চাকরী ছাড়ার আগে কী করবেন!

বিভিন্ন কারণে অনেক সময় চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরির সন্ধান করতে হয়। যদি মনে হয় যে চাকরি ছাড়তেই হবে, সে ক্ষেত্রেই কর্মস্থল ত্যাগ করার আগেই কিছু পরিকল্পনা করে রাখা প্রয়োজন যেন চাকরি ছাড়ার পর কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়। চাকরি ছাড়ার কারণে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন যার মধ্যে অন্যতম হলো আর্থিক সমস্যা। এর পাশাপাশি এ সময়ে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তবে আগে থেকেই কিছু পরিকল্পনা করে রাখলে এসব সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায় এবং নতুন কোনো চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা যায়।

জানতে হবে আপনি কী চান
একেকজন মানুষের চাকরি ছাড়ার কারণ একেক রকম। কেউ হয়তো বর্তমানে যা করছেন, তা করে আর মজা পাচ্ছেন না। কেউ আবার আরও বড় কোনো সুযোগ নেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্তটি নিয়ে থাকেন। আর যাদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মতো মনমানসিকতা আছে, তারা এক সময় নিজের উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। মোটকথা হলো আপনি কেন চাকরি ছাড়ছেন, সে বিষয়ে ভেবেচিন্তে নিতে হবে। শুধু নতুন চাকরি পাওয়ার জন্য চাকরি ছাড়লাম, এমন মনে করলে চলবে না। কারণ ক্যারিয়ারের একটি সিদ্ধান্ত কিন্তু পুরো জীবন পাল্টে দিতে পারে। তবে আপনি যদি এ বিষয়ে একেবারেই অন্ধকারে থাকেন, তাহলে একজন ক্যারিয়ার কাউন্সিলরের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

অর্থ সঞ্চয়
চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর যেহেতু আর কোনো আয়ের পথ থাকে না, তাই এ সময়ে চলার জন্য আগে থেকেই অর্থ জমিয়ে রাখতে হবে। ক্যারিয়ার পরামর্শকদের মতে, অন্তত তিন মাস চলা যাবে, এমন টাকা হাতে রেখে চাকরি ছাড়া উচিত। কারণ হুট করেই নতুন কোনো চাকরি নাও মিলতে পারে। আর কেউ যদি নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য এ সিদ্ধান্তটি নিয়ে থাকেন, তাহলে তার জন্য তো হাতে জমা টাকা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ব্যবসা চালু করলেই সেটি লাভের মুখ দেখবে, এমন নিশ্চয়তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে না।

লিঙ্কডইন প্রোফাইল তৈরি
পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিঙ্কডইনে একটি প্রোফাইল অনেক সময় চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে লিঙ্কডইনের মাধ্যমেই অনেক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে এমন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান লিঙ্কডইন প্রোফাইল ঘেঁটে দক্ষ কর্মী খুঁজে বের করে সরাসরি নিয়োগ দিয়ে থাকে।

নেটওয়ার্কিং
ক্যারিয়ারের জন্য নেটওয়ার্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। নতুন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বন্ধু কিংবা সহকর্মীরা বেশ সহায়ক হতে পারেন। তাদের সাথে চাকরি পরিবর্তন করার বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের জানাতে হবে আপনি কেমন চাকরি খুঁজছেন। বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশ নিতে হবে, পরিচিত হতে হবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের সাথে। হয়তো এর মাধ্যমেই মিলে যেতে পারে নতুন একটি চাকরি।

নতুন চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত পুরনোটি ধরে রাখা
অনেকের কাছে বিষয়টি একটু কঠিন মনে হতে পারে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় যদি সে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে মনের মধ্যে বিরূপ ধারণা চলে আসে, তাহলে সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়াটা বেশ কঠিনই বটে। তবে একটু ধৈর্য ধরে আরও কিছুদিন কাজ করে নতুন চাকরি পাওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানটি ছাড়া উচিত, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে ওই প্রতিষ্ঠান এবং সেখানকার সহকর্মীদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা যাবে। আর ভবিষ্যতে হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের জন্যও ডাক পেতে পারেন সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক ডটকম।

Check for details
SHARE