চাকরী ছেড়ে প্রথম দিকে ব্যবসার হাল ধরেছি অনেক কষ্টে!

রুবানা করিম কাজ করতেন একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে। চাকরির পাশাপাশি নিজের আগ্রহেই ইন্টারনেটে পণ্য বিক্রি শুরু করেছিলেন। বেশ সাড়া পেলেন। এখন চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি এখন পুরাদস্তুর উদ্যোক্তা। “সামাজিক মাধ্যমে শখের কাজগুলোর ছবি শেয়ার করতাম। বন্ধু-বান্ধবীরা খুব পছন্দ করতো। পরে ব্যবসার উদ্দেশ্যে একটি অনলাইন পেইজ খুললাম। সেখানের কাজগুলোতে প্রচুর সাড়া পেতাম। পরে চাকরি ছেড়ে পুরোদমে ব্যবসার সাথে আছি।”

তিনি বলছিলেন, ”প্রথমে পরিবারের সদস্যরা অনেক বিরোধিতা করেছিল যে, এত ভালো চাকরি ছেড়ে দিয়ে এই ব্যবসা করবে কেন? কিন্তু আমি আস্তে আস্তে শুরু করেছি। এখন প্রায় বিশ জন কর্মী আমার সঙ্গে কাজ করে। চাকরির চেয়ে এটা ভালো।”

বাংলাদেশে বছরে যে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছেন, রুবানা করিম তাদের একজন। এদের সবাই যে তার মতো সফল হন, তা নয়। ব্যর্থতার কাহিনীও অনেক আছে। ক্ষুদ্র আর মাঝারি উদ্যোক্তাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ। আর এই উদ্যোক্তা যদি হন নারী, তার সামনে বাধা আরও অনেক।

ক্ষুদ্র আর মাঝারি উদ্যোক্তাদের নিয়ে এখন ঢাকায় চলছে সর্ববৃহৎ এসএমই মেলা। বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি এই ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের কতটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়? কতটা কঠিন তাদের এই লড়াই? বেশিরভাগ উদ্যোক্তা প্রধানত পুঁজির সংকটের কথাই বললেন। ব্যাংক থেকে ঋণ, প্রাথমিক পুঁজি জোগাড় করার এবং বাজারজাত করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার কথা জানালেন উদ্যোক্তারা।

আরেকজন নারী উদ্যোক্তা সাবিহা ইসলাম বিথী বলছেন, “এই পথ চলাটা অনেক কঠিন ছিল। অনেক কষ্ট করে সবাই আসে। তাই আমিও ভেঙে পড়ি নি। সবসময় ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি যেন সফলতা পাই।” এদের অনেকে এরপরেও যেমন লড়াই করে টিকে রয়েছেন আবার অনেক উদ্যোক্তা টিকতে না পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

এরকম একজন শাহ আলম স্বপন বলছেন, “আমি দেশের নানা এলাকায় নিজে গিয়ে মধু সংগ্রহ করে বিক্রি করতাম। কিন্তু যেসব দোকানে মধু দিতাম, সেখানে অনেক টাকা বাকী পড়ে যায়। তারা টাকা দিতে গিয়েও নানা টালবাহানা করে। শেষে আর টিকতে না পেরে ব্যবসাটা ছেড়ে দিলাম।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে হিসাবে, বাংলাদেশে এখন ৬০ লাখের বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাদের বড় অংশটি নারী। এদের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে আরো কয়েকগুণ মানুষ আর বছরে যোগ হচ্ছে আরো প্রায় ৫০ হাজার উদ্যোক্তা। দিনে দিনে এই খাতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বড় একটি অংশ তাদের পেশায় ফেসবুক বা ওয়েবসাইটের মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করছেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ফারজানা খান বলছেন, অনেকে হয়তো শখের বশে ছোট আকারে প্রাথমিকভাবে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু একটা সময়ে ব্যবসা বাড়াতে গিয়ে তার টাকার বিষয়টা চলে আসে। তাকে কোয়ালিটিও নিশ্চিত করতে হয়। অনেকে হয়তো ঘরে বসে নানা পণ্য তৈরি করেন। কিন্তু বাজারজাত করতে গিয়ে তাকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। ঢাকার বাইরে ব্যাংকগুলো থেকেও হয়তো তারা সবসময় পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান না।

“কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেকে উদ্যোগী হয়ে সফলতা পাচ্ছেন। এদের বড় একটি অংশ নারী। দিনে দিনে তাদের সংখ্যাও বাড়ছে।” “আমাদের তরফ থেকেও আমরা সবরকম প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। কিভাবে উদ্যোক্তা হতে হবে, বাজারজাত করতে হবে, ব্যাংকের জন্য কাগজপত্র তৈরি করতে হবে, এসব শেখানো হচ্ছে। যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো সমাধানেরও চেষ্টা চলছে”, বলছেন ফারজানা খান।

আয়োজকদের আশা, এরকম উদ্যোক্তার সংখ্যা আরো বাড়লে দেশে বেকারত্বের হার অনেক কমে আসবে, বিশেষ করে সবচেয়ে উপকৃত হবে নারীরা। তবে আগ্রহীদের ধরে রাখতে হলে আর্থিক ঋণের চেয়েও বাজারজাত আর সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যাগুলোর সমাধান জরুরী বলে মনে করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসার এই উদ্যোক্তারা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা ডটকম।

Check for details
SHARE