জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে অসুস্থ্য প্রতিযোগীতা কেন!

শিশুকাল থেকেই আমরা সহযোগী নয় প্রতিযোগী। এই ধারনাটা আমাদের মধ্যে খুব সুন্দর ভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিভাবে পাশের বড়ির শিশুটি থেকে আমাকে সুন্দর দেখানো যায় এ প্রতিযোগীতা দিয়ে শুরু হয়েছিল যার যাত্রা। তাই বৃদ্ধ বয়সেও বলতে শোনা যায় অমুকের নাতী-নাতনীর থেকে আমার নাতী-নাতনী বড় কিছু করেছে। অসুস্থ এ প্রতিযোগীতা বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে এসে পৌছেছে যা আমাদের কে অতৃপ্ত করে চলেছে প্রতিমুহুর্তে।

স্কুলে যাওয়ার শুরু থেকে পরিচিত ভাল ছাত্রটির দিকেই তীর ছুড়ে বলেছে ওর থেকে তোমাকে ভাল করতে হবে। ওর চেয়ে ভাল রেজাল্ট করা চাই। ও পারে তুমি কেন পারছ না। অমুকের মাথায় বুদ্ধি আর তোমার মাথায় গোবর কেন। এমন হাজার উক্তি। তোমাকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতেই হবে। না হলে তুমি ভাল ছাত্র হতে পারবে না। ওখানেই ভাল ছাত্র তৈরী হয় আর কোথাও বুঝি লেখাপড়াই হয় না। এমন অসুস্থ্য প্রতিযোগীতার মধ্য দিয়েই চলতে বাধ্য হচ্ছে, না চাইতেও।

চাকুরীর বাজারেও একই প্রতিযোগীতা। সরকারী চাকুরী তোমাকে পেতেই হবে। অমুক এত ভাল চাকুরী করে তোমার তো তার থেকেও ভাল রেজাল্ট ছিল তাহলে তোমার থেকে ভাল চাকুরী কেন সে করে। অমুক এই চাকুরী করে বাড়ি গাড়ি করেছে তোমার বাড়ি গাড়ি কই। বিয়ের সময় ও ছাড় নেই এই প্রতিযোগীতা থেকে। তার থেকে কিন্তু আমার বউ রুপে গুণে সুন্দরী হওয়া চাই। আর শ্বশুরবাড়ী অবস্থা সম্পদশালী তো হতেই হবে। এ কেমন দৌঁড় প্রতিযোগীতায় নেমে অতৃপ্ত করে তুলেছেন নিজেকে।

মনোযোগ দিন, ব্লাক বোর্ডে চক দিয়ে একটি লম্বা দাগ টানা হল। সেই দাগটি না মুছে কিভাবে ছোট করা সম্ভব বলতে পারেন? একটু চিন্তা করুন। কি পেলেন? কোন ভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু এই দাগের পাশ দিয়ে যদি আরেকটি দাগ একটু লম্বা করে আঁকা হয় নিশ্চিত তা আগের দাগটি ছাড়িয়ে যাবে। কি বুঝলেন? আগের দাগটি এমনিতেই ছোট হয়ে গেছে।

সুতরাং অন্যকে প্রতিযোগী ভেবে নিজের মনকে অতৃপ্ত করে তোলার চেয়ে নিজেকে তৈরী করুন। আপনার যোগ্যতা বাড়ান। নিজেকে গড়ে তুলতে আপনার যা যা করা দরকার করুন। অন্যকে নিজের সহযোগী ভাবুন প্রতিযোগী না ভেবে। অন্যের সুখ সমৃদ্ধি দেখে ইর্ষান্বিত না হয়ে নিজের যতটুকু আছে তা থেকে নিজেকে তৃপ্ত করার চেষ্টা করুন। অন্যের দাগ মুছে দিয়ে নিজেকে বড় করার চেষ্টা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের দাগকে লম্বা করার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনিও একসময় অনেক সমৃদ্ধ হয়েছেন তাদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছেন। নিজেরে মনকে তৃপ্ত করতে পারছেন।

লেখক:
মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ
উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

Check for details
SHARE