চাকরীর পাশাপাশি গার্মেন্টস ষ্টকলট ব্যবসার প্লানিং!

ষ্টকলট গার্মেন্টস সেক্টরে খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা। গার্মেন্টস এর জন্য ষ্টক লট একটি দূর্ভাগ্যজনক ব্যপার। কারন- শিপমেন্ট বাতিল হলে বা কোনো কারনে কিছু মাল থেকে গেলে গার্মেন্টস এর ভাষায় – একে ষ্টকলট বলে। এ ব্যবসায় মাসে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে হলে আপনাকে কি করতে হবে ?

যদি ই মেইল , এস এম এস করবার অভ্যাস থাকে, স্মৃতিশক্তি থাকে প্রখর- তাহলে- এই সেক্টর নিয়ে আপনিও কাজ করতে পারেন। আপনি যদি দেশে থাকেন- আপনার আশে পাশে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে ষ্টকলটের কি মাল আছে , তার বর্ননা নিয়ে ছবি সহ ই মেইল করুন। ব্যস, বায়ার দের কাছে ষ্টকলটের মাল খুবই চাহিদা সম্পন্ন।

আপনি সংবাদ প্রদান করে পেতে পারেন .৫০ পয়সা করে কমিশন, যখন এটি বিক্রয় হবে। বায়ার তৈরি করার দায়িত্ব আমাদের। ই মেইল করবার দায়িত্ব আপনার। ধরা যাক , আপনার নিকটবর্তী একটি গার্মেন্টস এ ৫০০০০ টি শার্ট আছে । আপনি একটি ই মেইল করলেন, বায়ার দিলাম আমি, বা আমরা কিনে নিলাম।

আপনি ৫০,০০০ মালে .৫০ পয়সা করে পাবেন ২৫০০০ টাকা। বোঝা গেলো ? ইচ্ছা এবং কিছুটা শ্রম , আপনাকে এনে দিতে পারে সাফল্য। আগামি কাল সকাল থেকে ই লেগে পড়তে পারেন, এই ডাটা সারভিসে। ডাটা দেবেন। পয়সা কামাবেন। যে কোনো পেশায় থেকে, আপনি এই বিজনেসের বেনিফিট ঘরে তুলতে পারেন।

ই মেইল করবার নিয়মাবলী: ছবি এবং তথ্য দিতে হবে।ছবি দেয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যেনো ছবিটি পরিষ্কার হয়, এজন্য মোবাইলের ভালো ক্যামেরা থাকলে যথেষ্ট ।

ছবি তোলার ক্ষেত্রে ১. প্রোডাক্টের কালার ওয়াইজ, সামনের , পেছনের ছবি। ২. প্রোডাক্টের লগো যেনো ক্লিয়ারলি বোঝা যায়, এরকম ছবি। ৩. কলার আর কাফ, বাটন আর ষ্টাইলের বিগ ক্লোজ আলাদা আলাদা ছবি। ৪. প্রোডাক্টগুলো কি অবস্থায় রাখা আছে, তার ছবি। ৫. প্যাকিং লিষ্টের ছবি বা স্ক্যান কপি।৬. কয়েক ধরনের কালার থাকলে, সব কালারের প্রোডাক্ট এক সাথে সাজিয়ে কয়েক রকম ছবি।

সাধারনত- কি কি প্রোডাক্ট চলে ?চলে না এমন কোনো প্রোডাক্ট নেই।দামে মিলতে হয় আর কোয়ালিটি। কি কি তথ্য দিতে হবে ছবির সঙ্গে ?
একটি নমুনা দেখে নিনঃ ১. প্রোডাক্টের নাম- প্রিন্টেড টি শার্ট ফরে মেন। ২. কালার- ৪ টি। শাদা, কালো, লাল, নীল। ৩. সাইজ- ৪ টি স্মল থেকে লার্জ। ৪. জি এস এম ( কাপড়ের ঘনত্ব) ১৬০ জি এস এম

৫. লেভেল- টম টেইলর/ জেক এন্ড জোন্স/ পুমা/এভার লাষ্ট.. ইত্যাদি ৬. ষ্ট্যাটাস- ১/১ পলি, কার্টুন করা মাল না কি লুজ ফ্রেশ। ৭. ১০০ শত ভাগ এক্সপোর্ট ইপযোগী মাল কি না ? ৮. আর এন নাম্বার যদি থাকে- নাম্বার। ৯. অরজিনাল ষ্টক কি না ? হ্য/ না। ১০. মূল্য।

১১. মেজারমেন্ট- ( কোন দেশের মাপে তৈরি? ) ইউরোপিয়ান মেজারমেন্ট/ এমেরিকান মেজারমেন্ট/এশিয়ান মেজারমেন্ট।( উল্লেখ্য, কোরিয়ান মেজারমেন্ট এর বায়ার পাওয়া মুশকিল।) ১২. প্রিন্টের ষ্টাইল কয়টা ? ১৩. লোকেশন- গাজীপুর/ নারায়নগঞ্জ/ সাভার/ চিটাগাং/ নরসিংদী/ কুমিল্লা/ ইত্যাদি।

১৪. প্রতিটি ই মেইলের সঙ্গে আপনার নাম ও ইমেইল নাম্বার এবং কোন এলাকায় আপনি অবস্থান করছেন – তার নাম। ১৫. সোয়েটার হলে কত গেজ ? ১৬. প্যান্ট হলে কোমড় আর লম্বা , পাশ কতো ? ১৭. শার্ট , টি শার্ট আর সব পোশাকের ক্ষেত্রেও লম্বা আর প্রশস্ততার মাপ জানালে ভালো।

১৮. ফেব্রিক কোয়ালিটি/ যেমন- ১০০ কটন/ নাইলন/ পলিষ্টার / জার্সি / না কি মিক্সড? কাজের শুরুর দিকে এতো সব ইনফরমেশন নিতে মনে থাকবে না। তাই , একটি চার্ট করে নিলে , ঘর পূরন করে নিয়ে এসে , ছবির সঙ্গে তথ্য দিয়ে ই মেইল করুন। কোথায় ই মেইল করবেন ? আপনার মেইল @yahoo.com একটি ই মেইল আর একটি এস এম এস ০১৭ আপনার নাম্বার

প্রোডাক্টের সন্ধান পাবার জন্য, আপনার নিকটবর্তী গার্মেন্টস এর পি এম, জিএম দের সাথে যোগাযোগ করুন। অথবা, মালামালের খবর অনুসন্ধানের জন্য , গার্মেন্টেস এ কর্মরত পরিচিত জনদের সহযোগীতা নিন।

যারা বিদেশে থাকেন: শর্ট কোয়ান্টিটি প্রোডাক্ট , আপনি নিজে নিয়ে বিক্রয় করতে পারেন আপনার আশেপাশের সুপার শপ গুলোতে। আপনার অবস্থানরত দেশে কি প্রোডাক্টের সব চেয়ে বেশী কদর এবং সুপার শপ গুলো আপনাকে কত প্রাইস দেবে , ঠিক ঠাক করে নিয়ে ১০০০ থেকে ৩০০০ পিস দিয়ে শুর করতে পারেন আপনার ষ্টকলট ব্যবসার জীবন।

সাধারনত সুপার শপে সরাসরি দিতে পারলে আপনি ২০০ পারসেন্ট লাভ করতে পারেন। তার মানে , ২ লক্ষ টাকার প্রোডাক্ট আপনার সুপার শপে বিপনন করে ২৫ দিনে ৩ গুন। ভেবে দেখুন। যে কোনো কাজ করবার ফাঁকে ফাঁকে সম্ভব। আপনাকে যা করতে হবে- কি প্রোডাক্ট বেশী চলে – তার নাম জানতে হবে।

কি ধরনের সাইজ চলে , তা জানতে হবে। কয়টা কালার দরকার। জি এস এম, সাইজ, মেজারমেন্ট, অর্থাৎ সুপার শপের বা শপিং সেন্টারের রিকোয়ারমেন্ট । ২/৩ লক্ষ টাকায় সহজেই আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনার নিজের লাইসেন্স নাই , কিভাবে প্রোডাক্ট আপনার ওখানে নিয়ে যাবেন ?

খুব সহজ। ২% কমিশন দিয়ে পরিচিত কারো এক্সপোর্ট / ইমপোর্ট লাইসেন্স ব্যবহার করুন। ব্যবসা জমে উঠলে , নিজের জন্য একটি অনুরূপ লাইসেন্স করে নিন।’ কোথায় ই মেইল করবেন ? আপনি@yahoo.com একটি ই মেইল আর একটি এস এম এস ০১৭১….. http://www.আপনার ওয়েবসাইট .com

কি কি ধরনের প্রোডাক্ট পাওয়া যেতে পারে: ১. সলিড টি শার্ট ২.প্রিন্টেড টি শার্ট ৩. টাইস ৪. টেনটপ ৫.ডেনিম বা অন্যান্য প্যান্ট ৬.শর্ট কার্গো প্যান্ট ৭. লেডিস টি শার্ট / ফেন্সি আইটেম। ৮. আন্ডার ওয়ার ৯. ব্রা/ পেন্টি। ১০. পলো শার্ট/ ইউ এস পলো। ১১. শর্ট প্যান্ট। ১২ নাইটি। ১৩. রেইন কোর্ট ১৪. সুইমিং ড্রেস। ১৫. বয়েজ/ গার্লস আইটেম। ১৬. সোয়েটার আপনার মার্কেটের ডিমান্ড বুঝে , প্রোডাক্ট কিনতে পারলে । সুনিশ্চিত ভাবে দ্রুত অনেক টাকা বানাতে পারবেন রাতারাতি।

তথ্যসূত্র: টেক্সটাইল ল্যাব।

Check for details
SHARE