অসম্ভব যে কোন কিছুকে সম্ভবে পরিনত করার কৌশল

Believe yourself, Colorful words on blackboard.

যে কোন কিছু করার জন্য আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা হওয়া দরকার ইস্পাত কঠিন। আর তা যদি হয় স্বপ্ন পূরনের মত কোন লক্ষ তাহলে তো চুল পরিমান কোন ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। যে সফলতার পেছনে তাড়া করে ফেরে, সফলতা তার হাতের মুঠোয় এসে বলে আমি তো তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। এ অর্জন তোমারই প্রাপ্য।

যে কোন কিছুতেই আমরা সফল হতে চাই। কিন্তু আমরা সেই কাজটি শুরু করার আগেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। ধারনা করে নেই এত কঠিন কাজ আমার দ্বারা করা অসম্ভব। সেটি ফেলে রেখে অন্য কোন কাজের চিন্তা করি। আবার সেই কাজটিও কঠিন মনে করে অসম্ভব বলে রেখে দেই। বার বার এমন অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা করে কিছুই শুরু না করতে পেরে হতাশার কাছে নিজেকে সপে দেই। আর তখনই বলে উঠি আমার দ্বারা হয়ত কিছুই সম্ভব নয়।

বাংলা অসম্ভব কথাটির ইংরেজী ইমপসিবল। এই ইমপসিবল শব্দটি বলে আমি পসিবল। একটু বুঝিয়ে বলি ইমপসিবল শব্দের প্রথম দুটি অক্ষর আলাদা করে উচ্চারণ করুন দেখুন তো আই এম পসিবল হয় কিনা। যদি তাই হয় তাহলে আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে আপনার দ্বারা যে কোন কাজ করা সম্ভব। কারন ইমপসিবল নিজেই বলছে আই এম পসিবল। আমি সম্ভব। তাহলে আপনি কেন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারছেন না।

হ্যা অসম্ভকে সম্ভব করার জন্য আপনার আত্মবিশ্বাস শুন্য। আর তাই আপনি পারছেন না। লোহা পানিতে ডুবে যায় আবার সেই লোহাকে পানিতে ভাসিয়ে লক্ষ লক্ষ টন মালামাল পরিবহন করা হয়। আকাশের দিকে এক টুকরা কাগজ ছুড়ে দিলেও তা মাটিতে পড়ে কিন্তু হাজার হাজার টন পন্য নিয়েও আকাশে উড়ছে মানুষ। ছোট ছোট বীজ থেকে যদি সবুজ শ্যামল শস্য ভরা ফসলের মাঠ পাওয়া যায় তাহলে আপনি কিভাবে চিন্তা করেন আপনি যা করতে চান তা আপনার দ্বারা অসম্ভব।

ছোট বেলায় আমার এক ভাই তিন বছর বয়সে বড় হওয়ার সুযোগ নিয়ে বলেছিল তোমার দ্বারা অন্তত আর যাই সম্ভব হোক রুপসার মত খরস্রোতা নদী পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। তখন বয়সটা আর কত নয় কি দশ। কিন্তু সম্ভব নয় শুনতে শুনতেই হটাৎ একদিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই ছুট দিলাম। তিন কি চারশ হাত যেতে না যেতেই ঢেউয়ের তোরে পনি খেয়ে ফেরত আসতে বাধ্য হই। কিন্তু আমি তো হাল ছাড়ার পাত্র না। আবার ছুট দেই। সেদিন কপাল আরও বেশী খারাপ হতে পারত যদি না মাছ ধরার জেলে চাচা কুলে নিয়ে না আসত। ঠিক তার পর দিনই সাতরে পারি দেই খরস্রোতা রুপসা। আর বিজয়ের উল্লাসে হাপিয়ে কাঁদা মেখে মাটিতেই শুয়ে ছিলাম আধ ঘন্টার কম নয়।

তার পর থেকে বহুবার বহু নদী পাড়ি দিয়েছি এপার ওপার। এখনও সুযোগ মিললে মিস করি না নদী পাড়ি দেওয়ার। নারকেল গাছ বেয়ে উঠতে পারতাম না ছোট বেলায়। কিন্তু নারকেল গাছের ‍ঝুলে পড়া পাতা বেয়েই গাছে ওঠা শুরু হয়। আমার দ্বারা পাশ সম্ভব নয় বলে বাবা প্রায়ই বকা দিত। আর তাই বোধ হয় ফেল করার মত সুযোগ মেলেনি। জিততে হলে চাই আত্মবিশ্বাস আর ছোট ছোট সুযোগ গুলোকে কাজে লাগানোর মত সক্ষমতা।

আমার এলাকায় একটা লোককে দেখতাম সে যখনই রাস্তা দিয়ে হেটে যেত তখনই নষ্ট রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি ইট হাতে তুলে বাড়িতে নিয়ে যেত। বছর চারেক পড়ে তার বাড়িতে আমি একটা এক রুমের ইটের দালান দেখেছি। তার যে সামর্থ্য তখন ছিল তা দিয়ে একটা দালান করতে পারাটা অসম্ভব ছিল। লক্ষের সাথে লেগে থেকে যে কোন কাজ করতে পারলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তার সাফল্য দেখে শিখেছি তা।

সাফল্যের জন্য অন্যের কথায় কান দিলে নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনবেন। একবার যদি অন্যের কথা শুনে নেতিবাচক হয়ে যান তাহলে হতাশা আপনাকে খুব শীঘ্রই গ্রাস করবে। চালেঞ্জ গ্রহন করতে শিখুন যে কোন কাজের ক্ষেত্রে। আপনার দ্বারা সম্ভব। আপনি পারেন যে কোন কিছু করতে এটা আপনি নিজেকে বিশ্বাস করান। পুরো পৃথিবী একদিকে আর আপনি একদিকে। আপনার নিজ জায়গাতে অটল। যারা সফল হয়েছে বড় কিছু করেছে তারা এভাবেই করেছে। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। সফল না পাওয়া পর্যন্ত জন্য লেগে থাকুন। আর সফলতার দেখা পাওয়া মাত্রই উৎযাপন করুন।

মাসুদুর রহমান (মাসুদ) / উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

Check for details
SHARE