গাড়ী আটক হলে!

ট্রাফিক আইন ভাঙাসহ বিভিন্ন কারণে পুলিশ গাড়ি আটক করে করে থাকে। গাড়ি আটক হলে অনেকেই ঘাবড়ে যান, মনে করেন গাড়ি ছাড়িয়ে আনা বেশ ঝামেলার কাজ। অনেকে আবার উৎকোচ দিয়ে কাল্পনিক ঝামেলার হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন।

পুলিশ বিভিন্ন কারণে আপনার গাড়ি আটক করতে পারে, যেমন, সঠিক জায়গায় গাড়ি পার্ক না করা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চলতে গিয়ে পুলিশের নির্দেশনা না মানা, গাড়ির ফিটনেস সংক্রান্ত কাগজপত্র নবায়ন না করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন না করা ইত্যাদি।

গাড়ি আটক করার সময় পুলিশ একটি বা দু’টি কাগজ জব্দ করবে এবং আপনাকে একটি রশিদ দেবে। ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের চারটি জোন রয়েছে, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম। পুলিশের দেয়া রশিদের পেছনেই লেখা থাকবে কোন জোনের ট্রাফিক পুলিশ আপনার গাড়িটি আটক করলো। আপনাকে সেই জোনের অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। রশিদের পেছনে জোন ভিত্তিক উপস্থিতির সময়ও লেখা থাকে। কাজেই সে অনুয়ায়ী গেলে আপনার সময় বাঁচবে। তবে অন্তত চার-পাঁচদিন পরে যাওয়াই ভালো, কারণ কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট অফিসে পৌঁছাতে সাধারণত তিন-চারদিন সময় লাগে।

কোথায়, কি অপরাধে জরিমানা করা হল, কে জরিমানা করলেন, কত তারিখের মধ্যে হাজির হতে হবে সব কিছুই লিখে দেয়া হয় রশিদটিতে। সংশ্লিষ্ট জোনের ডেপুটি কমিশনার জরিমানা নির্ধারণের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে আপনি আপনার অনুকূলে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে পারেন।

ডেপুটি কমিশনার পূর্ণ জরিমানার চার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারন পারেন, এমনকি জরিমানা মওকুফও করে দিতে পারেন। তবে আপনার ড্রাইভারকে রশিদসহ পাঠিয়ে জরিমানা দিয়ে আসাটাই বেটার অপশন বলা যায়। জরিমানা দেবার জন্য ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অফিস থেকে আরেকটি রশিদ দেয়া হবে আপনাকে।

তবে জরিমানা না দিলে বা যথাসময়ে হাজির না হলে অপরাধের ধরন, ঘটনাস্থল ইত্যাদির প্রতিবেদন সহকারে মামলাটি আদালতে প্রেরণ করা হবে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার জন্য। এসব ক্ষেত্রে জরিমানা নির্ধারনের পর আপনি যদি মনে করেন আপনার ওপর অন্যায় করা হয়েছে তবে আদালতেও যেতে পারেন। সামান্য জরিমানার জন্য আদালতে গিয়ে আর্থিক বিচারে আপনার কোন ফায়দা হবে না, তবে রায় আপনার অনুকূলে গেলে সেটি আপনার জন্য একটি নৈতিক বিজয় হবে। বলাহুল্য এত ঝামেলা করে কেউ সাধারণত জরিমানা চ্যালেঞ্জ করতে আদালতে যায় না।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ: ধারা ১৩৭ অপরাধের শাস্তি প্রদানের সাধারণ বিধান ২০০ টাকা, ধারা ১৩৯ নিষিদ্ধ হর্ণ কিংবা শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র লাগানো ১০০ টাকা, ধারা ১৪০‌ আদেশ অমান্য, বাধা সৃস্টি ও তথ্য প্রদানের অস্বীকৃতি ৫০০ টাকা, ধারা ১৪২ নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ী চালনা ৩০০ টাকা, ধারা ১৪৬ দূর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধ ৫০০-১০০০ টাকা, ধারা ১৪৯ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় গাড়ী ব্যবহার ৩০০ টাকা, ধারা ১৫০ ধোঁয়া বের হওয়া মটরযান ব্যবহার ২০০ টাকা।

ধারা ১৫১ এ অধ্যাদেশের সাথে সংগতিহীন অবস্থায় গাড়ী বিক্রয় অথবা গাড়ীর পরিবর্তন সাধন বিক্রয়ে ৫,০০০টাকা পরিবর্তনে ১২৫০ টাকা, ধারা ১৫২ রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা পারমিট ছাড়া মটরগাড়ী ব্যবহার। ৭০০ টাকা, ধারা ১৫৩ অনুমোদিত এজেন্ট ও ক্যানভাসার ৩০০ টাকা, ধারা ১৫৪ অনুমোদিত ওজন অতিক্রমপূর্বক গাড়ী চালনা ৫০০-১০০০ টাকা, ধারা ১৫৫ বীমা ছাড়া বা মেয়াদ উত্তীর্ণের জন্য ৫০০-২০০০ টাকা, ধারা ১৫৬ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালনা ৫০০-১০০০ টাকা, ধারা ১৫৭ প্রকাশ্য সড়কে অথবা প্রকাশ্য স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ২৫০-৫০০ টাকা, ধারা ১৫৮ মটরযানে অননুমোদিত হস্তক্ষেপ ৫০০-১০০০ টাকা।

ব্যাংক/মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ: মামলার জরিমানা আদায়ের টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লি: (ইউসিবিএল) এর ঢাকাস্থ যে কোন শাখায় অথবা ইউ ক্যাশ সেবা এর মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। নাম, ঠিকানা, ফোন নং সঠিক থাকা সাপেক্ষে আপনার গাড়ির কাগজপত্র সুন্দরবন কুরিয়ারের মাধ্যমে ঠিকানা অনুযায়ী প্রেরণ করা হইবে।

তথ্যসূত্র: অনলাইন ঢাকা গাইড ডটকম।

Check for details
SHARE