অতি আত্মবিশ্বাস সফলতার পথে বাধা

পেশাগত জীবনে সফল হতে প্রথমেই লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আর সে লক্ষ্য হতে হবে নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা, চিন্তা, মননশীলতা সর্বোপরি সঙ্গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আপনি এবং আপনার লক্ষ্যের মাঝে ব্যবধান যত বেশি হবে, সফলতা না আসার অনুভূতি তত বাড়তে থাকবে। বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নিজের সফলতা সম্পর্কে কেবল স্পষ্ট ধারণাই দেয় না, লক্ষ্যে পৌঁছার ক্ষেত্রটাকেও উন্মুক্ত করে।

অনেকেই আছেন যারা অল্পতেই নিজেকে অনেক সফল ভাবতে শুরু করেন। অথচ তিনি হয়তো আরো বেশি সফল হতে পারতেন। অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কারণে বাকি সফলতাটুকু অপূর্ণই থেকে যায়। আবার অনেকে আছেন, যাঁরা যতটা সফল হয়েছেন, নিজেকে তার চেয়ে অনেক কম সফল ভাবেন। এ ধরণের লোকজন আরো সফলতার পেছনে ছুঁটতে গিয়ে পেরেশানিতে ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই মনোভাবের কোনোটিই ইতিবাচক নয়। বরং নিজের মধ্যে এই দুইয়ের একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এ জন্য তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা;

১. ছোট হোক, বড় হোক প্রতিটা সফলতাই উদযাপন করতে হবে। পুরস্কৃত করতে হবে নিজেকে। আর এর মাধ্যমে নিজেকে অনুপ্রাণিত করা যাবে আরো বেশি। ক্ষুদ্র অর্জনকে মূল্যায়ন করলে বড় প্রাপ্তির পথ খুলে যায়।

২. চারপাশে কিছু মানুষ আছে, যারা সবসময় আপনার ভালো চায়। তারা আপনার অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন। এই মানুষগুলোকে নিজের সফলতার ভাগীদার করুন।

৩. কল্পনার ওপর ভিত্তি করে লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তা কখনোই ধরা দেবে না। তাই কাছে কিংবা দূরে হোক, গন্তব্য নির্ধারণ করতে হবে বাস্তবতার নিরিখে।

আমরা অনেকেই তথাকথিত আত্মমর্যাদা বা আত্ম:অহংকারের মধ্যে থাকি, সেখান থেকে বের হতে চাই না। ফলে কর্মমূখি তৎপরতার পরিবর্তে আত্মবিশ্লেষণে ব্যপ্ত থাকি। আমাদের আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে, তবে অতিমাত্রায় নয়, যাতে করে লক্ষ্য অপূরণে হতাশায় ডুবতে না হয়। বাস্তবতার নিড়িখে লক্ষ্য স্থির করতে না পারার কারণে অনেক সময়ই জীবন হয়ে উঠে দুর্বিসহ। আমাদের প্রত্যেকেরই একটি লক্ষ্য স্থির করে সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার ব্রত নিয়ে পথ চলা উচিৎ। সঠিক পথে চলতে পারলেই জীবন হবে আরো সুন্দর আর অনাবিল আনন্দময়।

জেসমিন আক্তার, এসিএস, লেখিকা সাংবাদিক ও কলামিষ্ট। (তথ্যসুত্র: ইন্টারনেট)

Check for details
SHARE