তিনি কখনই চলতে পারবেন না। কিন্তু উইলমার মা তাকে সাহস দিতেন। মা বলতেন- শ্রষ্টা তোমাকে ক্ষমতা দিয়েছেন, পরিশ্রম কর সফল হতে পারবে।

উইলমা চাইলেন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতির দৌঁড়বিদ হবেন। ৯ বছর বয়সে তিনি ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রেশ খুলে ফেলেন। ১৩ বছর বয়সে তিনি প্রথম দৌঁড় প্রতিযোগীতায় অংশ নেন। প্রায় ৪-৫ বার দৌঁড় দিয়ে পিছনেই পড়ে থাকেন। হাল ছাড়েননি। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত প্রথম হতে পারেননি ততক্ষণ পর্যন্ত চেষ্টা করে যান।

তিনি ১৫ বছর বয়সে স্টেট ইউনিভার্সিটি যান। সেখানে এড টেম্পল নামক এক কোচের সান্নিধ্য লাভ করেন। টেম্পল উইলমার ইচ্ছার কথা শুনে বলেছিলেন- ‘তোমার ইচ্ছাশক্তিকে কেউ আটকাতে পারবে না। আমি তোমায় সাহায্য করব’।

১৯৬০ সালের অলিম্পিক ইতিহাসের পাতায় পোলিও রোগে আক্রান্ত উইলমার নাম লেখা হয়ে যায়। কারণ তিনি সে বছর ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার দৌঁড়ে সোনার মেডেল জিতেছিলেন।

এই ঘটনা থেকে যা শেখা যায় তা হচ্ছে- সফল লোকেরা কঠিনের ভিতর থেকেও সফলতাকে বের করে আনে। অথবা তাদের কাছে কোনকিছুই কঠিন থাকে না।

নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিএক শিকারীর একটা অদ্ভুদ কুকুর ছিল। যা পানির উপর চলতে পারত! শিকারী ঐ কুকুরটা তার বন্ধুকে দেখাতে চাইলেন।

শিকারী একটি পাখি শিকার করলেন। অতঃপর কুকুরটিকে পাখিটি আনার হুকুম করলে কুকুরটি পানির  উপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে সেটি নিয়ে আসল।

শিকারী তার বন্ধুকে বলল কুকুরটি সম্পর্কে কিছু বলতে। বন্ধুটি কুকুরটির প্রশংসা না করে জানাল যে তোমার কুকুরটি দেখছি তিন পায়ে চলে কিন্তু এক পা মোটেও নাড়াতে পারে না!

কিছু লোক সর্বদাই নিরাশাবাদী কথা বলে আপনাকে হতাশ করতে থাকবে। এদের চিনবেন যেভাবে-

১. যখন নিন্দা অথবা আলোচনার করার জন্য কোন বিষয় থাকবে না, তখন সে মন খারাপ করে থাকবে।

২. তারা জীবনের আয়নায় সব সময় ফাটল খুঁজতে থাকবে।

৩. তারা চাঁদে কেবল দাগই দেখতে পাবেন।

৪. তারা বলবে যে, কঠোর পরিশ্রমে ক্ষতি নেই কিন্তু ঝুঁকি বহন করা অনেক কঠিন।

সংঘর্ষ: জীববিজ্ঞানের এক অধ্যাপক তার ক্লাসে প্রজাপতির জীবনচক্র ‍নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বললেন, কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রজাপতি একটি খোলস থেকে বের হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের বললেন কেউ যেন প্রজাপতিটিকে খোলস থেকে বের হতে সহায়তা না করে। এই বলে ক্লাস থেকে বের হয়ে যান।

শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করতে থাকে। প্রজাপতি খোলস থেকে বের হওয়ার জন্য সংঘর্ষ করতে থাকে। শিক্ষার্থীদের তার প্রতি দয়ার সঞ্চার হতে লাগল। অধ্যাপকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এক ছাত্র প্রজাপতিকে খোলস থেকে বের করে দিল! ফলে প্রজাপতির আর পরিশ্রম করতে হল না। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছুক্ষণ পর প্রজাপতিটি মারা গেল।

অধ্যাপক ফিরে এসে ঘটনাটি শুনে জানালেন, প্রজাপতি যখন বাইরে বের হওয়ার জন্য সংঘর্ষ করছিল তখন তার পাখা মজবুত ও শক্ত সামর্থ হচ্ছিল। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

আমাদের জীবনে কোনকিছুই পরিশ্রম ও সাধনা ছাড়া অর্জিত হবে না। আজকাল মা-বাবা সন্তানদের সংঘর্ষ করতে দিতে চান না। দেখুন, মাঝি নৌকায় যে ছোট্ট বাচ্চাটি থাকে তারও কখনও সর্দি-জ্বরের ভয় থাকে না। আমি খুবই অবাক হই যখন দেখি আমাদের দেশে মাস্টার্স পরীক্ষার সময়ও পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বাবা-মা দাঁড়িয়ে থাকেন। মনে রাখবেন খুঁটিযুক্ত গাছ সহজে খুঁটি ছাড়া দাঁড়াতে পারে না।

তথ্যসুত্র: নতুন সময় ডটকম।

Check for details
SHARE