আত্মবিশ্বাসী তাছলিমার ‘মিনি গার্মেন্টস’!

অসহায় স্বামীর পাশে দাঁড়াতে সহযোদ্ধা হলেন আড়াইহাজারের তাছলিমা বেগম। নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন একটি ‘মিনি গার্মেন্টস’। শুরুতে তার সম্বল ছিল একটি সেলাই মেশিন। পুঁজি ছিল দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস। গ্রামে বাস করেও নিজে স্বাবলম্বী হওয়া ছাড়াও আত্মনির্ভরশীল করেছেন ৩৫-৪০ জন নারীকে। স্থানীয় মানুষদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই গৃহবধূ। তবে তার সাফল্য একদিনে আসেনি।

জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের উদয়দী গ্রামের আবুল কাশেমের সাথে তাছলিমার ২০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাছলিমার স্বামী অন্যের মেশিনে তাঁতের কাজ করতেন। সংসারে তিন ছেলেমেয়ে। আবুল কাশেম শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ কারণে নিয়মিত তাঁতের কাজ করাও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের আয় বন্ধ হলেও ভেঙে পড়েননি তাছলিমা।

অসহায় তাছলিমা ব্র্যাক ইইপি প্রকল্পের একজন সিইজি সদস্য নির্বাচিত হলে প্রতি মাসে মাসিক সিইজি সভায় উপস্থিত হয়ে তার মনের ভিতর স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা জাগে। ১৫ দিন ব্র্যাক ইইপি প্রকল্পের কাটিং-সেলাই-এর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একটি সেলাই মেশিন কেনেন। প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করেন তাছলিমা।

গাউছিয়া মার্কেট থেকে পাইকারি মালামাল কিনে নিজে ও দুইজন কারিগরের মাধ্যমে বিভিন্ন পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রতি সপ্তাহে তৈরিকৃত থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, পেটিকোট ও লেডিস প্যান্ট নিজে গাউছিয়া মার্কেটে গিয়ে বিক্রি করেন। চাহিদা বাড়ছে দেখে তিনি আরো ১০টি সেলাই মেশিন কেনেন। তার সাথে যোগ দেন উদয়দী, বারোআনী গ্রামের কয়েকজন নারী।

তাছলিমা বলেন,‘বর্তমানে আমার মোট ২০টি মেশিনে ২০ জন নারী কারিগর কাপড় তৈরি করেন। আমার স্বামী ফ্যাক্টরিতে মালামাল গোছানো ও দেখা শোনার কাজ করেন। আমি প্রতি সপ্তাহে গাউছিয়া, ভৈরব, টঙ্গি ও টাংগাইল এই চার হাটে আমার তৈরি মালামাল বিক্রি করি। প্রতি সপ্তাহে কারিগর বিল দেই ১৫-১৮ হাজার টাকা। মাসে তার নিজের ৩০-৩৫ হাজার টাকা থাকে বলে তিনি জানান।

তাছলিমা বলেন, আমি আমার আয় দিয়ে একটি নতুন ঘর তুলেছি এবং ঘরের আসবাবপত্র কিনেছি। আমার স্বপ্ন—সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে ভালো মানুষ তৈরি করব। তথ্যসূত্র: ডেইলি ইত্তেফাক ডটকম।

Check for details
SHARE