চীনা ঋণের ফাঁদে পাপুয়া নিউগিনি, টোঙ্গা, ভানুয়াতু, তুভালু, নাউরু দেশগুলো!

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপদেশগুলো অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় ঋণ নিয়েছে। এখন সেই ঋণ পরিশোধ শুরু করার সময় এসেছে। কিন্তু সাউথ প্যাসিফিকের যে দেশগুলো এই ঋণ নিয়েছে, তাদের সবাই তা পরিশোধ করতে পারবে না।

প্যাসিফিক আইল্যান্ডের দ্বীপগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ভঙ্গুর অবকাঠামো ও নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিজনিত সমস্যায় জর্জরিত। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই তারা চীনের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিআরআই প্রকল্পের আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। টোঙ্গা, ভানুয়াতু ও পাপুয়া নিউগিনির মতো দেশগুলোয় ছোট ছোট ঋণের প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

কিন্তু এই ঋণ পরিশোধ ও পুনঃ অর্থায়নের আলোচনা করতে গিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপদেশগুলো পরীক্ষার মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই দেশগুলোকে ঋণের কিস্তি পরিশোধের মতো রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে ছোট দ্বীপ নাউরু ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে চাপে পড়ে গেছে।

এ ছাড়া তারা আন্তদেশীয় সংগঠন প্যাসিফিক আইল্যান্ড ফোরামের অনুষ্ঠান আয়োজন করে চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। আপাতভাবে নাউরুতে চীনের একটি প্রতিনিধিদলের অতিরিক্ত দাবিদাওয়া নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় চীনের ব্যাপারে দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য দ্বীপের হতাশার বিষয়টিও বেরিয়ে এসেছে।

কারণ চীন আগ্রাসীভাবে এসব ছোট ছোট দেশকে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগের জন্য চাপ দিয়ে থাকে। নাউরুর প্রেসিডেন্ট ব্যারন ওয়াকা ফোরামে তুভালুর প্রেসিডেন্টের আগে চীনা প্রতিনিধিদলকে কথা বলতে দিতে রাজি হননি। বাস্তবতা হলো তুভালু ও নাউরু উভয় দেশই চীনের চাপ সত্ত্বেও তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

ব্যারন ওয়াকা রয়টার্সকে বলেছেন, চীনের কূটনীতিক ডু কুইয়েন অত্যন্ত উদ্ধত। তিনি মানুষকে খুবই পীড়ন করেন। ওয়াকা কুইয়েনকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি আরও বলেছেন, এখন থেকে এই অঞ্চলের বৈঠকে এ ধরনের আচরণ সহ্য করা হবে না।ব্যাপারটা হলো, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই এই উত্তেজনা বাড়ছে।

এই মাসে টোঙ্গা ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার চীনা ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধ করবে। যদিও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিআরআই প্রকল্পের কাছে এই ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার নস্যি। কিন্তু টোঙ্গার কাছে তা অনেক বড় ব্যাপার; তাদের বার্ষিক জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং তাতে দ্বীপটির জাতীয় ঋণের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

ভবিষ্যতে পাপুয়া নিউগিনি ও ভানুয়াতু ঋণ পরিশোধের সময় হলে চাপে পড়বে। পাপুয়া নিউ গিনি সহজ শর্তে চীনের কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল, যা তার মোট ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ভানুয়াতুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও মারাত্মক। কারণ, তার মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি চীনা ঋণ। তথ্যসূত্র: প্রথমআলো ডটকম।

Check for details
SHARE