অফিস মানে কি শুধুই কাজ?

দশটা-পাঁচটা অফিস। অফিস বলে কি পুরোটা সময় শুধু নিজের আসনে বসে থাকা? কর্মক্ষেত্র তো নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বলেই মনে করেন অনেকে। কারণ, দিনের পুরোটা সময় সেখানেই কেটে যায়। তাই কর্মক্ষেত্রে সারাক্ষণ তো মাথা গুঁজে বসে কাজ করলেই চলে না। সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, শরীর সুস্থ রাখতে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করা, একটানা বসে না থেকে একটু হাঁটাচলা করা—এসবেরও তো দরকার আছে। খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘শুধু অফিস না, একটানা কোনো কাজই ভালো নয়। এতে মনের ওপর দীর্ঘ একটা চাপ পড়ে; যা মানুষের কাজের ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটা ছোট্ট বিরতি নেয়া উচিত। এতে কাজের গতি ফিরে আসে।’

অনেক অফিসে বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে। বিশেষ করে সৃজনশীল কাজ হয়, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এতে আনন্দের সঙ্গে কাজ করা যায়। একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার ক্রিয়েটিভ রাইটার ফাহমিদুল হক বলেন, ‘যেহেতু আমি সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাই অফিস থেকে নানা ধরনের সুবিধা পাই। গান শুনতে শুনতে কাজ করা, বিভিন্ন সময়ে ডিভিডি বা সিনেমা দেখা। বাসার চেয়ে তাই অফিসে আসতেই আনন্দ পাই। তবে সব ধরনের অফিসে হয়তো এমন সুবিধা দেওয়া সম্ভব না। বিশেষ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে।

তবে সেখানেও কাজের ক্ষেত্রে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিতে পারলে বরং সেটা প্রতিষ্ঠানেরই লাভ।’ কাজের ফাঁকে বিরতির সময়টা কতক্ষণ বা কী কাজ করা যেতে পারে, সেটা নিয়ে জানতে চাইলে করপোরেট কোচ যিশু তরফদার বলেন, ‘অফিসে কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি এক ঘণ্টায় সাত থেকে দশ মিনিটের একটা ছোট্ট বিরতি নেওয়া দরকার। এটা কাজের ক্ষেত্রে যেমন ভালো, তেমন নিজের জন্যও। সাধারণত কর্মক্ষেত্রে আমাদের একই ধরনের কাজ করতে হয় দিনের পর দিন। যার ফলে একঘেয়েমি চলে আসাটা স্বাভাবিক। এতে কাজের গতিও কমে আসে। চেয়ার ছেড়ে একটু হাঁটা-চলা করা, ঠিকমতো খাওয়া, সহকর্মীর সঙ্গে কুশল বিনিময়—এগুলোর দরকার আছে।’

যিশু তরফদার ও মো. ফারুক হোসেন জানালেন অফিসের ছোট্ট বিরতিতে করা যায়, এমন কয়েকটি বিষয়—
আপনার বিরতির সময়ে বিরতিতে থাকা সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে সময় কাটাতে পারেন। এতে একটু গল্প করাও হবে আবার সহকর্মীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কও ভালো থাকবে। তবে অবশ্যই অন্যের কাজের ক্ষতি করে আড্ডা দেওয়া ঠিক না। সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় অন্য সহকর্মীর সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। অনেক সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে চোখের সমস্যা হতে পারে। তাই কম্পিউটারের সামনে থাকলে বিরতি নিয়ে একটু দূরের দিকে চেয়ে থাকুন। চোখকে আরাম দিন।

সৃজনশীল কাজের অফিস হলে সেখানে বিনোদনের জন্য ইয়ারফোনে পছন্দের গান শোনার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। পরিমিত পরিমাণ দুই থেকে তিনবার চা-কফির বিরতি নিতে পারেন। চেয়ারে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ড, পায়ের গোড়ালি, হাতের কবজিতে টান ধরে যেতে পারে। তাই অফিসেই বিরতি নিয়ে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। একটানা কাজের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার মধ্যে মেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়তে পারে। অনেকের আবার স্মৃতিশক্তি কমে আসে। একটানা কাজের ফলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এতে প্রতিষ্ঠানেরই বেশি ক্ষতি। অনেক প্রতিষ্ঠান তো বেশি কাজের পর বাধ্যতামূলক কর্মীকে ছুটি দিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ডটকম।

Check for details
SHARE