গার্মেন্টস অর্ডার নিশ্চিতের জন্য বিশ্লেষন করবেন যেভাবে…

একজন মার্চেন্ডাইজারকে একটি গার্মেন্টস রপ্তানী আদেশ নিশ্চিত করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত পচুর পরিমান চাপের মধ্যে থাকতে হয়। এবং সেই মুহুর্তে তাকে গার্মেন্টস এর খরচ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়। কারন অর্ডারটি নিশ্চিতকরনের মধ্য দিয়ে তাকে মুনাফা বের করতে হবে। যদি এক্ষত্রে নুন্যতম ভুল হয় তবে কোম্পানীর জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং গার্মেন্টস রপ্তানী আদেশ অত্যন্ত সর্তকতার সাথে নিশ্চিতকরন করতে হয় তাকে।

রপ্তানী অর্ডার নিশ্চিতকরনের ক্ষেত্রে যে সকল বিশ্লেষন গুলো করা হয় সে সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করব এ লেখাটির মাধ্যমে।

অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে গার্মেন্টস বিশ্লেষণ পদ্ধতি:

১. মেজারমেন্ট চার্ট:
পোশাক রপ্তানি অর্ডারের জন্য গার্মেন্ট বিশ্লেষণের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে মেজারমেন্ট চার্ট। পোশাকের ক্রেতার নিকট থেকে মার্চেন্ডাইজার কাছে পরিমাপ চার্ট প্রেরণ করা হয়।  এই পরিমাপ চার্ট অনুসরণ করে, নির্মাতার পোষাক তৈরীর উপায় আছে কিনা সে বিষয়টি সম্পর্কে মার্চেন্ডাইজারকে নিশ্চিত হতে হয়।

২. সাইজ রেশিও:
পরবর্তী ধাপে সাইজ রেশিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ভাবে বিবেচনা করতে হয় একজন মার্চেন্ডাইজারকে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সাইজে গার্মেন্টস পোষাক তৈরী করতে হয়। উদাহরন স্বরুপ- XS, S, M, L, XL,  এবং XXL ইত্যাদি হতে পারে।

৩. কালার বা রঙ:
ক্রেতার চহিদা অনুযায়ী পোষাকের রঙ নিশ্চিত করন করতে হয়। সে অনুযায়ী ক্রেতা মার্চেন্ডাইজারকে রঙ ও কালার কোড প্রেরন করে। ক্রেতার নির্দিষ্ট করে দেওয়া রঙ ও কালার কোডের উপর ভিত্তি করে মার্চেন্ডাইজারকে ল্যাব ও অানুষঙ্গিক বিষয়াদি সতর্কতার সাথে সম্পূর্ণ করতে হয়।

৪. গার্মেন্টস এর কোয়ালিটি:
আধুনিক পোষাক রপ্তানী ব্যবসা মানেই কোয়ালিটি সম্পন্ন গার্মেন্টস উৎপাদন। একজন ক্রেতা একটি গার্মেন্টস এর জন্য প্রচুর পরিমান ডলার ব্যয় করে। তাই কোয়ালিটি রক্ষা করতে হয় খুব গুরুত্বের সাথে। গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজারকে পরিমাপ সহনশীলতা, ফ্যাব্রিকের শক্তি, পেস শক্তি, ফ্যাব্রিকের অপূর্ণতা, গার্মেন্টস অপূর্ণতা ইত্যাদি কোয়ালিটির পোশাক বিশ্লেষণের উপর অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হয়।

৫. প্রয়োজনীয় সবকিছুর আনুষাঙ্গিক তালিকা:
গার্মেন্টস অর্ডার নিশ্চিত করনের জন্য পোষাক তৈরীর জন্য আনুষাঙ্গিক সকল কিছু সম্পর্কে মার্চেন্ডাইজারের ব্যাপক বিস্তৃত ধারনা থাকতে হবে। পোশাক তৈরীর জন্য কোন বস্তুটি কোথা থেকে কি মূল্যে সংগ্রহ করা সম্ভব সে সম্পর্কে ধারনা না থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। তাই আনুষাঙ্গিক সকল কিছুর উপর মার্চেন্ডাইজারকে তালিকা তৈরী করতে হবে।

৬. ডজন প্রতি ফ্রেবিক বা কাপড় খরচ:
ফ্রেব্রিক বা কাপড়ের খরচ সঠিক ভাবে নির্নয় করা খুবই গুরত্বপূর্ণ। আর এই কাপড়ের উপর নির্ভর করেই গার্মেন্টস এর লাভ ক্ষতির অনেকাংশ নির্ভর করে। পরিমাপ চার্টের উপর নির্ভর করে কাপড়ের জিএসএম, কোয়ালিটি, পরিমান এর সঠিক হিসাব বের করতে হবে মার্চেন্ডাইজারকে। একজন মাচেন্ডাইজারের এ বিষয়ে খুবই দক্ষ হওয়া আবশ্যক।

৭. ডজন প্রতি গার্মেন্টস খরচ:
কাপড় বা ফ্যাব্রিক খরচ নির্ধারনের পরে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গার্মেন্টস খরচ নির্ধারন করা।  ফ্যাব্রিক খরচ, আনুষাঙ্গিক খরচ, ওয়াশিং খরচ, প্রিন্টিং খরচ রঞ্জনবিদ্যা খরচ, সূচিকর্ম খরচ এবং অন্যান্য অন্তর্ভুক্ত করে গার্মেন্টস খরচ নির্ধারন করতে হয়। সাধারনত ডজন প্রতি এ খরচ নির্ধারন করা হয়ে থাকে।

৮. উৎপাদন সময় ও ডেলিভারীর তারিখ:
রপ্তানী অর্ডার নিশ্চিত করার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত সময় এবং ডেলিভারীর তারিখ অনুযায়ী গার্মেন্টস উৎপাদন ও ডেলিভারী নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা সে বিষয়ে ধারনা রাখা। প্রয়োজনে কর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে রপ্তানী অর্ডার কনর্ফম করতে হবে।

একজন মার্চেন্ডাইজারকে বলা হয় একটি এ্যাপারেল ইন্ডাষ্ট্রি এর প্রান। কারন তার উপর অর্পিত দায়িত্বের উপর প্রতিষ্ঠানের লাভ ক্ষতির অনেককাংশ নির্ভর করে।  উপরোক্ত বিষয়ে পূর্ন ধারনা রেখে একজন মার্চেন্ডাইজার গার্মেন্টস অর্ডার নিশ্চত করে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে।

মেহেদী হাসান / উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

Check for details
SHARE