টাকা-পয়সা সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো ব্যবসায়ীদের মেনে চলা উচিৎ!

ব্যবসা করার সময় ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। ঠিক তেমনি আজকের আর্টিকেলটিতে ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু টিপস দেয়া হয়েছে। ব্যবসা করার জন্য টাকা পয়সার ব্যাপারে যে ছয়টি বিষয় মেনে চলতে হবে একনজরে তা দেখে নেয়া যাক,

ব্যবসার অর্থনৈতিক দিক চিন্তা করে অযথা টাকা নষ্ট করার বিষয়টি বাদ দিতে হবে। অন্যের সামনে নিজের টাকা দেখানোর প্রবণতা দূর করতে হবে।এতে করে ব্যবসায়িক ভাবমূর্তির কোন উন্নতি তো হবেই না বরং,প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের টাকার পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

যখন আপনি নতুন ব্যবসা শুরু করবেন তখন সবসময়ই টাকা জমানোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে খরচ না করলেই নয়, সেসব ক্ষেত্রে খরচ করতে হবে।কারণ অনেক সময় দেখা যায়, প্রয়োজনের সময় টাকা খুঁজে পাওয়া যায় না।সেজন্য কিছু টাকা আগে থেকেই সঞ্চয় করে রাখা প্রয়োজন।

অবশ্যই সব কোম্পানির মূল লক্ষ্য হবে লভ্যাংশ অর্জন করা। সেই লাভ উঠিয়ে আনতে কাজ করে যেতে হবে। কোম্পানির লাভ বের করে আনতে অনেক বেশী কাজের বোঝা কর্মীদের উপর চাপিয়ে দিলেই হবে না। এতে করে কর্মীরা অতিরিক্ত চাপে পড়বে। সেজন্য আবার কোম্পানির লাভের পরিবর্তে লোকসান হওয়া শুরু হতে পারে।

এজন্য লাভ করতে হলে, আগে থেকেই পরিকল্পনা করা কাজ শুরু করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে থাকলে ব্যবসায়ীরা নিজের প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ তুলে আনতে পারবে সেই সাথে ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করতে পারবে।

একদিক থেকে ব্যাংকে অযথা টাকা পড়ে থাকলে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই হয় বেশী। কারণ অন্য কোথাও টাকা ইনভেস্ট করা হলে ব্যাংকের টাকার যথাযথ প্রয়োগ হবে, সেই সাথে বাড়তি টাকাও যোগ হবে। প্রত্যেকদিনের কাজের ভিত্তিতে ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। প্রতিদিন কত টাকা খরচ হবে, কত টাকা ব্যাংকে রাখা নিরাপদ, কতটুকু বিনিয়োগের কাজে ব্যবহার করা হবে সব কিছুই আগে থেকেই পরিকল্পনার ছকে ফেলতে হবে।

ইকনমিক্সে একটা কথা আছে, ‘টাকা সঞ্চয় করার নূন্যতম মাত্রা’। অর্থাৎ লভ্যাংশের কতটুকু সঞ্চয় করা হবে সেটা আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিৎ। বিলিয়নিয়ার ওয়ারেন বাফেট বলেন, ‘টাকা খরচের পর যেই টাকা বেঁচে যায় সেটা সঞ্চয় করো না, বরং টাকা সঞ্চয় করার পর যেই টাকা বেঁচে যাবে তা খরচ কর’।

এজন্য আগে থেকেই পরিকল্পনার মধ্যে রাখতে হবে কতটুকু টাকা খরচ করা হবে এবং কতটুকু সঞ্চয় করা হবে। ভবিষ্যতে ব্যবসাকে বাড়িয়ে নিতে আরও কত টাকা খরচ করতে হবে, সেই মাত্রায় সঞ্চয় করে বাকি কাজের জন্য ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

সাফল্যের খবর সব সময়ই মনে রাখতে হবে। কিন্তু একটা কথা সত্য যে, সাফল্য পাওয়ার উপায় সবার ক্ষেত্রে এক নাও হতে পারে। তাই অন্য সফল ব্যবসায়ী কিভাবে সাফল্য পেলো সেটা আগে না দেখে, অন্যরা কিভাবে ব্যর্থ হল সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ অন্যরা কি কি ভুল করে ব্যবসাকে দাঁর করাতে পারেনি, সেসব ভুল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

কালকে কি ঘটবে এই সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারে না। তাই ভবিষ্যতে ব্যবসা লাভ করবে না লস করবে তা আগে থেকেই বলে দেয়া কঠিন। তাই যে কোন ব্যবসায়িক প্ল্যান করার সময় দ্বিতীয় কোন উপায় এবং প্ল্যানটি ভেস্তে গেলে কিভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে তা আগে থেকেই অনুমান করে ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Check for details
SHARE