কেন ব্যবসা আরম্ভ করবেন?

বাংলাদেশের লেখাপড়ার প্রেক্ষাপট চাকুরীর জন্য নির্মিত। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা অবস্থায় অবচেতন মনে চাকুরীর কথা প্রবেশ করানো হয়। নিজের পায়ে দাড়ানো, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি-এই ধারনাগুলো খুব কমই রয়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম। এছাড়াও ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে হুজুর (সা:) এর অনেক হাদীস রয়েছে, যা বিভিন্ন হাদীস শরীফে লিপিবদ্ধ আছে। একটু কষ্ট করে খুঁজলেই পাওয়া যাবে।

দেখা গেছে, যাদের পারিবারিকভাবে ব্যবসা রয়েছে তারা ব্যবসায় জড়িয়ে পরছে, আবার এম.বি.এ গ্রাজুয়েটরাও উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চিন্তা ভাবনা করেন। বাকীরা অধিকাংশই চাকুরীর প্রতি ঝুঁকে পরছে। এভাবে দেশের বিপুল শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান জনসংখ্যা তথা যুবসমাজ যদি চাকুরীর (অন্যের জন্য খেটে মরা!) পেছনে লেগে থাকে, সেক্ষেত্রে দেশের উন্নতির আশা করা খুবই কঠিন ব্যাপার।

সবাই চান সুখে শান্তিতে বসবাস করতে। আর এই চাওয়ার অন্যতম সমাধান হচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তি। চাকুরী এই অর্থনৈতিক মুক্তির স্থায়ী সমাধান নয়। আপনি যেকোন সময় বরখাস্থ হতে পারেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেই? – সে কথা আমি বলছি না। দুটোর প্রেক্ষাপট আলাদা। তবে সবাইকেই ব্যবসা করতে হবে সেটাও বলছি না। চাইলেই আপনি ব্যবসা করতে পারবেন না বা ব্যবসায়ী হয়ে উঠবেন না। এর জন্য প্রয়োজন ব্যবসায়িক জ্ঞান, মেধা ধৈর্য্য ও ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা।

আপনার বয়স যদি ১৮-৩০ এর মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে ব্যবসার ঝুঁকি নিতেই পারেন। আপনি একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করার মাধ্যমে নিজে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে পা রাখলেন, অন্যের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেন, দেশের উন্নতিতে অংশীদার হলেন। আপনি ব্যবসায়ী হওয়ার মনস্থির করে থাকলে আপনাকে কর্পোরেট জগতে স্বাগত জানাচ্ছি।

ব্যবসা অনেক ধরনের রয়েছে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ব্যবসাকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। ক্ষুদ্র, মাঝারী ও বৃহৎ। আমরা এই ক্ষেত্রে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করব। আপনি জানেন বিন্দু থেকেই সিন্ধু হয়। আপনি এখন ব্যবসা শিখছেন। তাই ক্ষুদ্র থেকে আরম্ভ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এটাকে আমরা বলতে পারি Small Enterprise. যেহেতু আপনি ব্যবসা করার মনস্থির করেছেন, সেহেতু এখন প্রথম কাজ হচ্ছে ব্যবসা নির্বাচন করা। জগতে ব্যবসার অভাব নেই। নিচের লিস্টটি লক্ষ্য করুন।

উপরোক্ত লিস্ট হতে আপনি যেকোন ১টি বা ২টি প্রকল্প আরম্ভ করতে পারেন। ব্যবসা আরম্ভের ক্ষেত্রে কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। যেমন: আপনি যে ব্যবসাটি করতে চাচ্ছেন সেটি সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত জানতে হবে, কি পরিমান বিক্রয় করলে কত লাভ হতে পারে, কেন আপনি লোকসানে পড়তে পারেন, লোকসান নিরূপনের উপায় কি, পরিবহন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মার্কেট পরিসংখ্যান, যারা ইতিপূর্বে এই ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের মতামত, লোন সুবিধা ইত্যাদি। উপরোক্ত লিস্টের যেকোন প্রকল্পের আওতায় আপনি এসএমই (SME) লোন পাবেন। বাংলাদেশে বেশ কিছু ব্যাংক এসএমই (SME) লোন প্রদান করে থাকে। যেমন :-

  1. Bank Al-Falah 2. Mutual Trust Bank Ltd. 3. Dhaka Bank Ltd. 4. Merchantile Bank Ltd. 5. Premier Bank Ltd. 6. One Bank Ltd. 7. Janata Bank Ltd. 8. Brac Bank Ltd. 9. City Bank Ltd. 10. Rajshahi Krishi Unnayan Bank 11. IFIC Bank Ltd. 12. Standard Chartered Bank Ltd. 13. Dutch-Bangla Bank Ltd. 14. Bank Asia Ltd. 15. AB Bank Ltd. 16. Industrial & Infrastructure Development Finance Company Limited

উল্লেখিত ব্যাংকগুলোর এসএমই (SME) শাখায় খোঁজ নিলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এছাড়াও এসএমই (SME) লোনের ব্যাপারে ব্যাংকগুলো কোন সমস্যা করলে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে পারেন। নিচে লক্ষ্য করুন – জনাব সুকোমল সিংহ চৌধুরী – মহাব্যবস্থাপক – ০১৮১৯৫০২০৯৬ জনাব মো: আশ্রাফুল আলম – যুগ্ন পরিচালক – ০১৭১৪১১০৭৯২ জনাব এসএম মোহসীন হোসেন – যুগ্ন পরিচালক – ০১৭১১৩১৯৫৫৯ জনাব মো: মনিরুজ্জামান সরকার – যুগ্ন পরিচালক – ০১৮১৯৪৮৮৪৬১ জনাব মো: তহিদুল ইসলাম – উপ পরিচালক – ০১৭৩২১৮৩৫১৮

এখন আপনি যদি আমার পরামর্শ চান, তাহলে আমি বলব আমদানী-রপ্তানী ব্যবসা হচ্ছে রাজকীয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি আমদানী-রপ্তানী ব্যবসা করতে পারেন, সেটা জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে http://www.alibaba.com/ এ। এখানে আপনি বাম পাশের সাইড বারে অনেক ধরনের ব্যবসা ক্যাটাগরী দেখতে পাবেন। ওখানে যতগুলো লিস্ট রয়েছে ঠিক ততগুলো বা তদোর্ধ্ব ক্ষেত্রে আপনি আমদানী-রপ্তানী ব্যবসা করতে পারেন। বেছে নিন আপনার পছন্দেরটি, আর নেমে যান নিজের ব্যবসায়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Check for details
SHARE