তিনি সফল উদ্যোক্তা, সফল মা!

মাছে ভাতে বাঙালির পরিচয় বেশ প্রাচীন থেকেই। এই প্রবাদের পূর্ণতা আনেন তো বাঙালি রমণীরাই। কিন্তু এই রমণীই যদি হন মাছ চাষে সফল একজন উদ্যোক্তা, তাহলে তো অবাক করা ব্যাপারই।

মৎস্য উৎপাদনে মৎস্য অধিদপ্তর বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মৎস্য উৎপাদন আর রক্ষণা-বেক্ষণে এগিয়ে আসার জন্যে উৎসাহ জুগিয়েছে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সেই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলা একজন মৎস্য চাষী হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামের নারী উদ্যোক্তা লাভলী ইয়াসমিন।

২০০১ সালে গ্রামের একটি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প মাছের চাষ। প্রথম বছরেই সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। পরের বছর গ্রামের আরও দুটি পুকুর নিয়ে পূর্ণোদ্যোমে শুরু করেন মাছ চাষ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। বর্তমানে ৮ একর জমিতে তিনি রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, সাদাপুটি, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বী।

পাশাপাশি তার মৎস্য খামারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে ২০ জন নারী-পুরুষের। ৩ সন্তানের জননী লাভলী ইয়াসমিনের স্বামী ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বেকার অবস্থায় ছিলেন। ওই সময় ৩ সন্তানের লেখাপড়া করেয়িছেন মৎস্য চাষ থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে। বর্তমানের তার বড় ছেলে কামরুজ্জামান তানজীব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, ২য় পুত্র রাকিবুজ্জামান তানভীর বিএসসি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ছোট ছেলে হাসিবুজ্জামান রাহাত ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র।

মাছ চাষে সফল এই নারী উদ্যোক্তা ২০১২ সালের ১৩ জুন কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় সরকারিভাবে মালেশিয়ায় প্রশিক্ষণে অংশ নেন। ১৬ বছরের সংগ্রামী জীবনে লাভলী ইয়াসমিন বর্তমানে মাগুরা ও ঝিনাইদহ শহরের দুটি জমির মালিক। গ্রামে করেছেন পাকা ঘর। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মৎস্য চাষে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তিমির বরণ মন্ডল বলেন, সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে লাভলী ইয়াসমিনকে সকল প্রকার প্রযুক্তিগত সহযোগীতা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Check for details
SHARE