আর্বজনা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত থেকে হতে পারে ব্যবসা

 

আবর্জনা থেকে যখন ব্যবসা তখন ব্যাপারটা অবাক করার মত হতে পারে আপনার কাছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে এর ব্যাপক সম্ভাবনার কথা। আর এই ব্যবসার মাধ্যমে আয়ের পথ খুলতে পারেন আপনি। হতে পারেন সম্ভাবনাময় ব্যবসার এক সফল উদ্যোক্তা।

আমাদের প্রতিদিনকার উৎপাদিত বর্জ্য আমরা নানা ভাবে ফেলে দেই। এই ফেলে দেওয়া বর্জ্য আমাদের জন্য বড় একটি সম্পদ। যার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বড় অংকের অর্থ আয়ের পাশাপাশি দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ফসলের উৎপাদনে আসতে পারে বড় ধরনের সফলতা। সেই সাথে আমরা পেতে পারি দূর্গন্ধমুক্ত সুন্দর পরিবেশ।

চলুন এবার জানার করি আপনার বর্জ্য ব্যবসা কিভাবে শুরু করতে পারেন সে সম্পর্কে। আপনার এলাকায় এ ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিক ভাবে যে কাজটি করতে হবে তা হল আপনি যে সকল বাসা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করবেন তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বিনিময়ে আপনি তাদের বাসা বাড়ির আবর্জনা সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবনা দিন। এভাবে আপনি আপনার কাংখিত কাষ্টমার খুঁজে নিতে পারবেন।

প্রতিদিনকার আবর্জনা পরিবহনের জন্য এবার আপনার দরকার হবে ক্যারিং ভ্যান। চার সাইডে লোহার শিট তৈরী দিয়ে বক্স ভ্যানগুলো আপনি পনের থেকে বিশ হাজার টাকায় তৈরী করে নিতে পারবেন। ময়লা আর্বজনা গুলো পরিবহনের জন্য আপনাকে লোক নিয়োগ দিতে হবে। যারা প্রতিদিন বাসায় বাসায় গিয়ে ময়লা আর্বজনা গুলো সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ডাষ্টবিনে ফেলবে।

সংগ্রহকৃত আবর্জনা গুলো থেকে রিসাইক্লিন আবর্জনা যেমন: প্রাষ্টিকের ব্যবহার্য ভাঙা জিনিসপত্র, টিনের বা লোহার টুকরা, কাগজের কার্টুন, সহ আরও বিভিন্ন বস্তু যা ভাঙারী হিসেবে আর্থিক মূল্য আছে সেগুলো সংগ্রহ করে সেখান থেকে বাড়তি অর্থ উপার্জন করাও সম্ভব। এছাড়াও আমাদের বাসাবাড়িতে যে সকল আর্বজনা গুলো তৈরী হয় সেগুলোর প্রায় ৮৫ শতাংশ আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করে জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব।

আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করতে চাইলে আপনার একটি নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা  করতে হবে। যেখানে আবর্জনা গুলো স্তুপকরে বাছাই করে একটা নির্দিষ্ট উপায়ে নির্দিষ্ট সময় পরে সেখান থেকে  উৎপাদিত জৈবসার তৈরী করে বাজারজাত করতে পারবেন। আর এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত জৈবসার ফসলের ক্ষেতে ব্যবহার করলে তা থেকে ব্যাপক ফলন পাওয়া সম্ভব। যেখানে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে ফসলের জমির উর্বরতা হ্রাস পায় সেখানে এই জৈবসার জমির উর্বরতা বাড়ায়।

আর্বজনা সংগ্রহ করার মাধ্যমে আপনি যতবেশী বাসা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করতে পারবেন ততবেশী আয়ের পরিমানও বৃদ্ধি পাবে। এখানে এককালীন ব্যয় বলতে ক্যারিং ভ্যান তৈরীর খরচ আর ঝুকি সর্বনিন্ম পর্যায়ে। প্রতি মাসে বর্জ্য পরিবহন শ্রমিকের বেতন এবং ক্যারিং ভ্যান মেরামত ব্যাতীত আর তেমন কোন বড় আকারের দৃশ্যমান খরচ নেই। একটু সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে আপনার বেকারত্ব ঘুচিয়ে সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পারবেন।

মাসুদুর রহমান মাসুদ/ উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

Check for details
SHARE