আর্থিক সংকটে পড়লে কী করবেন?

আজকের পৃথিবীতে অর্থই প্রধান নিয়ন্ত্রক। একবিংশ শতাব্দীতে এসে এর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হাস্যকর! অর্থ ছাড়া সুন্দরভাবে বাঁচা কঠিন বটে তবে অসম্ভব নয়। বিষয়টা হলো সুস্থভাবে বাঁচতে আপনার ঠিক কতোটুকু অর্থের প্রয়োজন সেটা নির্ধারণ করা। তবে চাহিদার লাগাম টেনেই তা নির্ধারণ করতে হবে। সঠিক প্রয়োজনটি বুঝে জীবন পরিচালনা করতে পারলে সুন্দরতা আসবেই আপনার জীবনে। কিন্তু জীবন অনিশ্চিত। এখানে তাই সবকিছু আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে না।

জীবন আমাদেরকে প্রায়শই হতভম্ব করে দেয়। নিত্যনতুন চমকে আমরা বিহ্বল হয়ে যাই,কখনো কখনো শোকে মুহ্যমান হয়ে যাই। অথচ আমরা যদি অনিশ্চিত সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেই তাহলে এতোটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না। সমস্যা যেমন হঠাৎ করে আসে তেমনি হঠাৎ করেই চলে যায়। প্রয়োজন ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করা। আর্থিক সংকট সবার জীবনেই আসে। একটু বুদ্ধি খাটালে আর্থিক সংকট কাটানো যাবে সহজেই। চলুন কৌশলগুলো দেখে নেই।

আয়-ব্যয়ের তালিকাঃ প্রথমেই আয় ও ব্যয়ের তালিকা করুন। ব্যয়ের পরিমাণ যতোটা সম্ভব কমিয়ে ফেলুন। অপ্রয়োজনীয় ও অযাচিত ব্যয়গুলো বাদ দিন। তালিকা করা হয়ে গেলে পরিবারের সবার সাথে পরামর্শ করুন। সবাই একভাবে ভাবে না। আপনার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই হয়তো আরও ভালো উপায় বেড়িয়ে আসবে।

সমস্যা খুলে বলুনঃ সমস্যা শেয়ার করলে তার ভার কমে যায়। তাই আর্থিক সংকটের বিষয়টি পরিবারের সবার সাথে খোলামেলাভাবে শেয়ার করুন। আয়ের সম্ভাব্য কোনো উৎস থাকলে সেটি নিয়ে ভাবুন, সবার সাথে আলোচনা করলে তার গুরুত্ব অনুধাবন সহজ হবে এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহায্য করার চেষ্টা করবে।

মন খারাপ করে বসে থাকা নয়ঃ টাকা নেই তো কী হয়েছে? আপনার আরও অনেক কিছু আছে। কাছের মানুষগুলো সাথে আছে,সুস্থ আছে এসব কি কম? কম তো নয়ই, অনেক বেশি বরঞ্চ। তাই মুখ গোমড়া করে না থেকে মেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। নতুবা আপনার শরীরের উপর তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং চিকিৎসা খরচ বাড়িয়ে দেবে। ব্যস্ত থাকুন কোনো কাজে। নতুন উপায় খুঁজুন যা সময়ও কাটাবে আর অর্থও নিয়ে আসবে। এখন ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন মাধ্যম আছে। প্রযুক্তিবান্ধব হয়ে কাজের উপায় খুঁজুন, পেয়ে যাবেন।

ব্যাংকের জমানো অর্থঃ ব্যাংকে যদি জমানো অর্থ থাকে তাহলে তার সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। খুব সমস্যায় না পড়লে ডিপিএস ভাঙবেন না। এ নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করুন।

জমি বিক্রিঃ বিপদে পড়লেই জমি বিক্রি করে দেবেন না। জমি বিক্রি কোনো সমাধান হতে পারে না। যদি একান্তই বিক্রি করতে হয় সেক্ষেত্রে কাছের কারও সাথে ভালো করে আলোচনা করে নিন।

আত্মবিশ্বাস হারাবেন নাঃ
সমস্যায় পড়লে আমরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। ফলস্বরূপ সমস্যাই কেবল দীর্ঘায়ত হয়। আত্মবিশ্বাস থাকলে সমাধান আসবেই। আত্মবিশ্বাস হলো সেই অস্ত্র যা আপনার হাতে থাকলে যুদ্ধ জয় সুনিশ্চিত।

ধার-দেনাঃ ধার-দেনা করা থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন। একবার ধার করা শুরু করলে তা পিছু ছাড়বে না। খুব বিপদে পড়লে কাছের কারও কাছে আর্থিক সাহায্য চাইতে পারেন। তবে খুব দ্রুত তা পরিশোধ করার চেষ্টা করবেন। না হলে তা আপনার সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ সময় আপনার আসল শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও চেনা সহজ হবে।

শান্ত থাকুনঃ বিপদে পড়লে মাথা ঠিক থাকে না আমাদের। যা খুশি ব্যবহার করি অন্যের সাথে তখন। কিন্তু এটা মোটেই উচিত নয়।কারণ, এতে কাছের মানুষগুলো ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। আর একটা সময় একাকীত্ব ছাড়া আর কেউ থাকে না পাশে। তাই সমস্যা যতোই বড় হোক না কেনো তা আপনার সম্পর্কের চেয়ে বড় নয়। শান্ত থাকার চেষ্টা করলে সমাধানও আসবে আবার সম্পর্কও ঠিক থাকবে।

জীবনে কোনো সমস্যাই স্থায়ী নয়। তাই একেই জীবনের শেষ ভেবে নেবেন না। সব রকম অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকাই বুদ্ধিমত্তার কাজ। তাই ধৈর্যহারা না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করুন, সমাধান আছে আপনার পাশেই। একটু সতর্কতার সাথে দেখুন,সমস্যাকে খুব বড় মনে হবে না।

তথ্যসূত্র: বিডি মোটিভেটর ডটকম।

Check for details
SHARE