আমরা অলস কেন?

বিশ্বাস করেন আর নাই করেন জাতি হিসেবে বাঙালী চরম অলস! শুধুমাত্র ঠেলার নাম বাবাজী শব্দে বিশ্বাসী। বেহুদা, অযথা, অকারনে গল্প আর আড্ডাবাজিতে তুলনা নেই! গঠনমুলক গল্প আর আড্ডাবাজি করলেও কিছু একটা আশা করা যেত। কিছু কিছু সময় শুধু অন্যের সমালোচনা করার মধ্য দিয়েই একটা আড্ডা শেষ হয়। থাকে না কোন বিষয়বস্তু। অবাক লাগে তখন, যখন কোথায় আড্ডার শুরু আর কোথায় শেষ সেটার কোন গন্তব্য থাকে না।

লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকার গল্প আর হিসাবের আড্ডাবাজি শেষে পকেটে হাত দিয়ে দেখে চায়ের বিল দেওয়ার টাকা নেই। একজন আরেক জনের মুখের দিকে তাকায়, শেষে শুরু হয় বিল নিয়ে ঠেলাঠেলি। একজন বলে তুমি দাও অন্যজন বলে তুমি। অবশেষে মাঝে মাঝে এমনও দেখা যায় বাকির খাতার উঠাতে হয় দোকানীকে মুখ ভার করে। কারন দোকানীও চিন্তিত থাকে আদৌও তার টাকা ফেরত পাবে কি না? কিংবা পেলেও তা কতযুগ পরে!

সে যাই হোক আড্ডাবাজি যখন চলছে তো চলবেই। কোন থামাথামি নয়। কারন ঢাকা শহরে সিগনাল বাতি থাকতেও নাই। ট্রাফিক হাত ইশারা করলে তবেই থামবে। ফোনে কল করার জন্য যথেষ্ট টাকা না থাকলেও এমবি ঘাটতি থাকা চলবে না। তাতে পানিশুন্যতা ঘটতে পারে হৃদয়ে! আর সূর্যমামা পূব আকাশে থাকতে নয় খাড়া মাথার উপর আসলে তবেই ঘুম ভাঙবে। দিনশুরু হবে মধ্যদুপুরে আর রাত হবে সুবহেসাদিকে! এই যখন রুটিন তখন পুষ্টিহীনতায় ভোগা মেধা নিয়ে জাতি আর কি বা আশা করতে পারে!

মেরামতি বহু দেখেছেন কেরামতি তো দেখেননি! অজুহাতের ঝুলি খুলে বসলেই বুঝবেন কেরামতি কাকে বলে। উহু! উপদেশ কেনরে ভাই। এটা তো সবাই দিতে জানে। হেল্প করতে কজন জানে। বলি যে নিজের হেল্প নিজে করতে পারে সেই তো প্রকৃত বুদ্ধিমান। কেউ একজন আপনার জন্য দেবদূত হয়ে এসে করে দিবে সেটা কেন ভাবেন। তাহলে এবার অজুহাতটা হোক নিজের উপদেশ নিজেই দিয়ে নিবো। আপনি কেন? বিশ্বাস করেন আর নাই করেন আপনার মধ্যে ‍নিজেকে সদুপদেশ দেওয়ার মত শক্তি আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজে থেকে নিজেকে উজ্জিবীত করতে না পারছেন ততক্ষণ কেউ আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে পারছে না।

চেতনা যখন বিসৃত্মির আড়ালে তখন নিজেকে পরিশ্রমী করে তোলা কঠিন কাজ। কারন সামনে দম্ভ অহংকারের বিস্তর দেয়াল। কাজ করলে জাত যায় এমন মানুষ কিন্তু এ সমাজে কম নয়। বাপ-দাদা চৌদ্দগুষ্ঠিতে কেউ কোনদিন কাজ করে খায়নি ভাবটা এমন। বাংলার শেষ নবাব যেন তারাই। পায়ের উপর পা তুলে খাবে তবু পরিশ্রম করবে না। জীবন নিয়ে তাদের কোন পরিকল্পনাই নাই। কিন্তু স্বপ্ন আছে আকাশ ছোঁয়া। চারচাকা ছাড়া অন্যকিছু ভাবে না তারা কিন্তু চারকাকা কিভাবে অর্জন করতে হয় সেটা নিয়ে নাই কোন পরিকল্পনা। নিজের যতটুকু যোগ্যতা তা হলো অন্যের সমালোচনা।

যোগ্যতা অর্জন ছাড়া কিছু আসে না। হোক টাকা কিংবা সুখ। জগতে যা কিছুই অর্জন করতে চান তার জন্য অলসতা ছাড়তে হবে। আপনি যত অলস ঠিক তত সুযোগ আপনি হারিয়ে ফেলছেন। সময় সংক্ষিপ্ত। বহতা নদীর মত সে এগিয়েই চলেছে। অপরাহেৃ এসে আফসোস করার চেয়ে সময় থাকতে অলসতা ঝেড়ে ফেলুন। মাত্র কয়েকটা বছর পরিশ্রম করুন। দেখবেন জীবনটা বদলে গিয়েছে স্বপ্নের মত। গাধার মত নয় বুদ্ধিমানের মত পরিশ্রম করুন সফলতা সময়ের ব্যপার মাত্র।

মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ
উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

Check for details
SHARE