একটি পুরাতন কেটলি দিয়েছে লক্ষ কোটি ডলার ব্যবসা

একজন রাজা অন্য রাজা কতৃক বন্দী হলে তার মুক্তিপন কত হতে পারে ধারণা করতে পারবেন? নিশ্চিত প্রচুর অর্থ। কিন্তু একটা কেটলির দাম কি তার থেকে বেশী হতে পারে বলে কখনও ধারণা করতে পারেন আপনি? একটি বিশ্বাস যা এই কেটলি খেকে ১৩০ বছর যাবৎ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা দিয়ে আসছে কাঁচের বোতলে।

শহরের তরুন এক ঔষধ বিক্রেতার দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে গ্রামের এক বৃদ্ধ চিকিৎসক। ঘোড়ায় চড়ে আসা বৃদ্ধ লোকটির সাথে তরুণের একঘন্টা ধরে খুব শান্তভাবে নিচু স্বরে দর কষাকষি চলে। এরপর বৃদ্ধ চিকিৎসক একটি হালকা গাড়িতে করে বেরিয়ে গেলেন এবং ফিরে এলেন বিশাল এক পুরাতন কেটলি নিয়ে। সাথে একটি লম্বা কাঠের হাতল। গুদাম ঘরে রাখা হল কেটলিটি।

তরুন ঔষধ বিক্রেতা কেটলিটিকে ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। এবং পকেটে হাত দিয়ে তার সারা জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ৫০০ টাকার একটা অর্থের তোড়া বের করে বৃদ্ধের হাতে দিলেন। বৃদ্ধ চিকিৎসক ছোট এক টুকরো কাগজ দিলেন তরুনকে। যাতে ছিল রহস্যময়ী তত্ব। যা একজন রাজার মুক্তিপনের চেয়ে  বেশী দামী ছিল।

বৃদ্ধ চিকিৎসক খুব খুশি হয়েছিল পাঁচশ টাকায় কেটলিটি বিক্রি করতে পেরে। কারন তার ঋণ পরিশোধ ও মানষিক স্বাধীনতার জন্য এই অর্থ যথেষ্ট ছিল। আর অন্যদিকে ঔষধ বিক্রেতা একটি সুযোগ নিল সমস্ত সঞ্চয়ের বিনিময়ে এক টুকরা কাগজ আর একটি পুরাতন কেটলির উপর ঝুঁকি নিয়ে। ঔষধ বিক্রেতা তরুন স্বপ্নেও ভাবেনি একটি ধারনার উপর বিনিয়োগ করে এত বিপুল পরিমান অর্থের দেখা সে পাবে। সে কল্পনাও করেনি এই ধারনা তাকে এত স্বর্ণ এনে দিবে যা আলাদিনের চেরাগের রহস্যকেও হার মানাবে।

কেটলির নতুন ক্রেতা ছোট কাগজের টুকরার বার্তা দিয়ে কেটলিকে গরম করার কাজ শুরু করলেন। কিন্তু এই জাদুকরী বার্তার কার্যকারিতা চিকিৎসকের জানা না থাকলেও জানা ছিল ঔষধ বিক্রেতার যা সৌভাগ্য হয়ে কেটলি দিয়ে প্রবাহিত হল তরুনের জন্য। এই কেটলি পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ চিনি খরিদ্দার। এই কেটলি যা আজও সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ পুরুষ মহিলার কর্মক্ষেত্র তৈরী করেছে।

এক জাদুকরী কেটলি যা থেকে তৈরী হল পানীয়। কোন রকম মাতলামীর উদ্দীপনা ছাড়া এক ভিন্ন স্বাদের পানীয় যা একজন মানুষের শরীর ও মনকে সতেজ ও চাঙ্গা করে তোলে নিমেষেই। এই পানীয় কাচের বোতলে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের হাতে তুলে দেওয়া জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মের সংস্থান তৈরী হল। পানীয় তৈরীর উপকরন, বিজ্ঞাপন, পরিবহন, বোতলজাত, বিক্রয় পক্রিয়ায় যুক্ত হল লক্ষ লক্ষ মানুষ।

একটি পুরাতন কেটলির সাথে জাদুকরী কাগজের টুকরার ধারনা পূর্ণতা এনেদিল তরুণকে কোকাকোলা তৈরীর মাধ্যমে। যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও টিকে থেকে গত ১৩০ বছর ধরে লক্ষ কোটি টাকা এনে দিয়েছে তরুনকে।

কখনও কখনও একাটা ধারনার উপর ঝুকি নিয়ে খুলে যেতে পারে সৌভাগ্যের দুয়ার। তাই লেগে থাকুন। গবেষণা লব্ধ কোন জ্ঞানকে পণ্যতে রুপান্তর করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। শুভকামনা সকলের জন্য।

 

মোটিভেশনাল লেখক:
মাসুদুর রহমান মাসুদ/উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।
নেপোলিয়ান হিলের থিংক এন্ড গ্রো রিচ বইয়ের অবলম্বনে লিখা।

 

Check for details
SHARE